ভ্রমণ নিয়ে কবিতা - GoArif

ভ্রমণ নিয়ে কবিতা

0 Shares

প্রেম, ভালবাসা, প্রকৃতি ছাড়াও কবিরা ভ্রমণ নিয়ে কবিতা লিখেছেন অনেক। আজকে আমি ভ্রমণ বিষয়ক বা ঘোরাঘুরি নিয়ে কবিদের বলা কিছু কবিতা আপনাদের সাথে শেয়ার করব।

তো চলুন ভ্রমণ নিয়ে কবিতা গুলো আবৃতি যাক…

বাংলা ভ্রমণ কোটস | Bangla Travel Quotes পড়েছেন?

ভ্রমণ নিয়ে কবিতা -GoArif
ভ্রমণ নিয়ে কবিতা

ভ্রমণ নিয়ে কবিতা


ভ্রমণ কবিতা

যমুনা নদী ভ্রমণ

রাসেল সরকার

যমুনা নদী করিনু ভ্রমণ
আর কোন নদ-নদী কি আছে অমন?
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কি যে বাহার
বুকে আগলে রাখে অজস্র আহার!
থৈ থৈ করে জল পুরো বর্ষা ঋতু ভর
হেমন্তে জাগে নদীগর্ভে থোকায় থোকায় বালুর চর।
তীরের মাটি গর্ত করে ঘর বাধে মাছরাঙ্গা
কাশফুলে কাশফুলে ছেঁয়ে যায় দুই ধারের ডাঙ্গা।

বক, পানকৌরী উড়ে বেড়ায় দিনভর
আকাশে পানে চেয়ে পাইনা শেষ প্রান্তর!
ক্ষণিক পরপর শ্বাস নিতে শূশূকের লাফালাফি
হঠাৎ কখন পানি ছুঁয়ে উড়ে গেলো ডাহুক পাখি!
কত নৌকা, স্টিমার চলে আরো জাহাজ শত
জাল পেতে জেলেরা মাছ ধরে দিনরাত্র।
একটু পরেই নদীর তীরে দেখা গেলো সূর্যাস্ত
সারাদিনের কোলাহল নিস্তব্ধতায় হলো শান্ত!


পাহাড় চূড়ায়

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

অনেকদিন থেকেই আমার একটা পাহাড় কেনার শখ।
কিন্তু পাহাড় কে বিক্রি করে তা জানি না।
যদি তার দেখা পেতাম, দামের জন্য আটকাতো না।
আমার নিজস্ব একটা নদী আছে,
সেটা দিয়ে দিতাম পাহাড়টার বদলে।
কে না জানে পাহাড়ের চেয়ে নদীর দামই বেশি।
পাহাড় স্থানু, নদী বহমান।
তবু আমি নদীর বদলে পাহাড়ই কিনতাম।
কারণ আমি ঠকতে চাই।

নদীটাও অবশ্য আমি কিনেছিলাম একটা দ্বীপের বদলে।
ছেলেবেলায় আমার বেশ ছোট্টোখাট্টো ছিমছাম একটা দ্বীপ ছিল।
সেখানে অসংখ্য প্রজাপতি।
শৈশবে দ্বীপটি ছিল বড় প্রিয়।

আমার যৌবনে দ্বীপটি আমার কাছে মাপে ছোট লাগলো।
প্রবহমান ছিপছিপে তন্বী নদীটি বেশ পছন্দ হল আমার।
বন্ধুরা বললো, ঐটুকু একটা দ্বীপের বিনিময়ে এতবড় একটা নদী পেয়েছিস?
খুব তো জিতেছিস মাইরি।
তখন জয়ের আনন্দে আমি বিহ্বল হতাম।
তখন সত্যিই আমি ভালবাসতাম নদীটিকে।
নদী আমার অনেক প্রশ্নের উত্তর দিত।

যেমন, বলো তো… আজ সন্ধেবেলা বৃষ্টি হবে কিনা?
সে বলতো, আজ এখানে দক্ষিণ গরম হাওয়া।
শুধু একটা ছোট্ট দ্বীপে বৃষ্টি, সে কী প্রবল বৃষ্টি, যেন একটা উৎসব।
আমি সেই দ্বীপে আর যেতে পারি না।
সে জানতো। সবাই জানে।
শৈশবে আর ফেরা যায় না।

