বড় স্টেশন (Boro Station), চাঁদপুর জেলার তিন নদীর মোহনা (পদ্মা, মেঘনা ও ডাকাতিয়া) নদীর মিলনস্থল, অনেকের কাছে মোলহেড নামেও পরিচিত। তবে, সবার কাছে চাঁদপুর, ইলিশের বাড়ি নামে সুপরিচিত।
অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিন অসংখ্য পর্যটক আসেন এখানে। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী চাঁদপুর জেলার পদ্মা, মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদীর মোহনায় টর্চার শেল তৈরি করে মানুষদের কে টর্চার করে জীবিত হাত পা বেধে নদীর স্রোতে ফেলে দিত। ২০১১ সালে শহীদের স্মরণে এই রক্তধারা স্মৃতিসৌধটি তৈরি হয়।
আরও: মিনি কক্সবাজার
| অবস্থান | চাঁদপুর, চট্রগ্রাম |
| ঢাকা থেকে দূরত্ব | ৬৮ কিলোমিটার (প্রায়) |
| ড্রোন উড়ানো যাবে | হ্যাঁ |
কি কি দেখবেন
একদিনের ভ্রমণ বা ডে ট্যুর এর জন্য আদর্শ এই বড় স্টেশন। এখানে আপনি তিন নদীর মোহনায় সূর্যাস্থের দৃশ্য, ছোট ছোট নৌকার ভেসে চলা, নদীর কূলে পানি আঁচড়ে পড়ার শব্দ শুনতে পারবেন। এছাড়া ট্রলার, স্পীডবোট কিংবা নৌকা ভাড়া করে তিন নদীর মোহনায় ঘুরে বেড়াতে পারবেন। বড় ষ্টেশন এলাকার কাছে পায়ে হাটা দূরত্বে আছে ইলিশের পাইকারী বাজার ‘মাছ ঘাট’। এই মাছ ঘাটে জেলেদের ধরে আনা ইলিশ প্রক্রিয়াজাত করা হয়। এছাড়া এখানে দেখার জন্য রয়েছে চাঁদপুর অঙ্গীকার, অঙ্গীকারটি হাসান আলী মডেল সরকারি প্রাইমারি স্কুলের সামনে চাঁদপুর শহরের প্রাণকেন্দ্রে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সড়কে লেকের উপরে অবস্থিত। ১৯৮৯ সালে স্থপতি প্রফেসর সৈয়দ আবদুল্লাহ খালিদ শহীদের স্মরণে এ মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ভাস্কর্য অঙ্গীকার নির্মিত করেন।
এখানে চারপাশ গ্রিল দিয়ে বেষ্টিত ইলিশ ভাস্কর্য রয়েছে। পদ্মা, মেঘনা ও ডাকাতিয়া এই তিন নদীর মিলনস্থল কে চাঁদপুর মোহনা বলা হয়ে থাকে। এখানে আপনি একজায়গায় বসে তিন নদীর দৃশ্য উপভোগ করতে পারবেন। চাঁদপুর মোহনায় দর্শনার্থীদের জন্য ছোট একটি পর্যটন কেন্দ্র রয়েছে। নাগরদোলা, চরকি এবং বসার জন্য রয়েছে ছোট ছোট আসন। আপনি আরামছে বসে চমৎকার দৃশ্য উপভোগ করতে পারবেন।
এছাড়া চাঁদপুর মোহনার ঠিক মাঝেই একটি বিপদজনক স্থান রয়েছে। নদি যখন অশান্ত হয়ে উঠে তখন এখানে একটি ঘূর্ণয়নের সৃষ্টি হয়। ফলে চাঁদপুর লঞ্চ টার্মিনালে যাওয়ার জন্য কোন লঞ্চই এই পথ দিয়ে যেতে পারে না। লঞ্চ গুলো কে অনে দূর দিয়ে ঘুরে যেতে হয়। তবে মোহনাতে আপনি সবসময় বাতাস পাবেন। প্রচণ্ড বাতাস।
কিভাবে যাবেন
বাস: ঢাকা সায়েদাবাদ বাস স্টেশন থেকে পদ্মা এক্সক্লিসিভ পরিবহণে করে চাঁদপুর যেতে পারেন। প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চাঁদপুরের উদ্দেশ্যে ৩০ মিনিট পর পর বাস ছেড়ে যায়। ভাড়া নিবে ২৭০-৫০০ টাকা। চাঁদপুর বাস স্টেশন নেমে অটোরিকশা করে বড় স্টেশন, তিন নদীর মোহনা চলে আসতে পারবেন। অটোরিকশা ভাড়া নিবে ১০/৩০ টাকা।
লঞ্চ: ঢাকা সদরঘাট হতে চাঁদপুরের উদ্দেশ্যে লঞ্চ ছেড়ে যায় সকাল ৭ঃ২০ মিনিট থেকে রাত ১২ টা পর্যন্ত। ডেকে জনপ্রতি ভাড়া নিতে পারে ১০০-১৩০ টাকা। চেয়ারে ১৫০-২০০ টাকা। নন-এসি চেয়ার ২৫০-৩৫০ টাকা। এসি কেবিন (সিঙ্গেল) ৪০০ থেকে ৮০০ টাকা। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ লঞ্চ টার্মিনাল থেকেও চাঁদপুরের উদ্দেশ্যে লঞ্চ ছেড়ে যায়। ভাড়া নিবে সুলভ ১৩০-২০০ টাকা, নন-সুলভ ৬০-১৫০ টাকা। ঢাকা থেকে চাঁদপুর লঞ্চে যেতে সময় লাগে ৩ থেকে সাড়ে ৩ ঘন্টা।
কোথায় খাবেন
বড় স্টেশন খাওয়ার জন্য প্রচুর ছোট ছোট হোটেল, ফাস্টফুডের দোকান রয়েছে। এখানের হোটেল গুলোতে ইলিশ মাছ ভাজা, সর্ষে ইলিশ থেকে শুরু করে ইলিশ মাছের ডিম ভুনা সহ সামুদ্রিক অনেক মাছ পাবেন। এখানে আসলে ওয়ান মিনিটের আইসক্রিম খেতে ভুলবেন না।
আরও: রূপসা জমিদার বাড়ি
কোথায় থাকবেন
চাঁদপুরে থাকার জন্য মোটামোটি মানের বেশকিছু হোটেল রয়েছে। উল্লেখযোগ্য কিছু হোটেল হচ্ছে, ভাই ভাই আবাসিক হোটেল, তালতলা বাসস্টেশন হোটেল সকিনা ইত্যাদি। হোটেল ভাড়া নিতে পারে ৪০০ থেকে ১০০০ টাকা।
ফেসবুক: GoArif
