বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা (Bangladesh National Zoo), ঢাকা জেলার মিরপুর ২ নাম্বারে অবস্থিত। প্রায় ৭৫ হেক্টর আয়তনের চিড়িয়াখানায় রয়েছে পৃথিবীর বিখ্যাত রয়েল বেঙ্গল টাইগার, বাচ্চাদের প্রিয় বানর সহ ১৯১ প্রজাতির দেশী-বিদেশী ২১৫০ টি প্রাণী। চিড়িয়াখানায় বর্তমানে ১৩৪ প্রজাতির ২,১৫০টি প্রাণী রয়েছে।
দর্শনার্থীদের জন্য বিনোদন, প্রাণি বৈচিত্র সংরক্ষণ, প্রজনন, গবেষণা এবং বন্যপ্রাণি সম্পর্কিত জ্ঞান বৃদ্ধি করার উদ্দেশ্যে ১৯৫০ সালে ঢাকা হাইকোর্ট প্রাঙ্গনে অল্প সংখ্যক বন্যপ্রাণি নিয়ে বাংলাদেশে চিড়িয়াখানার যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তীতে ১৯৬০ সালে মিরপুরে চিড়িয়াখানা স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয় এবং ১৯৭৪ সনের ২৩ জুন বর্তমান বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। শুরুতে এটি ঢাকা চিড়িয়াখানা, মিরপুর চিড়িয়াখানা নামে বেশি পরিচিত ছিল। ২০১৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকা চিড়িয়াখানার নাম পরিবর্তন করে বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা করা হয়।
আরও: জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যান, বাংলাদেশ
| স্থাপিত | ২৩শে জুন, ১৯৭৪ |
| অবস্থান | মিরপুর, ঢাকা, বাংলাদেশ |
| আয়তন | ১৮৬ একর |
| প্রাণীর সংখ্যা | ৪৯৭২ |
| সাপ্তাহিক বন্ধ | রবিবার |
| টিকেট মূল্য | ৫০ টাকা |
| ড্রোন উড়ানো যাবে | বিশেষ অনুমতি সাপেক্ষে |
কি কি দেখবেন
জাতীয় চিড়িয়াখায় দেখার জন্য রয়েছে, চিত্রা হরিণ, বানর, নীলগাই, সিংহ, জলহস্তি, গন্ডার, ভালুক, সিংহ, কুমির, জেব্রা থেকে শুরু করে নানা প্রজাতির প্রানি, পাখি, জাদুঘর সহ ফ্লেমিংগো, কানিবক, পানকৌড়ি ও মাছরাঙা। প্রাণি জাদুঘরে রয়েছে প্রায় ২৪০ প্রজাতির স্টাফিং করা পশুপাখি। তিমি মাছের কংকাল সহ নানা প্রজাতির সামুদ্রিক প্রানি। এছাড়া বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানায় ১৩ হেক্টর জায়গা জুড়ে দুইটি লেক রয়েছে।
চিড়িয়াখানায় ৫৮ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে হাতি, চিতা, গণ্ডার, জেব্রা, ওয়াটারবাক, ভোঁদড়, হায়েনা, হরিণ, জিরাফ, ইম্পালা, কালো ভাল্লুক, টাপির, জলহস্তী, সিংহ, অনেক প্রজাতির বানর, শিম্পাঞ্জী, বেবুন, এবং বেঙ্গল টাইগার সহ ১৫০০ টিরও বেশি পাখি, আফ্রিকান গ্রে প্যারোট, কেসোয়ারি, উটপাখি, এমু, টিলস, ফিঞ্চ, ছাতারে, প্যাঁচা, শকুন, এবং ঈগল। এছাড়া সাপ, কুমিরসহ ১৩ প্রজাতির সরীসৃপ এবং মাছ ২৮ প্রজাতি দেখতে পাবেন।

আরও: টাকা জাদুঘর
সময়সূচী ও টিকেট মূল্য
বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা সাপ্তাহিক বন্ধ থাকে প্রতি রবিবার। তবে খেয়াল রাখবেন, রবিবার যদি সরকারী ছুটি থাকে তাহলে শুধুমাত্র সেই রবিবার চিড়িয়াখানা দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকে। সিজন অনুযায়ী গ্রীষ্মকালে (এপ্রিল-অক্টোবর) সকাল ৯ টা থেকে বিকেল ৬ টা পর্যন্ত খোলা থাকে এবং শীতকালে (নভেম্বর-মার্চ) সকাল ৮ টা থেকে বিকেল ৫ টা পর্যন্ত চিড়িয়াখানা খোলা থাকে।
প্রবেশ টিকেট মূল্য: জাতীয় চিড়িয়াখানার টিকেট মূল্য ৫০ টাকা। তবে, দুই বছরের কম বাচ্চার জন্যে কোন টিকেট লাগবেনা। এছাড়া স্কুল, কলেজ এবং ইউনিভার্সিটির স্টুডেন্ট এর ক্ষেত্রে প্রবেশ টিকেট মূল্য অর্ধেক। সেই ক্ষেত্রে অবশ্যই নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আইডি কার্ড দেখাতে হবে।
জাদুঘর ও পার্ক ফি: জাদুঘরের ভিতরে প্রবেশ করে আপনি যদি প্রাণী জাদুঘরের ভিতরে প্রবেশ করতে চান তাহলে আলাদাভাবে ১০ টাকা প্রবেশ ফি দিতে হবে। এছাড়া অন্যান্য রাইডে চড়তে চাইলে, শিশু পার্কে মেরিগো-রাউন্ড ৩০ টাকা এবং ট্রেনের টিকিট ৪০ টাকা দিতে হবে। যদি মাছ ধরতে ইচ্ছে হয় তাহলে ২০০০ টাকা দিতে হবে এবং এটি প্রতি মাসের প্রথম শুক্রবার দেওয়া হয়।
পিকনিক স্পট ভাড়া: চিড়িয়াখানায় পিকনিক করতে চাইলে, উৎসব এবং নিঝুম নামের পিকনিক স্পট ভাড়া নিতে পারেন। সারাদিনের জন্য ভাড়া নেয় যথাক্রমে ১০,০০০ ও ৬,০০০ টাকা।
কার পার্কিং ফি: চিড়িয়াখানার বাইরে কার পার্কিং এর ব্যবস্থা রয়েছে। বাস, ট্রাক, মিনিবাস ধরণের যানবাহনের জন্যে ৪০ টাকা; মাইক্রোবাস, ট্যাক্সি, জীপ, প্রাইভেট কার, পিক আপ এই ধরণের গাড়ির জন্যে পার্কিং ২০টাকা; সিএনজি, টেম্পু, মটরসাইকেল ইত্যাদির জন্যে ১০টাকা ও রিক্সা, বাইসাইকেল ইত্যাদির জন্যে ৫ টাকা পার্কিং ফী দিতে হবে।
আরও: তামান্না ওয়ার্ল্ড ফ্যামিলি পার্ক
কিভাবে যাবেন
বাংলাদেশের যে কোন স্থান থেকে আপনি এখানে ভ্রমনে আসতে পারেন। প্রথমে আপনাকে ঢাকা আসতে হবে। ঢাকার বিভিন্ন স্থান থেকে চিড়িয়াখানার জন্য পাবলিক বাস চলাচল করে। এছাড়া নিজস্ব পরিবহণ ট্যাক্সি, সিএনজি কিংবা প্রাইভেটকার ভাড়া করেও চিড়িয়াখানায় আসতে পারেন। এছাড়া মেট্রোরেলে করে সহজেই আসতে পারেন। মেট্রোরেলে আসলে মিরপুর-১০ স্টেশনে নামবেন। সেখান থেকে সিএনজি, রিকশা, অটোরিক্সা বা বাসে করে খুব অল্প সময়ে মিরপুর-১ হয়ে সনি সিনেমা হলের পাশ দিয়ে চিড়িয়াখানায় চলে আসতে পারবেন।
যোগাযোগ: 02-41001661, 02-58053030, 01631-999666, 01713-043350, 01948-372753
কোথায় খাবেন
চিড়িয়াখানার ভিতরে পর্যটন কর্পোরেশন কর্তৃক পরিচালিত ময়ূরী ও ঈগল নামে দুটি রেস্টুরেন্ট রয়েছে, চাইলে এখানে খেতে পারেন। তবে, চিড়িয়াখানার সামনে অনেক খাবারের দোকান রয়েছে। আপনি চাইলে এখানেও খেতে পারেন। তবে, এখানে খাবারের দাম তুলনামূলক বেশি। অবশ্যই খাওয়ার পূর্বে খাবারের মূল্য সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে নিবেন। এছাড়া মিরপুর ১ নাম্বারে খুব ভালো মানের খাবারের হোটেল রয়েছে।