এখন আমি একটা পাহাড় কিনতে চাই।
সে ই পাহাড়ের পায়ের কাছে থাকবে গহন অরণ্য,
আমি সেই অরণ্য পার হয়ে যাবো,
তারপর শুধু রুক্ষ কঠিন পাহাড়।
একেবারে চূড়ায়, মাথার খুব কাছে আকাশম নিচে বিপুলা পৃথিবী, চরাচরে তীব্র নির্জনতা।
আমার কষ্ঠস্বর সেখানে কেউ শুনতে পাবে না।
আমি শুধু দশ দিককে উদ্দেশ্য করে বলবো, প্রত্যেক মানুষই অহঙ্কারী,
এখানে আমি একা—এখানে আমার কোনো অহঙ্কার নেই।
এখানে জয়ী হবার বদলে ক্ষমা চাইতে ভালো লাগে।
হে দশ দিক, আমি কোনো দোষ করিনি।
আমাকে ক্ষমা করো… ক্ষমা করো।


আহম্মেদ ইমতিয়াজ মোহাম্মাদ এর ভ্রমণ নিয়ে কবিতা দেখুন।

ভ্রমণ

আহম্মেদ ইমতিয়াজ মোহাম্মাদ

সারমেয়র কান্না শুনে ধড়মড়িয়ে জেগে উঠি,
গভীর ঘুম ধূম হয়ে জমাট অন্ধকারে মিশে গেল।
কপালের প্রতিটি ভাঁজে বিপদের সম্ভাবনা জাগে,
হায়! আমি কোথায়? ভয়ে বুক অসার হয়ে আসলো।

হাত দিয়ে দু’চোখ কচলে নিয়ে তাকাই আবার,
এটা স্বপ্ন বা বিভ্রম নয়তো? না, এ যে বাস্তব;
সত্যাসত্য যেখানে দোস্তের মত গলা জড়াজড়ি করে…
মাথার উপর সিলিং, পায়ের নিচের মেঝে উধাও!
নিজেকে আবিষ্কার করলাম খোলা আকাশের নিচে।
পায়ের নিচে ভেজা নরম মাটি, সোঁদা গন্ধ পাচ্ছি।

গাঢ় আঁধার কাটিয়ে চারপাশটা দেখার বৃথা চেষ্টা করলাম,
একবার আকাশ-পাতাল কাঁপিয়ে চিৎকার দিলাম,
কোন সাড়া নেই, আমি একা লোকালয়ের বাইরে।
উলূকের মত ভয়ার্ত বড় বড় চোখে রাত জাগলাম।
অন্ধকার কেটে গিয়ে ধূসরতায় পূর্ণ হল চারপাশ ক্রমশ।
দিন না রাত বুঝা গেল না, তবে আবছা দেখতে পাচ্ছি।
শূন্যতায় পরিপূর্ণ সারাটা, সসেমিরায় তাকালাম যতদূর দৃষ্টি যায়;
যদিও পথ নেই, তবুও হাঁটা শুরু করলাম, জানি না যাচ্ছি কোথায়।

দূরে এক নাম না জানা মৃত বৃক্ষ দেখে এগিয়ে যাই,
চলার পথে হঠাৎ হুমড়ি খেয়ে পড়লাম;
কর্দমাক্ত হলাম, ঘৃণা ভরা একটা অনুভূতি পন্নগের মত মস্তিষ্কে বেয়ে উঠল।
কিসে হোঁচট খেলাম? খুঁজে বের করে ত্রাসে পাথর হয়ে গেলাম।
এ যে শবাধার, কিন্তু কার? লাশ নেই, শূন্য পড়ে।
মাথার উপর অভ্র অভদ্রের মত ডেকে উঠলো।
বাজ দৃষ্টিতে দেখলাম চারপাশে পড়ে আছে শূন্য শবাধার,
কোথাও কোথাও উপড়ে পড়ে রয়েছে সমাধি ফলক।
এখন দৌড়াতে শুরু করলাম, লক্ষ্য সেই মৃত বৃক্ষ।

