শ্রীমঙ্গল (Sreemangal), বাংলাদেশের সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলার বিখ্যাত চা বাগান। শ্রীমঙ্গলকে চা এর রাজধানী বলা হয়ে থাকে। একদিনে ট্যুর এর জন্য শ্রীমঙ্গল বিখ্যাত। এখানে আপনি উচু-নিচু পাহাড়ের ঢালে চা বাগানের অপূর্ব দৃশ্য ছাড়াও শ্রীমঙ্গল এবং এর আশেপাশে রয়েছে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, গ্র্যান্ড সুলতান টি রিসোর্ট এন্ড গলফ, রাবার বাগান, হামহাম জলপ্রপাত, মাধবপুর লেক সহ আরো বেশকিছু দর্শনীয় স্থানের দেখা পাবেন।
আরও: মাধবপুর লেক
| অবস্থান | মৌলভীবাজার, সিলেট |
| অবস্থিত | বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব প্রান্তে |
| আয়তন | ৪২৫.১৫ বর্গকিলোমিটার |
| চা-বাগানের আয়তন | ১৮৪.২৯ বর্গকিলোমিটার |
| মোট চা বাগানের সংখ্যা | ৪০টি |
| ঢাকা থেকে দূরত্ব | প্রায় ২শত কি.মি. |
শ্রীমঙ্গলের নামকরন নিয়ে সঠিক কোন তথ্য নেই। তবে, কথিত আছে শ্রী দাশ ও মঙ্গল দাশ নামে দু’জন লোক হাইল হাওর এর তীরে প্রথমে বসতি স্থাপন করেন। এ দু’ভাইয়ের নামানুসারে শ্রীমঙ্গল নামকরণ করা হয়। আরো কথিত আছে শ্রীমঙ্গল শহরের অদুরে মঙ্গল চন্ডী দেবতার একটি থলি ছিল। তাঁর নামানুসারে শ্রীমঙ্গল নামকরণ করা হয়।
কি কি দেখবেন
- বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট।
- বাংলাদেশ চা বোর্ড প্রকল্প বাস্তবায়ন ইউনিট।
- ৪০ টি চা বাগান।
- লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান।
- নির্মাই শিববাড়ী।
- বিভিন্ন খাসিয়া পুঞ্জি।
- হাইল হাওরে বাইক্কা বিল অভয়াশ্রম।
- সীতেশ বাবুর চিড়িয়াখানা।
- কাছারী বাড়ী। (সহকারী কমিশনার ভূমি কার্যালয় সংলগ্ন)
- মসজিদুল আউলিয়া
- রমেশ রাম গৌড় এর ৭ কালারের চা
- শ্যামলী পর্যটন
- মাধবপুর লেক
- রাবার বাগান
- আনারস বাগান
- লেবু বাগান
- ভাড়াউড়া লেক
- রাজঘাট লেক
- মাগুরছড়া গ্যাসকূপ
- পান পুঞ্জি
- ওফিং হিল
- বার্নিস টিলার আকাশ ছোয়া সবুজ মেলা
- শ্রীমঙ্গলের এক মাত্র ঝর্ণা ‘‘যজ্ঞ কুন্ডের ধারা’’
- শতবর্ষের স্মৃতি বিজড়িত শ্রীমঙ্গলে ডিনস্টন সিমেট্রি
- মসজিদুল আউলিয়া
- টি রিসোর্ট
- আরোগ্য কুঞ্জ
- হরিণছড়া গলফ কোর্ট
- ডলু বাড়ি টিপরা পল্লী
- উচু-নিচু পাহাড়
কিভাবে যাবেন
বাস: ঢাকার ফকিরাপুল ও সায়দাবাদ থেকে হানিফ এন্টারপ্রাইজ, শ্যামলী পরিবহন, সিলেট এক্সপ্রেস ইত্যাদি পরিবহনের নন এসি বাস যায় শ্রীমঙ্গল। ভাড়া নিতে পারে ৩৫০ টাকা থেকে ৮০০ টাকা।
