মিনি কক্সবাজার (Mini Coxsbazar), চাঁদপুর জেলার চাঁদপুর বড় স্টেশন মোলহেড বা তিন নদীর মোহনা থেকে কয়েক মিনিট এর দূরত্বে অবস্থিত। চাঁদপুরের পদ্মার চরটি এখন সবার কাছে চাঁদপুর মিনি কক্সবাজার নামে পরিচিত।
চাঁদপুর এর মিনি কক্সবাজার বা পদ্মার চর দর্শনীয় স্থান টি ২০১৮ সাল থেকে ভ্রমণ পিপাসুদের কাছে জনপ্রিয়তা লাভ করে আসছে। ২০১৮ সাল থেকে শুরু হবার কারন হচ্ছে, পদ্মার পাড়ে চর পরেছে ২০১৮ সালে। এরপর ১ জন ২ জন করে ভ্রমণ করতে করতে এখন সেখানে প্রতিদিন কয়েক হাজার দর্শনার্থী ভ্রমনে আসেন।
| অবস্থান | চাঁদপুর মোহনা বা বড় স্টেশন মোলহেড থেকে কয়েক মিনিট এর দূরত্ব |
| যাতায়াত ব্যবস্থা | ট্রলার বা স্পীড বোর্ড |
| ভাড়া | ৫০-১০০ টাকা |
| ড্রোন | উড়ানো যাবে |
কি কি দেখবেন
চাঁদপুর ৩নদীর মোহনা বড়স্টেশন মোলহেড থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে পদ্মা ও মেঘনার মিলনস্থলের দক্ষিণ পূর্ব অংশে বালুময় ভূমি। নদীপৃষ্ঠ থেকে কিছুটা উঁচু হওয়ায় শুষ্ক ও বর্ষা মৌসুমের ভরা জোয়ারেও এটির পুরো অংশ পানিতে ভেসে যায় না। পদ্মার চরটি বেশ বড়। অনেকটা ইংরেজি অক্ষর “U” আকৃতির। তবে উল্টো দিক থেকে তাকালে এটাকে ইংরেজি “w” আকৃতির মনে হবে।
এখানের স্থানটি পদ্মা ও মেঘনার মিলনস্থলে অবস্থান হওয়া দু’দিকে মেঘনা ও পদ্মার বিস্তীর্ণ জলরাশির ছোট ছোট ঢেউ আর বালুকাময় বিস্তীর্ণ চরের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন। সকালে বা বিকেলে এসে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত এর দেখা পাবেন। এছাড়া, দু’দিক থেকে দু’নদীর ছোট ছোট ঢেউ আছড়ে পড়া, পদ্মা-মেঘনায় জেলেদের ইলিশ ধরার দৃশ্য আর বিস্তীর্ণ বালির ফাঁকে সবুজ ঘাস মিনি কক্সবাজার বিশেষ সৌন্দর্য। এখানে পর্যটকদের জন্যে মেঘনা ও পদ্মা নদীর মিঠা পানিতে সাঁতারের পাশাপাাশি ও গোসলের সুযোগ রয়েছে।
আরও: রূপসা জমিদার বাড়ি
কিভাবে যাবেন
বাস: ঢাকা সায়েদাবাদ বাস স্টেশন থেকে পদ্মা এক্সক্লিসিভ পরিবহণে করে চাঁদপুর যেতে পারেন। প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চাঁদপুরের উদ্দেশ্যে ৩০ মিনিট পর পর বাস ছেড়ে যায়। ভাড়া নিবে ২৭০-৩৫০ টাকা। চাঁদপুর বাস স্টেশন নেমে অটোরিকশা করে বড় স্টেশন, তিন নদীর মোহনা চলে আসতে পারবেন। অটোরিকশা ভাড়া নিবে ১০/২০ টাকা। এরপর মোহনা থেকে ট্রলারে করে পদ্মার চর বা মিনি কক্সবাজার চাঁদপুর। যাওয়া এবং আসার ট্রলার ভাড়া নিবে অফ সিজন ৫০টাকা এবং বিশেষ দিনে ১০০-১৫০ টাকা নিতে পারে।
লঞ্চ: ঢাকা সদরঘাট হতে চাঁদপুরের উদ্দেশ্যে লঞ্চ ছেড়ে যায় সকাল ৭ঃ২০ মিনিট থেকে রাত ১২ টা পর্যন্ত। ডেকে জনপ্রতি ১০০-১৫০টাকা এবং চেয়ারে ১৫০-২০০ টাকা ভাড়া নিতে পারে। নন-এসি চেয়ার, ২৫০-৩৫০০ টাকা ও এসি কেবিন (সিঙ্গেল): ৪০০ থেকে ৮০০ টাকা ভাড়া নিতে পারে। নারায়ণগঞ্জ লঞ্চ টার্মিনাল থেকেও চাঁদপুরের উদ্দেশ্যে লঞ্চ ছেড়ে যায়। ভাড়া নিবে সুলভ ১৫০ টাকা নন-সুলভ ৬০-১০০ টাকা।