পৌঁছে দেখি তার পাশ দিয়ে রক্ত বৈতরণী যাচ্ছে বয়ে,
তার তীরে কিছু লোক বসে আছে মাথা নুয়ে।
কাছে যেতেই তারা শ্বব্যবহার করলো, “কেন এসেছো এখানে?
তোমার তো এখনও সময় হয়নি; যাও ফিরে যাও,
তোমার এখনও অনেক পাপ করা আছে বাকি।
ছেড়ে যাও এ সপ্তম নরক এখুনি।”
এরা যে মৃতের দল বুঝতে বাকি রইলো না আমার।
তাদের লাল চোখের আভায় রক্তিম চারপাশ,
তাদের গলিত পচা অবয়ব দেখে সংবিত্তি হারালাম।
জ্ঞান ফিরলে দেখি আমি সেই পূর্ব অবস্থানেই; ধীরে উঠে বসলাম।

এই মুহূর্তে হাসি পাচ্ছে আবার কাঁদতেও ইচ্ছে করছে –
নরক ছেড়ে এখন আমি পুরনো সেই গোরস্থানে
লৌকিকতাহীন এ জায়গা, যেখানে আমার মত গোরখোদক
জ্যান্তদের জোর করে পুঁতে ফেলে মাটির গভীরতম পরতে।
কষ্ট পেলাম জানতে পেয়ে,নরকের চেয়েও খারাপ এই বাস্তবতা…
সশরীরে নরক ভ্রমণে গিয়ে।


ট্রেন ভ্রমণ

মনের শত উল্লাসে
অনেক বছর পরে।।।।
গেলাম একটু দূরে
একটি ট্রেনে চড়ে।।।

এমন সুন্দর ভ্রমণে
অনেক কিছু হয় অর্জিত।।।
আনন্দ আর উল্লাসে
বিষণ্নতা হয় বর্জিত।।।।

ঠিক সেই ক্ষণে
আমি গেলাম বসে।।।।
আর অগোছালো মনে
কল্পনার ছবি ভাসে।।।

আমার পাশের সিটে
ছিলো এক বাচ্চা মেয়ে।।।
হাসি মুখে থাকতো
আমার দিকে চেয়ে।।।

ছোট্ট মণির ছিলো
দুই বছর বয়স।।।।
দুষ্টুমি করতো অনেক
মানতো না আপোস।।।

দুষ্টুমির কতো ছলে
আমায় আনন্দ দিতো।।।
মুচকি হাসি দিতাম
ছিলো আমার যতো।।।।।

অবশেষে তাকে আমি
নিলাম কোলে তুলে।।।।
সাজিয়ে দিলাম তাকে
আমার কিছু ফুলে।।।

বললাম আমি তাকে
আম্মু,, কি নাম তোমার???
মেয়েটির মা বললো
কেয়া নাম তার।।।।।

বললাম তাকে আবার
কি খাবে তুমি????
বলো শুধু আমায়
কিনে দিবো আমি।।।

তার মাতা বললো,, বেশি না
একটু চকলেট খায়।।।।
কিনে দিলাম কিছু চকলেট
ছিলো যে সেথায়।।।।

খুশি মনে ছোট্ট মণি
একটি চকলেট খেলো।।।
সত্যিই সে মনের মাঝে
অনেক আনন্দ পেলো।।।

ছোট্ট মণিকে বললাম এবার
ছবি তুলবে কি মোর সাথে???
রেখে দিবো অনেক যতনে
আমার এ্যালবাম টাতে।।।।

