মমো - MOMO photo - goArif

মমো কি? জেনে নিন এর থেকে নিরাপদ থাকার উপায় গুলো

মমো (MOMO) কি? জেনে নিন এর থেকে নিরাপদ থাকার উপায় গুলো। বেশ কিছুদিন হলো অনলাইনে একটা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে মমো নামে একটা গেইম কে নিয়ে।কে সেই মমো। কেমন গেইম এটা। মানুষ কেনো এই গেইম কে নিয়ে আতঙ্কিত হচ্ছে। আজকের ব্লগে আমরা সেটাই জানব। তো চলুন শুরু করা যাক…

আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে ব্লু হোয়েল গেইম এর কথা? কি এক গেইস ছিল… বাবারে বাবা! মানুষ গেইম খেলেই নাকি মারা যাচ্ছিল। প্রথমে আমি যেদিন এই ব্লু হোয়েল গেইম এর কথা শুনেছিলাম, তখন এটা বিশ্বাস করতে পারিনি। কিন্তু পড়ে খোঁজ খবর নিয়ে জানতে পারলাম এটা পুরো দুনিয়া ছড়িয়ে গিয়েছে।

ইনফেক্ট, আমার আন্টি যে কিনা ইন্টারনেট সম্পর্কে তেমন কিছুই বুঝে না, সেও আমাকে বলেছিল আরিফ সাবধান মোবাইলে গেইম টেইম খেলিস না।

যাইহোক… সে বিষয় নিয়ে আর কথা না বলি কারন, আপনারা ব্লু হোয়েল সম্পর্কে ইতিমধ্যে জেনেছেন।

আরো পড়ুনঃ সমুদ্র কিভাবে তৈরি হয়েছিল?

মমো কি (MOMO) ?

মমো একটি ছবি যা অনেক আগে থেকেই ইন্টারনেটে পরিচিত। নিচে যে ছবিটি দেখতে পাচ্ছেন এটিই সেই মমো এর ছবি।

মমো - MOMO photo - goArif

ছবিটিতে দেখা যাচ্ছে একটি বিকৃত চেহারার মহিলা। লিংক ফ্যাক্টরি নামক একটি জাপানি আর্ট সংস্থা একটি পুতুল বানায় এবং সোশ্যাল মিডিয়াতে সেটার ছবি প্রকাশ করে। ছবিটি দেখে বুজতে পারছেন এটিই মমো।

মমো - MOMO photo - goArif
লিংক ফ্যাক্টরি নামক একটি জাপানি আর্ট সংস্থা বানানো পুতুল

তারমানে কি দাঁড়ালো? মমো নামে কোন মহিলা নেই! কিছু অসাধু মানুষ পুতুল এর ছবির শুধু মুখটিকে ক্রপ করে ইন্টারনেটে মমো (MOMO) নামে চালিয়ে যাচ্ছে। এই অসাধু বেক্তি গুলো কে? কেনোইবা তারা এটা করছে?

চলুন একটু বিস্তারিত জানি…

ইন্টারনেট এর এক ভয়ংকর এবং জঘন্য স্থান হলো ডার্ক ওয়েব (DARK WEB)। যেখানে ফিলিপাইন এর পিটার্স কালি নামক এক মানুষ রুপি পিচাস “রেড রোম” নামে একটি শো বানায়, যে রুমে একটি বাচ্চাকে টর্চার করা হতো। সেই টর্চার এর প্রক্রিয়া পৃথিবীর সচেয়ে শক্ত মনের মানুষ শুনলেও আত্মে উঠবে।

কিন্তু বিশ্বাস করুন আমাদের মধ্যে থাকা কিছু মানুষ ডার্ক ওয়েবে প্রায় ৭০০ টাকা খরচ করে ওই শো টা দেখতো। আর এখানে কিছু মানুষ বলতে মিলিয়ন এর ও বেশি! উদাহরণ স্বরূপ ১০ লক্ষ্য মানুষ যদি ৭০০ টাকা করে দেয় তাহলে তাঁর পরিমান দ্বারায় ৭ কোটি টাকা!! তাও একটি বাচ্চাকে টর্চার করার জন্য!

যাইহোন ওই শোটির অবসান ঘটে। পুলিশ কালি কে ধরতে পারে। এর অবসান প্রকৃত পক্ষে সেদিন হয়নি। উদাহরণ স্বরূপ ব্লু হোয়েল এবং মমো। পিটার্স কালি থেকে উৎসাহ পেয়ে কিছু অসাধু মানুষ টাকা রোজগার এর একটি নতুন পথ বের করে। আর এটিই হলো এই চ্যালেঞ্জ গুলোর মূল মোটিভ।

আরো পড়ুনঃ টিকটিকির হালুয়া

তারা ধড়া কেনো পরে না?

পিটার্স কালি বাচ্চাটিকে নিজের বাড়ি রেখে টর্চার করত এবং শো এর টাকা ব্যাংক এর মাধ্যমে ট্র্যান্সফার করত। যার ফলে খুব সহজেই সে ধড়া পরে যায়।

কিন্তু এখন বিট কয়েন মানে ডিজিটাল কারেন্সি কে এ ক্ষেত্রে ব্যাবহার করা হয়। ডিজিটাল কারেন্সি কে পাঠাচ্ছে, কাকে পাঠাচ্ছে, কেনো পাঠাচ্ছে তাঁর কোন তথ্য সরকার এর কাছে থাকে না। তারফলে এই শো গুলো থেকে পাওয়া অর্থ সম্পর্কে কোন দেশের সরকার কোন তথ্যই পায় না। এর ফলে এই অসাধু মানুষ গুলো ধড়াও পরে না।

যেহেতু তারা পৃথিবীর ভিবিন্ন দেশের বাচ্চাদের এতে সামিল করে এবং ভয়ও দেখায় তাই তাদের সম্পূর্ণ পদক্ষেপ গুলোতে সরকারি তদন্ত এজেন্সি গুলো সহজে কানেক্ট হতে পারে না। সুতরাং তারা ধড়া পরে না বললেই চলে।

মমো চ্যালেঞ্জ কি?

