ষাটনল পর্যটন কেন্দ্র (Shatnol Tourism Centre), বাংলাদেশের চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর উপজেলার ১নং ষাটনল ইউনিয়নে পদ্মা ও মেঘনার মিলনস্থলের কাছে মেঘনা নদীর তীরে এই পর্যটন কেন্দ্রটি অবস্থিত। ঢাকার কাছাকাছি এই পর্যটন কেন্দ্রে অনেকেই ঘুরতে আসেন। বিস্তৃত নদীর বুক, দু’পাশে সবুজ গাছপালা, আর বিকেলের আলোয় মেঘনার ঢেউয়ের ঝিকিমিকি, এটুকুই যদি চান তবে, ষাটনল আপনাকে হতাশ করবে না। এখানে আছে শিমুল চত্বর।
২০০০ সালের ২৩ এপ্রিল এটিকে সরকারিভাবে পর্যটন কেন্দ্র ঘোষণা করা হয়। তবে দুই দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও অবকাঠামোগত উন্নয়ন খুব একটা হয়নি। কিন্তু প্রকৃতির যে সৌন্দর্য আছে, সেটাই আপনাকে মুহিত করবে।
কী কী দেখবেন
- এখানে আসারপর প্রথমেই যেটা আপনার ভালো লাগবে তা হচ্ছে বিস্তর মেঘনা নদী ও তার পাড়। একটা নদী এত চওড়া হতে পারে না এসে বোঝার উপায় নেই। পাড়ে দাঁড়িয়ে দূরের চর দেখতে দেখতে সময় যে কখন চলে যায় টেরই পাবেন না।
- ষাটনলের কাছেই পদ্মা ও মেঘনা নদী একে অপরের সাথে মিলেছে। দুটো বড় নদীর একসাথে বহমান হওয়ার দৃশ্যটা বেশ অনন্য লাগে।
- এখানে নদীর পাড় থেকে সূর্যাস্ত দেখার যে অভিজ্ঞতা পাবেন সেটা দারুণ লাগবে। পশ্চিম দিগন্তে লাল হয়ে ডুবে যাওয়া সূর্য আর মেঘনার জলে তার প্রতিফলন, ক্যামেরা থাকুক বা না থাকুক, এই দৃশ্যটা মাথায় গেঁথে যাবে।
- ষাটনল হইহুল্লোড়ের জায়গা নয়। এটা বরং একটু চুপচাপ থাকার, শ্বাস নেওয়ার জায়গা। ট্রলার বা নৌকায় চড়ে নদীতে একটু ঘুরে আসতে পারবেন। স্থানীয় মাঝির সাথে দরাদরি করে নৌকা ভাড়া করা যায়। নদীতে মাছ ধরতে পারেন।
- পর্যটন কেন্দ্রের বাইরেও এলাকাটা ঘুরলে মেঘনার চরের জীবন দেখতে পাবেন, মাছধরার নৌকা, জেলে পাড়া, নদীনির্ভর মানুষের সরল জীবনযাপন।
- শিমুল চত্বর
ভ্রমণের সেরা সময়
অক্টোবর থেকে মার্চ এই সময়টা ষাটনলে যাওয়ার জন্য সবচেয়ে ভালো। শীতে নদীর পাড় পরিষ্কার থাকে, আকাশ পরিষ্কার থাকে, সূর্যাস্তও দারুণ লাগে। বর্ষায় মেঘনা ফুলে ওঠে বটে, দৃশ্যটা তখন অন্যরকম সুন্দর হয়, কিন্তু বন্যার ঝুঁকি থাকে, নদীর পাড়ও অনেকটা ডুবে যায়, তাই বর্ষায় না যাওয়াই ভালো।
কিভাবে যাবেন
ষাটনলে যাওয়ার মূলত দুটো পথ রয়েছে, নৌপথে আর সড়কপথে। তবে সবেচ্যে ভালো হচ্ছে নৌপথে লঞ্চে করে যাওয়া।