অস্ফুটো ভাষায় সে
কিছুই বলতে পারে না।।।
এই সুযোগে আমি
ছবি তুলতে ভুললাম না।।

ছবি দেখে মণি
হলো অনেক খুশি।।।
আকাশ থেকে নেমে এলো
যেন আলোকিত শশী।।।।

এতো সুন্দর মুহুর্ত
কার না ভালো লাগে।।।
কষ্ট যতো দূর হয়
সুখের উপভোগে।।।।

যাচ্ছে চলে সময়
আসছে বিদায় বেলা।।।।
তার কপালে চুমু দিতে
করিনি অবহেলা।।।।

শেষের বেলায় তার জন্য
একটু নিরবতা।।।
বললাম তাকে, ভুলবো না গো
আমি তোমার কথা।।।।

আমার জীবনে ছিলো এটা
আনন্দের ট্রেন ভ্রমণ।।।।
দেখা যেন হয় তার
আবার আসবো যখন।।।


আমি অন্য কোথাও ভ্রমণ করছি

ইশরাত জাহান তিমি

আমি অন্য কোথাও ভ্রমণ করছি। তোমার চোখেরা আমাকে দেথেনা যেখানে,
তোমার মন কল্পনা করতে ব্যর্থ হয়েছে বারবার।
এই যে পাশে দাঁড়ানো ঘোড়াটি, আমার দূরে থাকা চাঁদ,
সূর্যের গলিত শরীর, অস্বীকার করি। তোমার হাত আমার হাতের
হাড়ের গলিতে ঢুকে পড়লেও আমি তাকে ছুঁয়ে দেখি না।
মূলত আমি অন্য কোথাও ভ্রমণ করছি।

এখানে রূঢ় মাটি; সে ও তারা আমার প্রতি সন্দিহান
এবং কথা বলতে ইচ্ছাহীন- আমি দ্বারে দ্বারে ঘুরে ভিক্ষা পেলেও
কথা পাইনি। কেবল ধুলির উপর শরীরকে ছেড়ে দিয়ে
ভেবেছি ভাষাহীন শূণ্য ভাবনা। আমি কাকে ভেবেছি ভুলে
গেছি। আমি কাকে খুন করে ফেলেছি নিরাসক্ত জিঘাংসায়-
মনে নেই। আমার ভাষাহীন শূণ্য ভাবনার কোনো দেয়াল ছিলো না।

আমি অন্য কোখাও ভ্রমন করছি। যেখানে এক কিশোর
আমার কাছে জল নিয়ে আসে। আমি তার হাতের
ভেতর এক সাধকের মৃতদেহ দেখতে পাই। সে আমার
ঠোঁটের উপর তার আঙ্গুল বুলিয়ে দেয়, আমি
জলকে এবং আমাকে ভুলে যাই। আমি তার শরীরের
পাশে একান্ত শরীর নিয়ে বসে থাকি। তার
ঠোঁটের ভেতর আমি শব্দ খুঁজি, তার চোখের ভেতর
হারিয়ে যায় আমারই ছায়া। ছায়াহীন আমি
কিশোরের ছায়া হয়ে যাই।

আমি ভাবি।
সেও ভাবে।
হে কিশোর! তোমার হাতের তালুতে নিয়ে চলো।
হে কিশোর! কাঁঠালচাপারা আসার আগে সঙ্গমে যাবো না
সাধকের সাথে।
কিশোরের ঠোঁট হেসে ওঠে। তার হাতের তালুতে দেখা যায়
বিশাল বিপুল অশত্থছায়া।

আমি ভুলে যাই, আমি অন্য কোথাও ভ্রমণ করছি।


ভ্রমণ নিয়ে কবিতা

অরণ্য

ভ্রাতার প্রতি ভালবাসা আছে অনেক বিশ্বাস
ভায়া যখন সামনে আসে ফেলি দীর্ঘ নিশ্বাস,
ভাইকে আমি ডাকলাম ভ্রমণ করবো বলে
একি সাথে ঘুরবো মোরা যাব দুজন চলে।
অবশেষে সহোদর এল দিল সে দেখা
হাসি ঠাট্টা আর গল্প গুজোব সবই হলো শেখা,
জিন্স প্যান্ট আর টিসার্ট সঙ্গে একটা বাইক
চোখে আছে সানগ্লাস মুখে সিগারেটের পাইপ।

একটু খানি এগিয়ে দেখি সামনে একটা নদী
অনেক তাড়া আছে মোদের তরী আসে যদি,
অবশেষে নাও এলো আছি আমরা দুজন
যাব কোথায় হারাব কোথায় জানে আর কজন।
তটিনী পার করেই চেপে গেলাম বাইকে
ছুটলাম পলসন্ডার দিকে এবার মোদের দেখে কে,
একটু থামার সময় নেই ছুটছি পবন গতিতে
কার্য কলাপ ঘটছে যা কিছু দুজনের সমমতিতে।