ট্রেন: ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে প্রতিসপ্তাহের মঙ্গলবার ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে সিলেটগামী পারাবত এক্সপ্রেস, প্রতিদিন দুপুর ১২টায় জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস যায়। আর শুক্রবার ছাড়া প্রতিদিন বিকাল ৪টায় কালনী এক্সপ্রেস, বুধবার ছাড়া প্রতিদিন রাত ৯টা ৫০ মিনিটে উপবন এক্সপ্রেস ট্রেনে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল অথবা কুলাউড়া ট্রেনে যেতে পারবেন। ভাড়া নিবে, শোভন ২০০ টাকা, শোভন চেয়ার ২৪০ টাকা, প্রথম চেয়ার ৩২০ টাকা, প্রথম শ্রেণি বার্থ ৪৮০ টাকা, স্নিগ্ধা ৪৬০ টাকা, এসি সিট ৫৫২ টাকা ও এসি বার্থ ৮২৮ টাকা। ভাড়া কমবেশি হতে পারে।
চট্টগ্রাম থেকে: চট্টগ্রাম সরাসরি ট্রেনে মৌলভী বাজারের শ্রীমঙ্গল কিংবা কুলাউড়া যাওয়া যায়। চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন থেকে সোমবার ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে সিলেটগামী পাহাড়িকা এক্সপ্রেস এবং শনিবার ছাড়া প্রতিদিন রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেন যায়। আবার শ্রীমঙ্গল থেকে থেকে শনিবার ছাড়া প্রতিদিন দুপুর ১২টা ৫৮ মিনিটে পাহাড়িকা এক্সপ্রেস এবং রোববার ছাড়া প্রতিদিন রাত ১১টা ২৪ মিনিটে উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেন দুটি চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।
শ্রীমঙ্গল থেকে: শ্রীমঙ্গল নেমে রিজার্ভ CNG, অটোরিকশায়, ট্যাক্সি করে পর্যটন স্পটগুলোতে সহজেই যেতে পারবেন। সারাদিনের CNG রিজার্ভ ভাড়া নিতে পারে ১০০০ টাকা থেকে ১৫০০ টাকা।
একদিনে ট্যুর প্ল্যান
শ্রীমঙ্গল একদিনে বা ডে ট্যুর প্ল্যান এর জন্য বাসে গিয়ে শ্রীমঙ্গল ঘুরে আসতে চাইলে ঢাকার সায়দাবাদ বাসস্ট্যান্ড থেকে রাত ১১ টা থেকে ১২ টার মধ্যে শ্রীমঙ্গলের উদ্দেশ্যে রওনা দিতে হবে। আর ট্রেনে যেতে চাইলে সিলেটগামী রাতের উপবন ট্রেনে যাত্রা করলে সবচেয়ে সুবিধা হবে। মনে রাখবেন, আপনি চাইলে একদিনে শ্রীমঙ্গল ভ্রমণ করে আসতে পারবেন, সেজন্য অবশ্যই রাতের বাসে বা ট্রেনে যাবেন জাতে সকালে গিয়ে শ্রীমঙ্গল ঘুরে আবার রাতে চলে আসতে পারেন।
শ্রীমঙ্গল নেমে ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করে সিএনজি রিজার্ভ নিয়ে চলে যাবেন মাধবপুর লেক। মাধবপুর লেক ও পাহাড়ে চা বাগানের অপূর্ব প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করবেন। যাবার পথেই দুইপাশে দেখতে পাবেন চা বাগান। মাধবপুর লেকে কিছুটা সময় কাটিয়ে চলে যাবেন বাইক্কা বিল। বাইক্কা বিল থেকে ঘুরে চলে আসবেন লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে। অথবা আপনি চাইলে বাইক্কা বিল না গিয়ে সরাসরি লাউয়াছড়া উদ্যান চলে যেতে পারেন। বনের মধ্যে জীববৈচিত্র দেখার সাথে সাথে চাইলে হালকা ট্রেকিং করতে পারবেন এখানে। তবে বানর থেকে সাবধান। একা একা গভীর বলে যাওয়ার চেষ্টা করবেন না।