ঢাকা থেকে নৌপথে: ঢাকার সদরঘাট থেকে চাঁদপুরের উদ্দেশ্যে প্রতিদিন নিয়মিত লঞ্চ চলে। লঞ্চগুলো সারাদিনই পাওয়া যায়। চাঁদপুর নেমে সেখান থেকে মতলব উত্তরের উদ্দেশ্যে স্থানীয় পরিবহনে করে যেতে পারেন। প্রথমে চাঁদপুর লঞ্চঘাট নেমে CNG করে বাবুরহাট হয়ে মতলব উত্তর ব্রিজে চলে আসুন। মতলব ব্রিজ থেকে মোটরসাইকেল, CNG, অটোরিক্সায় করে চলে আসতে পারেন। তবে এভাবে আসা একটু জটিল ও সময় সাপেক্ষ।
সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে, নারায়ণগঞ্জ থেকে সরাসরি ষাটনলের লঞ্চ পাবেন। ঘাটে নেমে হাটা পথেই চলে আসতে পারবেন। খরচ ও সময় দুটোই কম লাগবে।
ঢাকা থেকে সড়কপথে: ঢাকা থেকে বাসে চাঁদপুর আসা যায়। গুলিস্তান বা সায়েদাবাদ থেকে চাঁদপুরের বাস পাওয়া যায়। চাঁদপুর সদর থেকে মতলব উত্তরের দিকে সিএনজি বা অটোরিকশায় যেতে পারেন। তবে সহজ হচ্ছে, গুলিস্থান থেকে BRTC কিংবা মাদানি পরিবহনে করে ভবেরচর নেমে সেখান থেকে CNG দিয়ে কালিপুর ট্রলার ঘাঁট হয়ে চলে আসতে পারেন। অথবা, বাসে দাউদকান্দি নেমে CNG করে ছিরারচর এসে সেখান থেকে মোটরসাইকেল, CNG কিংবা অটোতে করে চলে আসতে পারেন।
কোথায় খাবেন
ষাটনল পর্যটন কেন্দ্রে নিজস্ব কোনো বড় রেস্তোরাঁ নেই। তবে স্থানীয় ছোট চায়ের দোকান বা খাবারের স্টল পাওয়া যায়। তাজা মাছের ভর্তা, ডাল, ভাত এই সরল খাবারই এখানকার রান্নাঘর থেকে পাবেন। ভালো খেতে হলে চাঁদপুর সদরেই খাওয়া ভালো। চাঁদপুরের বিখ্যাত তাজা ইলিশ খেতে চাইলে বড় স্টেশনের (তিন নদীর মোহনা) পাশের হোটেলগুলো আর লঞ্চঘাটের আশেপাশের রেস্তোরাঁগুলো সেরা জায়গা। তাজা ইলিশ এখানে যেকোনো ভাবে রান্না করিয়ে খেতে পারবেন। অথবা কাছেই মোহনপুর পর্যটন লিমিটেডে গিয়েও খেতে পারেন।
কোথায় থাকবেন
পর্যটন কেন্দ্রেটি মূলত ডে ট্রিপ বা একদিনের ভ্রমণের জন্য, তাই এখানে রাতে থাকার প্রয়োজন সাধারণত হয় না। আর তাছাড়া এখানে রাত্রিযাপনের ব্যবস্থা নেই বললেই চলে। তাই থাকার প্রয়োজন হলে চাঁদপুর সদরে গিয়ে থাকতে পারেন।
আশেপাশে আর কী দেখবেন
ষাটনল গেলে একই সাথে আশেপাশের কয়েকটা জায়গা ঘুরে আসতে পারেন।
- মোহনপুর পর্যটন কেন্দ্র
- তিন নদীর মোহনা (বড় স্টেশন)
- লুধুয়া জমিদার বাড়ি
- হামিদ মিয়া জমিদার বাড়ি
- মেঘনা নদী
- মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্প
ফেসবুক: GoArif
