মহাস্থান প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর (Mahasthan Archaeological Museum), বাংলাদেশের রাজশাহী বিভাগের বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার করতোয়া নদীর কিনারা ও মহাস্থানগড়ের টিলা সংলগ্ন এলাকায় এবং গোবিন্দ ভিটার পাশেই অবস্থিত। এই জাদুঘরকে অনেকে মহাস্থানগড় জাদুঘর নামে চিনেন।
মহাস্থানগড়ের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের গুরুত্ব অবলোকন করে ১৯৬৭ সালে গোবিন্দ ভিটা, করতোয়া নদীর কিনারা ও মহাস্থানগড়ের টিলা সংলগ্ন এলাকায় এই প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘরটি নির্মাণ করা হয়। যাদুঘরের ঠিক সামনেই গোবিন্দ ভিটা অবস্থিত। গোবিন্দ ভিটার পাশ দিয়েই বিখ্যাত সেই করতোয়া নদী রয়ে গেছে।
আরও: ভীমের জাঙ্গাল
| ধরন | প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর |
| অবস্থান | শিবগঞ্জ, বগুড়া, রাজশাহী |
| স্থাপিত | ১৯৬৭ইং |
| রাজবংশের স্মৃতিচিহ্ন | মৌর্য, গুপ্ত, পাল ও অন্যান্য |
| সংগ্রহ | মূর্তি, স্বর্ণবস্তু, ব্রোঞ্জ, শিলালিপি ইত্যাদি |
| মালিক | বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় |
| বগুড়া থেকে দূরত্ব | ১৩.৬ কিলোমিটার (প্রায়) |
| ঢাকা থেকে দূরত্ব | ২০৭.২ কিলোমিটার (প্রায়) |
কি কি দেখবেন
প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘরে উত্তর অঞ্চলের ঐতিহাসিক স্থানগুলো যেমন: মহাস্থানগড়, রানী ভবানীপুর, দিনাজপুর, পাহাড়পুর, শেরপুর এলাকা থেকে বিভিন্ন সময়ে উদ্ধার করা প্রাচীন সামগ্রী জাদুঘরে এনে সংরক্ষণ করা হয়েছে। উদ্ধার করা প্রাচীন সামগ্রী গুলোর মধ্যে রয়েছে হাজার বছর আগের সোনা, রুপা, লোহা, ব্রোঞ্জ, পাথর, কাঁসা ইত্যাদি সহ বিভিন্ন মূল্যবান ধাতব পদার্থ ও পোড়ামাটির তৈরি মূর্তি। এছাড়া আরও রয়েছে আত্মরক্ষার জন্য ধারালো অস্ত্র, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সামগ্রী ইত্যাদি।
মহাস্থান প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘরটি ১তলা বিশিষ্ট। জাদুঘরে মহাস্থানগড় ও আশপাশের অঞ্চল থেকে সংগ্রহ করা অসংখ্য প্রত্নবস্তুর নমুনা রয়েছে। তাছারা মৌর্য, গুপ্ত, পাল ও অন্যান্য রাজবংশের অসংখ্য স্মৃতিচিহ্ন যত্নের সঙ্গে এখানে সংরক্ষিত রয়েছে। এখানে আসলে আপনি আরও দেখতে পাবেন, স্বর্ণবস্তু, ব্রোঞ্জের সামগ্রী, মাটি দিয়ে তৈরি খোদাই করা ইট, বিভিন্ন শিলালিপি, পুরানো মাটির মূর্তি, মূল্যবান পাথর, মার্বেল, পোড়া মাটির পুতুল, বাসনপত্র, কালো পাথরের মূর্তি, বেলে পাথরের মূর্তি, মাটি ও অন্যান্য ধাতুর তৈরি বোতাম, নানা ধরনের প্রাচীন অলংকার সহ বহু পুরনো ও মূল্যবান চমৎকার নিদর্শন।
আরও: খেরুয়া মসজিদ
সময়সূচী ও প্রবেশ মূল্য
মহাস্থান প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর এর সাপ্তাহিক বন্ধ রবিবার। গ্রীষ্মকালীন এবং শীতকালীন সময়: দুপুর ১টা থেকে ৩০ মিনিট এবং শুক্রবার ১২:৩০ হতে ২:৩০ মিনিট পর্যন্ত মধ্যাহ্ন বিরতি থাকে। আর সপ্তাহের বাকি দিন গুলো গ্রীষ্মকালীন (১ এপ্রিল থেকে ৩০শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত) সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা আর শীতকালীন (১লা অক্টোবর থেকে ৩১শে মার্চ পর্যন্ত) সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে।