ট্রলার: তবে আপনি যেভাবেই যান না কেনো… পদ্মার চর ভ্রমণ শেষে আপনি যে কোন ট্রলারেই ফিরে আসতে পারবেন। ট্রলার চালক ট্রলারে উঠার সাথে সাথেই আপনার কাছ থেকে যাওয়া এবং আসার ভাড়া একসাথে নিয়ে নিবে। যার ফলে ভ্রমণ শেষে আপনি ফিরত আসা যে কোন ট্রলারে চলে আসতে পারবেন। তখন আপনার কাছ থেকে ভাড়া নিবে না। ট্রলার ভাড়ার কোন টিকিট সিস্টেম নেই। ট্রলারের রেগুলার ভাড়া যাওয়া এবং আসা ৫০ টা। তবে বিশেষ দিনে এটা বেড়ে যেতে পাড়ে। আমরা যেহেতু বিশেষ দিনে ভ্রমণে গিয়েছি তাই, আমাদের কাছ থেকে জনপ্রতি ১০০ টাকা করে ভাড়া নিয়েছে।
কোথায় খাবেন
খাওয়ার জন্য চড়ে ছোট ছোট দোকানে পানি, ফাস্টফুড, কোলড্রিংস সহ শুকনো খাবার পাবেন। আর ৩নদীর মোহনায় খেতে পারেন অথবা চাঁদপুর শহরে গিয়ে খেতে পারেন। এখানে আসলে ওয়ান মিনিটের আইসক্রিম খেতে ভুলবেন না আর সাথে তো ইলিশ মাছ খাবেনই।
কোথায় থাকবেন
চাঁদপুরে থাকার জন্য মোটামোটি মানের বেশকিছু হোটেল রয়েছে। উল্লেখযোগ্য কিছু হোটেল হচ্ছেঃ ভাই ভাই আবাসিক হোটেল, তালতলা বাসস্টেশন হোটেল সকিনা। ভাড়া নিতে পারে ৪০০ থেকে ১০০০ টাকা।
আরও: হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদ
টিপস ও সতর্কতা
- কালবৈশাখী বা ঝড়ের দিনে মিনি কক্সবাজার ভ্রমণ না করাই উত্তম।
- চাঁদপুরের মোহনা খুব বিপদজনক স্থান হিসেবে চিহ্নিত। এখানে তিন নদী একসাথে মিলিত হওয়ার ফলে একটি ঘূর্ণ্যমান অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ভ্রমণের সময় বিশেষ স্থানটি পরিহার করুন।
- মিনি কক্সবাজার চাঁদপুরে ভ্রমণের জন্য সকাল অথবা বিকাল বেলা উত্তম সময়। দুপুরে ভ্রমণ না করাই ভালো। দুপুরে ভ্রমণে এলে অবশ্যই সাথে সানগ্লাস, ছাতা এবং খাবার পানি নিয়ে আসতে ভুলবেন না।
- ট্রলারে উঠার সময় সতর্ক থাকুন। কারন ট্রলারে উঠার জন্য আপনাকে বেশকিছু বড় বড় চতুর্ভুজ আকৃতির ব্লক পার হতে হবে। এই ব্লক গুলো খুবই পিচ্ছিল।
- ট্রলারে উঠার সময় মই ব্যাবহার করুন।
- ট্রলার চলার সময় নদীর ঢেউ এর কারনে দুলতে পারে, আপনি যদি এতে ভয় পান তাহলে ট্রলারের সাইডে না বসে মাঝ খানটাতে টুল এর উপর বসুন।
- ট্রলার থেকে নামার সময় মই ব্যাবহার করুন। তাড়াহুড়া করে ট্রলারের পাশ দিয়ে নামার সময় সতর্ক থাকুন। পানির গভীরতা না জেনে উচু থেকে নামতে গিয়ে পায়ে ব্যথা পাবেন না।
- পানিতে নেমে গোসল করার আগে আপনার জামাকাপড়, জুতা, মোবাইল, মানিব্যাগ নিরাপদ স্থানে রাখুন।
- গরম বালুর উপর দিয়ে হাটার সময় পায়ে জুতা পরে নিন।
- নদীর পানি পান করবেন না।
ফেসবুক: GoArif
