কাছে ভ্রমণের জন্য ব্যাকপ্যাক এ কি কি নিবেন অথবা হাল্কা ভ্রমণের জন্য অর্থাৎ বিদেশ ভ্রমণ ছাড়া অভ্যন্তরীণ ভ্রমণের জন্য ব্যাকপ্যাক কিভাবে গোছাবেন এই নিয়ে আজকের ভ্রমণ টিপস। চলুন শুরু করা যাক… কাছে ভ্রমণের জন্য ব্যাকপ্যাক এ কি কি নিবেন।
বিদেশ ভ্রমণে গেলে আমাদের সাথে করে অনেক কিছু নিয়ে যেতে হয়। যেমনঃ ট্রাভেল ব্যাগ থেকে শুরু করে ট্রলি, এক্সট্রা জামাকাপড়, শীতের পোশাক, গরমের পোশাক সহ অনেক কিছু নিয়ে যেতে হয়। কিন্তু আপনি যদি দেশের কোথাও বা অভ্যন্তরীণ কোথাও ভ্রমণে যেতে চান তাহলে কিন্তু আপনার এতো কিছু নেয়ার পেয়োজন পড়ে না। ধরেন আপনি যদি ঢাকা থেকে শ্রীমঙ্গল ভ্রমণে যান তাহলে শীতের সময় শীতের কাপড় আর গরমের সময় হাল্কা গরমের কাপড় নিলেই হয়। আবার এক বা দুই দিন এর জন্য প্রয়োজনীয় অল্প কিছু জিনিসপত্র নিলেই হয়।
ট্রলি ভর্তি করে অনেক জামাকাপড় নিতে হয় না। তো চলুন, কাছে ভ্রমণের জন্য ব্যাকপ্যাক এ কি কি নিবেন এই নিয়ে ভ্রমণ টিপস গুলো দেখা যাক।
আরও: সমুদ্র ভ্রমণ নিয়ে ১৫ টি টিপস
সঠিক ট্রাভেল ব্যাগ নির্বাচন করুন
কাছে ভ্রমণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে যে জিনিসটি গুরুত্বপূর্ণ তা হল, সঠিক ট্রাভেল ব্যাগ নির্বাচন করা। এটা আপনার ভ্রমণের জন্য আসলেই খুব গুরুত্বপূর্ণ! শ্রীমঙ্গল ভ্রমণের সময় আমি বেশ বড়সড় একটি ব্যাগে অনেক জামাকাপড় নিয়ে গিয়েছিলাম। শ্রীমঙ্গলে প্রচুর শীত হবে এই ভেবে এতোগুলো জামাকাপড় নিয়ে যাওয়া। কিন্তু আমাদের সাথের একজনের এক্সিডেন্ট হওয়ায় সেদিনই ঢাকা বেক করেছি।
যে কারনে ঘটনাটি বলা তা হল, এতো ভারি একটি ব্যাগ আমাকে সারাদিন কাধে নিয়ে ঘুরে বেড়াতে হয়েছে। এছাড়া যারা শ্রীমঙ্গল ভ্রমণে গিয়েছেন তারা ভালো করেই জানেন যে, শ্রীমঙ্গলের চা বাগান গুলো বেশ উচু নিচু আবার মাধবপুর লেক এর পাশে যে চা বাগানটি রয়েছে এটি পাহাড়ের উপরে! এবার আমার অবস্থা বুজেন! কাধ ব্যথা হয়ে গিয়েছিল। তবে ভ্রমণের আনন্দ আমার একটুও কম হয়নি। এরপর প্রতিজ্ঞা করেছি সঠিক প্ল্যান না করে ব্যাকপ্যাক এতো বড় করব না।
তাই আপনাকেও বলছি, ভ্রমণের লোকেশন এবং কতদিন থাকবেন এটা হিসেব করে ছোট বা বড় আকৃতির ট্রাভেল ব্যাগ নিবেন। অযথা বড় ব্যাগ নিয়ে বোঝা টানবেন না। বাজারে আপনি ৩৫০ টাকা থেকে ১০০০ টাকার ভিতরে ছোট সাইজের ব্যাগ পেয়ে যাবেন। ছোট ভ্রমণের জন্য এই টাইপের ব্যাগগুলোই যতেষ্ট।
যতটা সম্ভব কম জামাকাপড় নিন
একদিনে যদি ভ্রমণে করে চলে আসেন তাহলে, ব্যাগ নেয়ার প্রয়োজনও পরেনা। আর নিতে চাইলে একটি তোয়ালে বা ১টি প্যান্ট, ১টি টিশার্ট নিতে পারেন। কারন বিপদের কথাও বলা যায় না।
আপনি হয়তো রাস্তার পাশদিয়ে হেটে যাচ্ছেন, গাড়ি আপনার পাশদিয়ে যাবার সময় রাস্তার কাদাপানি ফেস করে দিয়ে আপনার জামায় লেগে ময়লা হয়ে গেলো। তখন অতিরিক্ত জামাকাপড় গুলো কাজে লাগবে।
অপ্রয়োজনীয় এক্সেসরিজ নেয়ার দরকার নেই
ভ্রমণে গেলে খুশীর ঠ্যালায় আপনার যা যা এক্সেসরিজ (অতিরিক্ত মোবাইল, ট্যাব, ল্যাপটপ, সেলফি স্টিক, অতিরিক্ত ক্যামেরা, চার্জার, অতিরিক্ত পাওয়ার বেংক) ইত্যাদি নিবেন না।
