• সার্চ
  • সার্চ
ট্রেন আমায় প্রকৃতির ডাকে সারা দিতে দিল না! - GoArif

ট্রেন আমায় প্রকৃতির ডাকে সারা দিতে দিল না!

ট্রেন আমায় প্রকৃতির ডাকে সারা দিতে দিল না! আজ আমি আপনার সাথে আমার ট্রেন ভ্রমণ কাহিনী শেয়ার করব। দিনটি ছিল ৩০ জুন ২০১৯, শনিবার। ঘড়িতে তখন ভোর ৪ টা। আমি আর আমার খালাতো ভাই মাহিম, খেয়ে দেয়ে গ্রামের মেঠো পথ ধরে হাটা শুরু করলাম। উদ্দেশ্য ৫ টার ট্রেন ধরে ঢাকায় ফিরব।

যেহেতু ফজর এর আযান হয় নি, তাই গ্রামের সবাই তখনও গভীর ঘুমে। চারদিক নিস্তব্ধ, কোন শব্দ নেই শুধু আমার আর মাহিমের পায়ের আওয়াজ।

আরও: ১ কেজি কলা

ট্রেন আমায় প্রকৃতির ডাকে সারা দিতে দিল না! - GoArif
ট্রেন আমায় প্রকৃতির ডাকে সারা দিতে দিল না!

ট্রেন ভ্রমণ কাহিনী


ভয়ানক সেই বটগাছ

যেতে যেতে সামনে আব্ছা আব্ছা দেখতে পেলাম একটা বটগাছ। বট গাছটি দেখে গাঁ ছমছম করা শুরু করল। আসলে বটগাছটি নিয়ে অনেক ভৌতিক ঘটনা ঘটেছে এই এলাকার মানুষের সাথে। চাচ্ছিলাম যাতে ভয়ের কথা গুলো তখন না মনে আসে। কিন্তু কথায় বলে না, যেখানে বাঘের ভয় সেখানে রাত হয়। মনকে কন্ট্রল করার জন্য, মাহিমের সাথে এমনি ফাও আলাপ শুরু করলাম। এভাবে চলতে চলতে পেছন থেকে একটা মৃদু আলো দেখতে পেলাম। পিছে ফিরে তাকিয়ে দেখি একটা ভেন আসছে।

ভেনটা দেখে অনেক ভালো লাগছিলো। মনে মনে এটাকেই চাচ্ছিলাম। মনে হচ্ছিলো ভেনওয়ালাকে ২ টা লাড্ডু কিনে দেই। যাই হোক, দুই জন’ই ভেনে উঠে বসলাম। ভেনটি গ্রামের মেঠো পথ দিয়ে টিম টিম বাতি জ্বালিয়ে চলছিল। আর আমার গায়ে হালকা শীতল হাওয়া লাগছিলো। মনে হচ্ছিলো এখন একটা ঘুম দিতে পারলে অনেক ভালো হত।

ভেনটি রেলস্টেশন এসে থামলে আমরা দুইজন ই নেমে পড়ি। রেলস্টেশনটি মোটামুটি ফাঁকাই ছিল। গেলাম টিকেট কাটতে। কিন্তু একি, কাউন্টার তো বন্ধ। আশেপাশে মানুষদের থেকে জানতে পারলাম, লোকাল ট্রেনের টিকেট কাউন্টার থেকে দেয় না। বাইরে দোকানের মত ছোট্ট একটা ঘর দেখিয়ে বলল, ওখান থেকে টিকেট দেবে। গেলাম সেখানে সেটাও বন্ধ। কিন্তু কিছু লোক লাইন ধরে দাঁড়িয়ে আছে। বুঝতে বাঁকি রইল না, যে লোকাল ট্রেনে ভিড় হবে।

মাহিম তার এলাকার ছোট একটা ছেলেকে লাইনে দাঁড় করিয়ে দিয়ে আমাকে বলল, চল ওদিকে যাই। আমরা প্লাটফর্মের এপাশ থেকে ওপাশ ঘুরাঘুরি করলাম। এর মধ্যে টিকেট বিতরণ শুরু হয়ে গেছে। আমি মাহিমকে বললাম টিকেট কত করে? ও বলল ১০০ টকা দে। আমি অবাক হয়ে টাকা দিতে দিতে বললাম, মাত্র ১০০ টাকা! ও কিছু না বলে টাকাটা নিয়ে লাইনে ঢুকে পরল আর কিছুক্ষন পর আমাকে ৫ টাকা আর টিকেট টা ধরিয়ে দিয়ে বলল, চল চা খাই। আমি কিছু না বলে পকেটে টিকেট ঢুকাতে ঢুকাতে হাটা শুরু করলাম।

চাটমোহর থেকে ঢাকা বিমানবন্দর ট্রেনের টিকিট ৯৫ টাকা! - GoArif
চাটমোহর থেকে ঢাকা বিমানবন্দর ট্রেনের টিকিট ৯৫ টাকা! – GoArif

অনেকক্ষণ পর স্বাদের ট্রেনটি আসল। অনেক ভিড় ঠেলে গেটের কাছে যাওয়ার পরই মনে হল আমার মানিব্যাগটা আপনা আপনি ই বের হয়ে যাচ্ছে। আমার হাত পেছনে দিতেই অন্য কারো হাতের স্পর্শ লাগল। পেছনে তাকাতেই এক ভদ্রলোকবেশী একজন দেখি দৌড় দিয়ে চলে যাচ্ছে।এদিকে ট্রেন ছাড়ার সময় হয়ে গেছে, আমি আর ঐ লোকের দিকে না তাকিয়ে ট্রেনে ওঠার দিকে মনোনিবেশ করলাম।

ট্রনে উঠে নিজের সিটের কাছে গিয়ে মাহিমকে আল্লাহ হাফেজ জানালাম আর কাধের ব্যাগটা থেকে প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ বইটা বের করে, ব্যাগটি নির্দিষ্ট স্থানে রেখে দিলাম। সিটে বসে বই পড়ছিলাম হঠাৎ পাশ থেকে একটা মেয়ের শুমধুর কন্ঠ ভেসে আসল!