এদিক ওদিক দেখছি মোরা লক্ষ্য ছিল নারী
আজ মোরা দেখিয়ে দেবো অনেক কিছুই পারি,
দুদিকে সুন্দর দৃশ্য মধ্যে খানে ফাঁকা রাস্তা
গাড়িতে বসে খাচ্ছি বাদাম আর পাস্তা।
একটু পরে থেমেই মোরা তুললাম অনেক ছবি
দিগন্তের দিকে চেয়ে দেখি আমিও তো একজন কবি,
পথের ধারে বসে দেখি যত দুর যাই দৃষ্টি
সবুজ ক্ষেত বহুরূপ সাজে প্রকিতিরই সৃষ্টি।
দোকানে গেলাম আমি কিনলাম অনেক খাবার
খাওয়ার পরে ছুটলাম যেখানে ছিল যাবার,
সামনে এগিয়ে দেখি এমন একটি মেয়ে
প্রতিমার সাজে দাঁড়িয়ে আছে সারা জগৎ ছেয়ে।

এত সুন্দর দেখতে যে মুখ ফেরানো গেলনা
এমন রূপময় কামিনী কোথাও খুঁজে পাবোনা,
চোখে চোখে কথা হলো মনে আছে মিল
বুকের ভিতর ঘন্টা বাজে ছুড়লাম মারুতে ঢিল।
আমায় দেখে সে একটু খানি দিল মুচকি হাসি
ভাবলাম এইবার বলেই ফেলবো তোমায় ভালবাসি,
রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে ছিল নীল পরির বেশে
তার কাছে যেতেই হারিয়ে গেলাম এক ভিন্ন রঙ্গিন দেশে।

তাকে প্রপোস করতে পারলামনা আমি একটা গাধা
অনন্তকাল ভালবেসে যাব থাকবেনা কোনো বাঁধা,
তোমার প্রেমের ছোঁয়া পেয়ে ধন্য হলো জীবন
সুখে থেকো ও রমণী তুমি সফল হলো ভ্রমণ।


ভ্রমণ কাহিনী বিষয়ক কবিতা

এবার ভ্রমণ কাহিনী বিষয়ক কবিতা দেখুন- পূর্ণেন্দু পত্রী এর ভ্রমণ নিয়ে কবিতা।

ভ্রমণ কাহিনী

পূর্ণেন্দু পত্রী

‘Withches in Macbeth are part of the landscape’- Jan Kott
এপারের জঙ্গলগন্ধ অন্ধকারে আমাদের নামিয়ে
অল্প দূরের ব্রিজে বিসর্জনের তুমুল তাসায় এক ঝলক নেচে
রেলগাড়িটার লম্বা দৌড় ওপারের দিকচিহ্নহীনতায়
তারপর সমস্ত শব্দের ঢলে-পড়া ঘুম।
আমরা কেউ ওভারব্রিজের খোঁজে ঘাড় ঘোরাই
কেউ আকাশে যেমন-তেমন একট চাঁদ অথবা চেনা নক্ষত্রের খোঁজে।
আকাশের যে জায়গাটায় চাঁদ থাকার কথা।
নিদেনপক্ষে ছুটকো-ছাটকা ইনভার্টারে জ্বালানো লন্ঠন
ইসকেমিয়ার ঘোলাটে চাউনীতে সব লেপাপোঁছা।

পাহাড়টা কোন্ দিকে? উত্তরে না দক্ষিণে/
কেউ একজন প্রশ্ন করে।
পাহাড়ের আগে শাল-মিছিলে ঘেরা হ্রদ। দক্ষিণে, না উত্তরে?
অন্য কারো জানার ইচ্ছে।
ওভারব্রিজটা সামনে, না পিছনে?
কেউ একজন শুনিয়ে দেয় জবাব:
সব স্টেশনের ওভারব্রিজ থাকে না কিন্তু
অনেক স্টেশন কার্ড-বোর্ডে কাটা মানুষের মতো সমতল।
কে কার সঙ্গে কথা বলছি
বুঝতে পারি শুধু কন্ঠনালীর সৌজন্যে।
দুর্গদেয়ালের মতো অন্ধাকারে আমরা পরস্পরের থেকে বিচ্ছিন্ন।