কোথায় থাকবেন
বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা একদিনের ভ্রমণের জন্য উপযুক্ত। তবে, এরিয়া বড় হওয়াতে অনেকেই একদিনে পুরো এরিয়া ঘুরে দেখা শেষ করতে পারেন না। তাই যারা থাকতে চান তাদের জন্য চিড়িয়াখানার আশেপাশে বেশ কিছু হোটেল পাবেন অথবা মিরপুর ১ কিংবা মিরপুর ১০ নাম্বারে অনেক ছোট বড় হোটেল রয়েছে, সেখানে থাকতে পারেন।
টিপস ও সতর্কতা
- চিড়িয়াখানার ঘুরার জন্য চিড়িয়াখানা ঢুকে প্রথমে সোজা যাবেন। একটু সামনে গেলেই দেখতে পাবেন পুরো চিড়িয়াখানার একটি বড় ম্যাপ রয়েছে। সাথে দেখতে পাবেন সামনেই একটি বানরের খাঁচা। বানরের সাথে দেখা করার পর আপনি হাতের বা দিকে যাবেন।
- হাতের বা দিক দিয়ে ঘুরতে ঘুরতে আপনি আস্তে আস্তে ডান দিকে যাবেন। এভাবে করেই আপনার পুরো চিড়িয়াখানা ঘুরা শেষ করবেন। চিড়িয়াখানাও এই নিয়ম টা ই দিয়েছে। যাতে আপনি পুরো চিড়িয়াখানার সব গুলো প্রানির দেখা পান।
- চিড়িয়াখানার প্রাণীদের খাবার দেয়া থেকে বিরত থাকুন।
- হিংস্র প্রানি যেমনঃ বাঘ, সিংহ, সাপ এসব প্রাণীদের খাঁচা থেকে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রাখুন।
- আপনার সাথে যদি ছোট বাচ্চা থাকে তাহলে, তাদেরকে সব সময় কাছে রাখুন। প্রয়োজনে হাত ধরে রাখুন। কারন, চিড়িয়াখনা অনেক বড় এবং সবসময় এখানে প্রচুর মানুষের সমাগম থাকে। একবার যদি আপনার বাচ্চা কে হারিয়ে ফেলেন, তাহলে তাকে খুজে পেতে অনেক সময় লাগবে। এর ফলে আপনার আনন্দ ভ্রমন নিরানন্দ হয়ে যাবে।
- আর যদি, এরকম সমস্যায় পড়েই যান। তাহলে ঘাবড়ানর কিছু নেই। কারন, চিড়িয়াখানার ভিতরে একদল সদস্য রয়েছে, যারা আপনার সহযোগিতা করার জন্য রেডি হয়ে থাকে সবসময়। আপনি ভিতরে চুকলেই তাদের মাইকের শব্দ পাবেন।
- চিড়িয়াখানা ঢুকার পূর্বে সাথে পানি এবং শুঁকন খাবার নিয়ে নিন। কারন, এতো বড় চিড়িয়াখানা ঘুরতে ঘুরতে আপনি ক্লান্ত হয়ে পড়তে পারেন। তাছাড়া, উচু নিচু যায়গা দিয়েই আপনাকে ভ্রমন করতে হবে।
- যতটা সম্ভব খোলামেলা জামাকাপড় পড়ে চিড়িয়াখানা যাওয়ার চেষ্টা করুন। এতে ক্লান্তি কম লাগবে।
- ভ্রমন উপযোগী জুতা পরার চেষ্টা করুন।
- সবসময় আপনার মানিব্যাগ এবং প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র আপনার হেফাজতে রাখুন।
আরও: বাংলাদেশ বিমান বাহিনী জাদুঘর
জাতীয় চিড়িয়াখানা নিয়ে প্রশ্ন-উত্তর
মিরপুর চিড়িয়াখানা কোথায় অবস্থিত ?
বাংলাদেশের ঢাকা জেলার মিরপুর থানায় অবস্থিত।
মিরপুর চিড়িয়াখানা কত নাম্বারে ?
মিরপুর চিড়িয়াখানা: মিরপুর-২ নাম্বারে অবস্থিত। মিরপুর ১ নাম্বার হয়ে সনি সিনেমা হল দিয়ে কিছুটা গেলেই মিরপুর ২ নাম্বার। এখানেই বাংলাদেশর জাতীয় চিড়িয়াখানা অবস্থিত।
চিড়িয়াখানা বন্ধ কবে ?
সাপ্তাহিক বন্ধ: রবিবার
ফেসবুক: GoArif