লাউয়াছড়া থেকে শহরে ফিরে জনপ্রিয়পানসী অথবা পাঁচ ভাই হোটেলে পেট ভরে দুপুরের খাবার খেয়ে নিবেন। এখানে খাবার যেমন সুস্বাদু তেমনি সস্তা। খাবার শেষে কিছুতা বিশ্রাম নিয়ে চলে যাবেন শ্রীমঙ্গলের একমাত্র সিতেশ বাবুর চিড়িয়াখানায়। এরপর নীলকন্ঠ চা কেবিনের সাত রঙের চা খাওয়ার সাথে সাথে চা গবেষনা ইনস্টিটিউটও ঘুরে আসতে পারেন। তবে হাতে যদি সময় থাকে তাহলে ফিনলে টি গার্ডেন ঘুরে আসতে ভুলবেন না।
আরও: জাফলং
অনুমানিক খরচ
- বাস ভাড়া: ৫৭০ টাকা থেকে ১২০০ টাকা (বাসভেদে)
- সকালের নাস্তা: ৫০ টাকা
- সিএনজি রিজার্ভ: ১০০০ থেকে ১৫০০ টাকা (সারাদিনের জন্য)
- দুপুরের খাবার: ২০০ টাকা
- ফিরতি ট্রেনের টিকেট: ৩০০ টাকা থেকে ১১০০ টাকা
- অন্যান্য: ২০০ টাকা
বি: দ্র: ৫ জন বা ৩ জনের গ্রুপ নিয়ে গেলে খরচ কম হবে।
টিপস ও সতর্কতা
- পাহাড়ে উঠার সময় সাবধানতা অবলম্বন করবেন।
- সিএনজি নেয়ার আগে ভাড়া ঠিক করে নিবেন।
- যদি আপনি খুব ভোরে গিয়ে শ্রীমঙ্গল পৌছান তাহলে সাথে সাথেই ভ্রমণে যাওয়া ঠিক হবে না আপনার। সকাল হওয়ার জন্য সময় দিন। বলাতো যায় না এই গহীন জঙ্গলে কারা আপনার জন্য অনেক্ষা করছে।
- ভ্রমণে সবাই একসাথে কাছাকাছি থাকার চেষ্টা করুন।
- বেশী গহীন জঙ্গলে প্রবেশ করবেন না।
- বন্য প্রাণী হতে সাবধান।
- বানর হতে তো অবশ্যই সাবধান।
- কোথায় কোথায় ভ্রমণে যাবেন তা আগে থেকেই ঠিক করে নিন।
- হাম হাম যেতে জোঁকের ব্যাপারে সতর্ক থাকুন।
- শ্রীমঙ্গল আসলে শীতের কাপড় নিয়ে আসতে ভুলবেন না।
আরও: বিছনাকান্দি
শ্রীমঙ্গল নিয়ে ভ্রমণ জিজ্ঞাসা
একদিনে শ্রীমঙ্গল ভ্রমণ করা যাবে?
হ্যাঁ। আপনি একদিনে শ্রীমঙ্গল ভ্রমণ করতে পারবেন। তবে একদিনে ভ্রমণ করার ব্যাপারটা নির্ভর করে আপনি কত দূর থেকে শ্রীমঙ্গল ভ্রমণে আসবেন। আমি ঢাকা থেকে একদিনে শ্রীমঙ্গল ভ্রমণ করেছি।
একদিনে শ্রীমঙ্গল ভ্রমণে কত টাকা খরচ হতে পারে?
একদিনে শ্রীমঙ্গল ভ্রমণে কত খরচ হবে তা নির্ভর করে আপনি কোথা থেকে এবং কীভাবে ভ্রমণে আসবেন সেটার উপর। আমার ঢাকা-শ্রীমঙ্গল-ঢাকা বাস ভ্রমণে খরচ হয়েছে ১৩৫০ টাকার মত।
শ্রীমঙ্গল ঘুরার সেরা জায়গা কোনটি?
আমার দেখা শ্রীমঙ্গল ঘুরার সেরা জায়গা হল, ফিনলে টি-গার্ডেন। এছাড়া লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবপুর লেক, লেবু বাগান ইত্যাদি।
শ্রীমঙ্গলের বিখ্যাত কি?
শ্রীমঙ্গলের বিখ্যাত ৭ কালার চা। ভ্রমণে গেলে অবশ্যই ৭ কালার চা পান করতে ভুলবেন না।
ফেসবুক: GoArif