আমাদের বলে দিয়েছিল স্টেশন থেকে নামলেই
লাল মাটির সোজা রাস্তা।
হয়তো আছে, কিন্তু অন্ধকারের দরজায় তো ফুটো নেই কোনোখানে।
আমাদের বলে দিয়েছিল স্টেশনে নামলেই
এক দৌড়ে পৌঁছে দেওয়ার এক্কা।
হয়তো ছিল, কিন্তু এখন তো মূছিত চেতনার মাঝরাত।

হঠাৎ কার যেন মনে পড়ে যায় টর্চের কথা।
টর্চ, টর্চ। টর্চ জ্বালাচ্ছিস না কেন?
নেমে আসি বালি কাঁকরের ঢালু প্রান্তরে,
পথপ্রদর্শক, টর্চের আলোর প্রেতচক্ষু।

ডাইনে আলো পড়ে টর্চের। ওটা কি?
ঝাঁঝরা কঙ্কাল, কোনো এক সময়ের সাতমহল অমরাবতীর।
টর্চের আলো ঘোরে বাঁয়ে। ওটা কি?
সমুদ্র-জাহাজের ভাঙচুর কাঠকাটরা আর নষ্ট নোঙর।

পথ আর পৌছনার মাঝখানে
কী দুঃস্বপ্ন শাসিত ব্যবধান!
মন্ত্র আর আরতির মাঝখানে
গণনাহীন বলির রক্তরেখা।

জন্ম থেকেই তো আমরা এই রকম, ঠিকানাহীন,
কেউ একজন বাতাসে ভাসিয়ে দেয় তার দীর্ঘশ্বাস।
সমস্ত রেলগাড়িই আমাদের বেলায় ছত্রিশ ঘন্টা লেট,
কেউ একজন বুক থেকে নিংড়ে আনে তার কুয়াশা।

হঠাৎ ঝড় উঠলে হয়তো সাড়া পাওয়া যেত লোকালয়ের,
কে যেন ঘাই মেরে উঠল তার বিষন্নতার বুদবুদ সরিয়ে।
রমনীসুলভ হ্রদের কোমর জড়িয়ে শালবনের মাতাল যৌবন
তাকে পেরোলেই সম্রাট মহিমার পাহাড়
আমাদের পৌছনোর কথা সেইখানে।
সেইখানেই বিশ্বস্ত লাল রোদের কেন্দ্রে
আমাদের সবুজ বাংলো রক্তকরবীর বেড়া দিয়ে ঘেরা।
ছেলেবেলার পানের ডাবর থেকে লাফিয়ে-ওঠা কেয়াখয়েরের উল্লাস নিয়ে
বাতাস বুনছে বীজানুহীন অভ্যর্থনা।
টর্চের আলো ঘোরে উত্তরে। ওটা কি?
ঝড়ে উলটোনো মহান বটের মাথামুন্ডুহীণ আধখানা।
টর্চের আলো ঘোরে দক্ষিণে। ওটা কি?
ভূল স্রোতের ফাঁদে-পড়া নদীর অকাল-ধ্বস।


মনের অতলান্তে ভ্রমণ

নিশীথ প্রভাত

কোলাহলময় পৃথিবীটা আমাকে আর মোহিত করেনা,
আত্মার ডানায় ভর করে পাড়ি জমাই অচেনা এক দেশে;
পৃথিবীর রূপ রস সৌন্দর্য্য যেন সবই অথর্ব আমার কাছে,
সকল হাসির পিছনে খোঁজে পাই কান্নার অনন্ত ঘ্রাণ।

দিনের পাপাচারের হিসাব নিকাশ চলে রাতের গভীরে,
নক্ষত্রগুলো যেন আকাশ থেকে সরে যায় অন্য এক ভুবনে;
দীপ্তিময় চাঁদের চাহনি বারাবার জানায় অজানা ইঙ্গিত,
তারাগুলো থেকে শিহরণ এসে ভর করে মনের নীরব প্রকোষ্ঠে।