প্রবেশ মূল্য জনপ্রতি ২০ টাকা করে আপনাকে টিকিট সংগ্রহ করতে হবে।
কিভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে বাস: ঢাকা থেকে মহাস্থান প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর এর দূরত্ব প্রায় ২০৭.২ কিলোমিটার। আর বগুড়া থেকে দূরত্ব প্রায় ১৩.৬ কিলোমিটার। ঢাকা থেকে বগুড়া যাওয়ার জন্য অনেগুলো পরিবহন রয়েছে। রাজধানী ঢাকার গাবতলী, মহাখালী, শ্যামলী, আবদুল্লাহপুর ও কল্যাণপুর থেকে হানিফ এন্টারপ্রাইজ, শ্যামলী পরিবহন, এনা, এস আর ট্রাভেলস, মানিক, আল হামরা, নাবিল ইত্যাদি বাস প্রতিদিন বগুড়ার উদ্দেশ্যে বাস ছেড়ে যায়। আপনি সিএনজি নিয়ে বগুড়া জেলা শহর থেকে সরাসরি জাদুঘরে চলে আসতে পারেন। তবে মনে রাখবেন এটি শিবগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত। ঢাকা থেকে বগুড়া যাওয়ার বাস টিকিট সর্বনিম্ন ৩৫০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১৮০০ টাকা পর্যন্ত।
ঢাকা থেকে ট্রেন: ঢাকা থেকে ২টি ট্রেন সার্ভিস রয়েছে। ট্রেন ২টি হল, লালমনি এবং রংপুর এক্সপ্রেস। ২টি ট্রেনই বগুড়া হয়ে যাতায়াত করে। ঢাকা থেকে প্রতিদিন সকাল ৯টায় রংপুর এক্সপ্রেস এবং রাত ১০ টা ১০ মিনিটে লালমনি এক্সপ্রেস কমলাপুর রেলস্টেশন ছেড়ে যায়। তবে, রংপুর এবং লালমনি এক্সপ্রেস ট্রেন যথাক্রমে রবিবার এবং শুক্রবার বন্ধ থাকে।
আরও: ভাসু বিহার
কোথায় থাকবেন
বগুড়া থকার জন্য রয়েছে পাঁচ তারকা হোটেল, মোটেল, কটেজ এবং গেস্ট হাউজ। এখানে থাকার ব্যাবস্থা বেশ উন্নত। আপনি কম খরচেও থাকার জন্য ভালো মানের হোটেল পাবেন। বগুড়ার কিছু উল্লেখযোগ্য হোটেল এর নাম, হোটেল নাজ গার্ডেন, হোটেল মম ইন বগুড়া, হোটেল সিএসটা, পর্যটন মোটেল, আকবরিয়া হোটেল, হোটেল রয়াল প্যালেস, হোটেল সান ভিউ।
টিপস ও সতর্কতা
- প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর বগুড়া জেলা সদর থেকে অনেক দূরে হওয়ায় সাথে করে অবশ্যই প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য মেডিসিন নিয়ে নিবেন।
- আপনি এখানে একা ভ্রমণে আসতে পারেন তবে, সাথে করে ভ্রমণসঙ্গী নিয়ে আসলে আরও ভালো হয়।
- সিএনজি ভাড়া করার সময় বলে নিবেন কতক্ষন আপনি তাকে নিয়ে ঘুরবেন। ভাড়া আগেই দরদাম করে ঠিক করে নিবেন।
- একজন ভ্রমণ কারীর সাথে ক্যামেরা থেকে শুরু করে মোবাইল, ট্যাব, ল্যাপটপ, ড্রোন ইত্যাদি থাকে। তাই সর্বদা সতর্ক থাকুন।
- ভ্রমণে পান করার জন্য সাথে অবশ্যই ফ্রেশ পানি নিয়ে নিবেন।
- ভ্রমণের আগে জেনে নিবেন জাদুঘর খোলা আছে কিনা।
- আপনি মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থী হলে সাথে করে স্টুডেন্ট আইডি কার্ড নিয়ে নিবেন। এতে টিকিট এর মূল্য কিছুটা কম হবে। সেটা ৫০% পর্যন্ত হতে পারে।
ফেসবুক: GoArif