পাশে তাকাতেই দেখলাম এক বোরকা পরা মেয়ে তার ফোনটা দেখিয়ে কিছু একটা বলছে আমাকে। তার ফোনে গতকাল রাতে টাকা রিচার্জ করেছে কিন্তু এখন কোনো টাকা নেই। সে ডাটা কিনতে চাইছিলো কিন্তু তার ফোনে যথেষ্ঠ পরিমাণ টাকা ছিলো না।

আমি বললাম, হয়তো কোনো সার্ভিস আপনার সিমে চালু আছে তাই টাকা কেটে নিছে। মেয়েটি তার ফোন আমার হাতে দিয়ে বলল, সার্ভিস টা অফ করে দেন। আমি এসএমএস এর মাধ্যমে সকল সার্ভিস অফ করে দিলাম।

আরও: বিমান সুন্দরীগণ সেদিন আমার কথা রাখলেন না

ট্রেন আমায় প্রকৃতির ডাকে সারা দিতে দিল না

আমি বই পড়ছিলাম আর কিছুক্ষন পর পর পানি পান করছিলাম। হঠাৎ মনে হল আমাকে ন্যাচার ডাকছে (মানে, প্রকৃতির ডাকে সারা দিতে হবে)। লোকাল ট্রেনে কোন টয়লেট আছে কিনা তা জানি না। আর অনেক ভিড় দেখে খোঁজ নেয়ার ও ইচ্ছা জাগে নি।

ভাবলাম সামনের স্টেশনে নেমে টয়লেট খুঁজব। ট্রেনটি বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম পাড়ে দাঁড়াল। আমি ট্রেন থামাবার সাথে সাথে স্টেশনে নেমে পরলাম। নেমে টয়লেট খোঁজা শুরু করলাম। টয়লেট কোথাও, খুঁজেই পাচ্ছিলাম না। অনেকক্ষণ পর একটা টয়লেট পেলাম।

টয়লেটের মধ্যে কেউ একজন ছিল আমি বাইরে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছিলাম। ভেতরের মানুষটি বের হল আর আমি ভেতরে ঢুকব ঠিক সেই মুহূর্তে ট্রেনের হুইসেল এবং রীতিমত ট্রেনের চাকা আস্তে আস্তে চলাও শুরু করেছে!

আমি টয়লেটে না ঢুকে দৌড়ে ট্রেনের দিকে জান প্রাণ দিয়ে ছুটলাম। ‘গ’ বগির গেট দিয়ে ওঠার জন্য অনেকক্ষণ চেষ্টা করে যখন দেখলাম ট্রেনটার গতি অনেক বেড়ে গেছে আমি তখন পাশের ‘ঘ’ বগির গেটটা ধরে কোন মত একটা পা সিরিতে রেখে ঝুলে পরলাম। ট্রেনটা তখন অনেক গতিতে চলছিল।

আমাকে দেখে গেটে বসে থাকা লোক দুইজন উপরে উঠে দাঁড়াল আর আমাকে বলল এখানে বসেন। আমি তাদের বললাম আমার সামনের বগিতে সিট আছে আমি উঠে যাই। তারা বলল, এই ট্রেনে এক বগি থেকে অন্য বগিতে যাওয়া যায় না। আমি নিরুপায় হয়ে বসে পরলাম গেটের উপর।

রেলগাড়ির দরজায় বসার অভ্যাস আমার আছে। কিন্তু কোনো দিন এতটা ভালো লাগে নি যতটা আজকে লাগছে। মনে হচ্ছিলো আমি অনেক বড় কিছু হারাতে হারাতে পেলাম। যাই হোক দরজায় বসে যমুনা নদীর ঢেউ গুলা দেখতে অনেক ভালো লাগছিলো। মৃদু হাওয়া গায়ে লাগছিলো।

ট্রেনটি যমুনা সেতু পার হয়ে স্টেশনে থামতেই আমি আমার বগিতে চলে গেলাম। আমার পাশের ছিটের মেয়েটি আমাকে দেখতে পেয়ে জিজ্ঞেস করল, “কোথায় ছিলেন এতক্ষণ?” আমি মজা করে বললাম, যমুনাতে সাঁতার কাটলাম। তারপর সেই আবার বই টা নিয়ে পড়া শুরু করলাম।

ট্রেনটি সময় মত বিমান বন্দর রেলস্টেশনে এসে থামল আর আমি নেমেই ১০ টাকা দিয়ে বিমান বন্দর রেলস্টেশনের টয়লেটে ঢুকে সারা দিয়ে আসলাম, আমার প্রকৃতির ডাকে।

“ট্রেন আমায় প্রকৃতির ডাকে সারা দিতে দিল না” আমার ট্রেন ভ্রমণ গল্প বা কাহিনী আপনার কেমন লাগল জানাতে ভুলবেন না। আপনার কোন ভ্রমণ কাহিনী থাকলে লিখে ফেলুন এই সাইটে।

ফেসবুক: GoArif

GoArif.com ওয়েবসাইটের কোথাও কোন ভুল বা অসংগতি আপনার দৃষ্টিগোচর হলে তা অনুগ্রহ করে আমাকে অবহিত করুন, যেন আমি দ্রুত সংশোধন করতে পারি।
জাকিরুল ইসলাম

মন্তব্য করুণ

4টি মন্তব্য