রাজনৈতিক পরিব্রাজকেরা মুখে ধোঁয়া তোলে শান্তি প্রতিষ্ঠার;
অশান্তির বিষক্রিয়াতেই পৃথিবীটাকে করে ফেলেছে দূষিত;
ধর্মের ব্যবসায়ী যারা তারা করছে মানুষের ইমান নিয়ে খেলা;
তথাকথিত নাস্তিক্যবাদ দিচ্ছে হানা নিসর্গের শান্তির সাগড়ে;
প্রতারণা পূজাতেই মত্ত হয়ে থাকে প্রতারকের দল;
আপন ভাইয়ের বুকে ছুঁড়ি চালাতে ভাবে না মুহূর্ত সময়;
অস্তিত্বের সংগ্রামে টিকে থাকতে হলে যেতে হয় যুদ্ধে;
কার বিরুদ্ধে লড়বো-
সবাই যে জন্মলগ্ন থেকে একই পিতামাতার সন্তান;
একই পরিবার থেকে আজ হয়েছে কোটি কোটি পরিবার;
তবে কেন এই রেষারেষি চলছে আপন অস্তিত্বের সাথে।

সচকিত নয়নে কেন জানি আর হয় না ভাবের উদয়,
মৌনতাই যেখানে আশ্রয় দৃষ্টি সেখানে অচপল;
আমি তাকিয়ে দেখি দৃষ্টির অপর প্রান্তে যেখানে শুধুই মগ্নতা,
মনের অতলান্তেই ভ্রমণ করি সম্মুখ দৃষ্টির সঙ্গোপনে।


ভ্রমণ কবিতা

ভ্রমণ নিয়ে কবিতা গুলো আবৃতি করেছেন কি?

ভ্রমণ

শাহানারা সুলতানা তানিয়া

একটা দীর্ঘ ভ্রমণের জন্য ঠিকানা চাই
নাম চাই, উদ্দেশ্য চাই, সংগী চাই
এবং
চাই একজন ভ্রমণকারী,
পথের সঠিক পরিমাপ জানা আছে যার ।
এদিকে কিনা,
দিনক্ষণ ঠিক করে বসে আছেন বিধি
নিয়ম তো কালঘড়ির ব্যস্ততম কাঁটা ।
তাল মিলাতে ক্লান্তির ছাপে নিজেকেই ভুলেছি
হারিয়েছি কতগুলো মধ্যবিত্ত মনোকামনা,
হয়তো তারা জানতোনা
এখনো বিকেলের নামে একটি প্রার্থনা হয় ।
অথচ,
আমাদের ভ্রমণগুলো কেবলই বস্তুময় ।
একটা দীর্ঘ পথ
কেবলই জটিলতা শিকারে দৌড়ে চলে
দিন শেষে সামান্যতম বিশ্বাসের আঁচ পেলেও
একটা নিঃশ্বাস অসমাপ্ত পথে পরিচালিত হয় ।


নিরবে ভ্রমণ

মোঃ নয়ন আহমেদ

নিয়েছি ভোরের শেষে শিশিরের খামে মোড়ানো,
স্মৃতির ভাঁজপত্র অনুভূতির কোয়েলী এক পালকে।
যেখানে নেই কোনো রঙচঙে আবেদনময়তার ভরাট দেহী সাজ,
নেই বিদূষী রাজ্যলক্ষীর মাথায় রুবি- চুনি- পান্না অথবা কালো হীরার কারুকার্যখচিত তাজ।

এখানে সকল চোখে পড়েনি বালি তাক-
ব্যাস্ত সকল সব রাস্তা ঘাট,
চলে গাড়ি ঘোড়া অবিরত ফিস্ ফিস।
নক্ষত্রগুলো যেন আকাশ থেকে সরে যায় অন্য এক ভুবনে,
দীপ্তিময় চাঁদের চাহনি বারাবার জানায় অজানা ইঙ্গিতে।
তারাগুলো থেকে শিহরণ এসে ভর করে মনের নীরব প্রকোষ্ঠে,
কোলাহলময় পৃথিবীটা আমাকে আর মোহিত করে।
আত্মার ডানায় ভর করে পাড়ি জমাই অচেনা এক দেশে,
আমি ভ্রমণ করছি সামুদ্রিক মাদকতার চাদরে ঢাকা স্যাঁতস্যাঁতে এক কুয়াশার শহরে।