কারন, আপনি হয়তো খুশীর ঠ্যালায় সব এক্সেসরিজ সাথে নিবেন অন্য কেউ আবার তার খুশীর জন্য আপনার কাছ থেকে সব কেড়ে নিবে! এছাড়া এগুলো বহন করা থেকে শুরু করে চার্জ দেয়া সহ নানা জামেলায় পড়তে পারেন। তাই, সাবধান। প্রয়োজন ছাড়া ভ্রমণে অপ্রয়োজনীয় এক্সেসরিজ নেয়ার দরকার নেই। যেটা একেবারেই দরকার, সে গুলো নিবেন।
পানির বোতল নিবেন
ভ্রমণে অবশ্যই সাথে করে পানির বোতল নিবেন। শুধু বোতল নয় সাথে পানিও নিয়েন কিন্তু! নাহলে, বলবেন আরিফ ভাই তো বলেছে বোতল নিতে, বোতল নিলেই হবে। এটা করা যাবে না। ভ্রমণে পানির প্রয়োজনীয়তা অনেক বেশি। ভ্রমণে ক্লান্তি দূরকরার জন্য একচুমুক পানিই যতেষ্ট। আপনার সাথে যে ব্যাগটি নিবেন সেটার দুই পাশেই দেখবেন ছোট পানির বোতল রাখার মত জায়গা রয়েছে।
সেখানে একটি ছোট পানির বোতল নিয়ে নিতে পারেন। আরও ভালো হয় যদি সাথে ৪/৫ প্যাকেট ওরস্যালাইন নিয়ে নেন। ১ প্যাকেট ওরস্যালাইন এর দাম ৫টাকা। আপনি যে কোন ডাক্তারের দোকানে অথবা মুদি দোকানেও পেতে পারেন এই ওরস্যালাইন। ১/২ লিটার (আধালিটার) পানির সাথে ১টি ওরস্যালাইন ভালো করে মিশিয়ে খেলে নিলে ভ্রমণে আপনার ক্লান্তির অনেকটা দূর হবে।
আরও: ভ্রমণের জন্য পানির বোতলের আদর্শ আকার: কত লিটার উপযুক্ত
অতিরিক্ত জুতা নেয়ার প্রয়োজন নেই
দূরে বা বিদেশ ভ্রমণে গেলে আমরা সাথে করে অতিরিক্ত জুতা নিয়ে যাই। দুরের জন্য এটা প্রয়োজন আছে বা অনেকদিন জন্য ভ্রমণে গেলে এটার প্রয়োজন পরে। কিন্তু কাছে কোথাও কম সময়ের জন্য ভ্রমণে গেলে অতিরিক্ত জুতা নেয়ার প্রয়োজন নেই।
জুতা কিন্তু অনেক ভারি হয়। আর এটা নিতে হয় কিন্তু ব্যাগে করেই। তাই কাছে ভ্রমণের জন্য ব্যাকপ্যাক এ অতিরিক্ত জুতা নিয়ে ব্যাগ ভারি করার কোন মানে হয় না।
বৃষ্টির সিজনে ছাতা বা রেইনকোট নিতে ভুলবেন না
বৃষ্টির সিজনে ছাতা বা রেইনকোট নিতে ভুলবেন না কিন্তু! ছাতা বা রেইনকোট বৃষ্টির দিনে খুবই জরুরী। আবার এগুলো আপনার ব্যাগকে অনেক ভারি করে দিবে। মনে করুন আপনি ভ্রমণে গেলেন সাথে করে ছাতা বা রেইনকোট নিয়ে। কিন্তু আপনার পুরো ভ্রমণে কোন বৃষ্টি হল না এবং এই ছাতা বা রেইনকোট এর প্রয়োজন ও পরল না! তাহলে আপনি শুধু শুধুই এগুলো বহন করলেন! তাই না?
আপনার ভ্রমণে যদি বাজেট বেশি থাকে তাহলে ব্যাগ ভারি না করতে চাইলে, ভ্রমণ লোকেশনে গিয়ে কিনে নিতে পারেন। ছাতা বা রেইনকোট এর আনুমানিক দামঃ ছাতা ১৫০ টাকা থেকে ৪০০ টাকা আর, রেইনকোট এর দাম একটু বেশি ৪০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
আর যদি আপনার বাজেট কম থাকে এবং আপনি রিক্সস নিতে না চান বা, ওইখানে গিয়ে পাবেন কিনা সন্ধেহ হয় তাহলে আগে থেকেই একটি ছাতা বা রেইনকোট কিনে নিতে পারেন। তবে কিনার সময় খেয়াল রাখবেন, আজকাল বাজারে চায়নার ছোট আকারের ছাতা পাওয়া যায়। যেটা ভাজ করলে একেবারে ছোট হয়ে যায়, এই টাইপের ছাতা নিতে পারেন। এগুলো বহন করতেও সহজ।
ফেসবুক: GoArif