অবসাধে ভুক্ত মানুষ গুলো কে ম্যাসেজ করা বা বাচ্চাদের ম্যাসেজ করে কথোপকথন চালায় অসাধু মানুষ গুলো। তারপর কথোপকথন এর মাধ্যমে বাচ্চা গুলোর কাছ থেকে বাচ্চা গুলোর আরো ভালো করে তথ্য নেয়া হয়।

তারপর তাদের ওই গোপন তথ্য গুলো কে ব্যাবহার করে ভয় দেখানো হয়। এরপর ইনিস্টল করা হয় সফটওয়্যার গুলো কে। সফটওয়্যার গুলো বাচ্চা বা ভিক্টিম এর সম্পূর্ণ ফোন কে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়।

এই সফটওয়্যার গুলোর মাধ্যমে বাচ্চাদের মোবাইল ক্যামেরা এবং মাইক্রফোন লাইভ স্ট্রিমিং দেখতে পারে তারা। আবার সেগুলো ডার্ক ওয়েবে সরাসরি দেখায়। ডার্ক ওয়েবে মানুষ টাকা দিয়ে সেগুলো দেখে।

মমো থেকে নিরাপদ থাকার উপায় গুলো

এতক্ষন ধরে লেখা গুলো পরে কি বুজলেন? মমো যদি আপনাকে তাদের ফাদে ফেলতে চায় তাহলে আপনাকে তাদের সাথে কথোপকথন হতে হবে। অর্থাৎ ইন্টারনেট এর যে কোন মাধ্যমে আপনার সাথে তাদের একটা যোগাযোগ হতে হবে।

এখন চিন্তা করে দেখেন ইন্টারনেটে কোন কোন উপায়ে অপরিচিত কেউ আপনার সাথে যোগাযোগ করতে পারবে?

Facebook,  Messenger, Imo, Whatsapp, Viber ইত্যাদি মাধ্যম গুলো তারা ব্যাবহার করে থাকে। আপনি যে সব সাইটে বেশি এক্টিভ থাকেন তারা সে গুলোতে আপনাকে মনিটরিং করে। তারা দেখে আপনি কি ধরনের পোস্ট বা স্ট্যাটাস দেন। আর যারা ভিবিন্ন চেলেঞ্জিং গেইম খেলে সেটা শেয়ার করেন তাদের কে তারা টার্গেট করেন।

কয়েকটা টিপস দিচ্ছি…। এগুলো ভালো করে ফলো করবেন।

১। Whatsapp এ যদি আপনার নাম্বার পাব্লিক করা থাকে তাহলে এখনি সেটা অনলি মি বা প্রাইভেট করে দিন।

২। ফেসবুক সহ যে সোশ্যাল মিডিয়া আপনি ব্যাবহার করেন, সেখানে যদি আপনার নাম্বার, ইমেইল পাব্লিক করা থাকে, তাহলে সেটা অনলি মি (Only Me) করুন বা প্রাইভেট করে রাখুন।

৩। মেসেঞ্জার থেকে শুরু করে সব সোশ্যাল মিডিয়ার প্রাইভেসি সেটিং হাই করে দিন।

৪। অপরিচিত কোন লিংক এ ক্লিক করবেন না। সেটা যদি আপনার কোন বন্ধু ও পাঠায় তাতেও না।

৫। প্রত্যেকটা ওয়েবসাইট লিংক এর শুরুর আগে দেখবেন http বা https দেয়া আছে। যতটা সম্ভব http ওয়েবসাইট ভিজিট করা থেকে বিরত থাকুন।

৬। # হেস ট্যাগ এ হতাশা প্রকাশ করা থকে বিরত থাকুন।

৭। অপরিচিত ওয়েবসাইটে একাউন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।

৮। এডাল্ট ওয়েবসাইট কিন্তু আপনার কুকি কালেক্ট করে। তাই এইসব সাইট ভিজিট করা থেকে বিরত থাকুন।

৯। UC Browser বা UC App ব্যাবহার করা থেকে বিরত থাকুন।

১০। অপ্রয়োজনীয় এপ্স ব্যাবহার করা থেকে বিরত থাকুন।

আশাকরি উপরে দেয়া নিয়ম গুলো ফলো করলে আপনি ইন্টারনেটে অনেকটাই নিরাপদ থাকবেন। পরিশেষে সবার সুস্থতা কামনা করছি। আর হা, ইন্টারনেট এর এই চেলেঞ্জিং গেইম গুলো নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।

আপনি নিরাপদ থাকুন। আপনার পাশের মানুষকে নিরাপদ রাখুন। পোস্টি শেয়ার করে আপনার বন্ধুকে সতর্ক করতে ভুলবেন না।

আমার ইউটিউব চ্যানেলঃ GoArif

২ টি মন্তব্য

আমাদের মন্তব্য নীতি অনুযায়ী পরিচালনা করা হয় এবং আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। দয়া করে নাম দেয়ার ক্ষেত্রে কীওয়ার্ড ব্যবহার করবেন না। আসুন একটি ব্যক্তিগত এবং অর্থপূর্ণ কথোপকথন হয়ে যাক 😊 ।





আর্কাইভ