যেখানে রাতপাখিদের নিয়ত শোভা অদৃশ্য কাতরে,
হাঁড়ে কাঁপন লাগা শীতের রাতে।
দূর্ভেদ্য ঘন এই কুয়াশা কেটে কেটে,
ব্যস্ত মফস্বলের আঁকাবাকা রাস্তায়।
পবিত্রা চাহনি ছমছমে রাতের আঁধারি-ঘোমটার আড়ালে,
তবুও আছে কিছু হেমলক লতা ছড়ানো কান্না জলে।
নিরবে ভ্রমনে যেতে শুধু বার বার ইচ্ছে করে,
থোকা থোকা বর্ণচোরা প্রহরের এই আবডালে।


মায়াপুর ভ্রমনের পরে

এমন সুন্দর ইস্কন পরিবেশ
শান্ত,পরিছন্ন,নির্মল আবেশ।
এমন স্নিগ্ধ পরিবেশের কোলে
ঝটিকা ভ্রমণে কি মন ভরে?
মনের ব্যাকুলতা বাড়ে।
প্রাণ মাতানো বিশুদ্ধ হওয়া,
অফুরন্ত অক্সিজেনে পূর্ন
প্রকৃতির শোভা।

মনেহয় নিজেকে উজারকরে
দেবার মত প্রকৃতির লীলা অপার।
উম্মুক্ত আকাশের নীচে সবুজঘাসে,
এক দিনে পাবো কতটুকু আর।
বাগানে নানান ফুলের সুবাশে
নামকৃতীনের উন্মাদনার তানে
কৃষ্ণ লীলার শুমধুর লহরির তালে
মন যেন উদাস হয়েযায় আপনমনে।

মনকি মানে
কেবল একদিনে?
ওদিকে কৃষ্ণ লীলা
প্রেমের জয়জয় কার
সুমধুর তাঁর লহরী
অশান্ত মনকেও
টেনে নেয় প্রেমের দুয়ারে।

অফুরন্ত সময় কৃষ্ণ নামে হয়ে বিভোর,
আমিও হয়েছিলাম প্রেমে বিভোর।
হৃদয় ভরে নিতে প্রেমের ছোঁয়া
এতটুকু সময় যে বড়ই কৃপণতা।
কিআছে উপায় সীমিত যে সময়,
এমন পরিবেশের পূর্ণ উপভোগ,
প্রয়োজন নিতান্ত কয়েক দিনের প্রবাশ।
মনচাইলেও পরিস্থিতির চাপে,
মুক্ত করতে পার্বকি মনকে,
এই সংসারের বেড়াজাল থেকে।


উপরে দেয়া ভ্রমণ নিয়ে কবিতা গুলো কেমন লেগেছে কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না কিন্তু! এছাড়া ভ্রমণের বিখ্যাত আরও কবিতা খুব শিগ্রহি প্রকাশ করা হবে। আপনার কোন ভ্রমণ নিয়ে কবিতা থাকলে কমেন্টে জনাতে পারেন। আমি সেটা পোস্টে আপনার নাম সহ প্রকাশ করব।

ভ্রমণ নিয়ে কবিতা পড়ুন। ভ্রমণ নিয়ে কবিতা গুলো ফেসবুকে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন। আর সময় পেলে ভ্রমণ করুন, ভ্রমণে জ্ঞান বাড়ে।

আমার ফেসবুকঃ GoArif

0 Shares
GoArif.com ওয়েবসাইটের কোথাও কোন ভুল বা অসংগতি আপনার দৃষ্টিগোচর হলে তা অনুগ্রহ করে আমাকে অবহিত করুন, যেন আমি দ্রুত সংশোধন করতে পারি।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

4টি মন্তব্য

Copy link