বাংলাদেশ বিমান বাহিনী জাদুঘর (Bangladesh Air Force Museum), ঢাকার আগারগাঁওয়ে ২০১৪ প্রতিষ্ঠা করা হয়। বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর গৌরবময় ঐতিহ্যের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার জন্য জাদুঘরটি নির্মাণ করা হয়েছিল। জাদুঘরের ভেতরে ঢুকতেই বিশাল চত্বর, সবুজ ঘাস আর সারিসারি সাজানো বিমান চোখে পড়বে। এখানে রাখা আছে মুক্তিযুদ্ধে ব্যাবহার করা বিমান থেকে শুরু করে বিভিন্ন জঙ্গি বিমান, হেলিকপ্টার এবং রাডার। বর্তমানে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী জাদুঘরে ২১টি বিমান ও ৩ টি রাডার রয়েছে। যার মধ্যে ৩টি বিমান ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতীয় বিমান বাহিনী ব্যবহার করে এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশকে তারা উপহার হিসেবে দিয়েছিল।
আরও: বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা
| অবস্থান | আগারগাঁও, বেগম রোকেয়া সরণী, ঢাকা, বাংলাদেশ |
| স্থাপিত | জুন ১৭, ১৯৮৭ |
| উদ্বোধন | ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৪ |
| উদ্বোধন করেন | ইয়ার মার্শাল মোহাম্মদ ইনামুল বারী |
| মালিক | বাংলাদেশ বিমান বাহিনী |
| টিকেট মূল্য | সাধারণ দর্শনার্থীদের ৫০ টাকা এবং সামরিক বাহিনীর সদস্যদের জন্য ২৫ টাকা। |
| সাপ্তাহিক বন্ধ | রবিবার |
| ওয়েবসাইট | bafmuseum.mil.bd |
কি কি দেখবেন
পুরো বিমান বাহিনী জাদুঘর ভিতর কিন্তু পিচঢালাই করা সুন্দর রাস্তা রয়েছে এবং রাস্তার দুই পাশে নানা প্রকারের ফুল গাছ থেকে শুরু করে কাঠবাদাম গাছ পর্যন্ত রয়েছে। সেগুলো ভিতরের পরিবেশ কে আরো দারুণ করে তুলেছে। মাঝখানের জায়গা গুলোতে কচি নরম সবুজ ঘাস রয়েছে। আপনি চাইলে সেখানে বসতে পারবেন। এখানে বিমান বা হেলিকপ্টার এর ভিতরে প্রবেশ করার সুযোগ রয়েছে। তবে সে জন্য আপনাকে এক্সট্রা ৩০ টাকা দিয়ে টিকিট নিতে হবে। আপনি বিমান বা হেলিকপ্টার এর ককপিটে বসে ছবি বা ভিডিও করতে পারবে। ট্রেন ভ্রমনে থেকে শুরু করে বাচ্চাদের জন্য প্রচুর রাইড রয়েছে এখানে।
- বিমান বাহিনী স্কাই পার্ক
- শেলফর্ড কিডস্ জোন
- লেজার লাইট শো
- Boat Club
- ট্রেন ভ্রমণ
- প্রানির মূর্তি
- স্ট্রাইকিংকার
- ব্রেক ড্যান্স
- রেঞ্জার রাইড
জাদুঘরের উল্লেখযোগ্য বিমান এবং হেলিকপ্টার:
- বলাকা: রাশিয়ার তৈরি বাংলাদেশের প্রথম যাত্রীবাহী বিমান বলাকা। ১৯৫৮ সালে বলাকা বিমানটিকে বাংলাদেশে আনা হয়।
- পিটি-৬: চীনের তৈরি এই বিমানটি ১৯৮৫ সালে বাংলাদেশ আসে।
- গ্লাইডার: জার্মানির কাছ থেকে ১৯৮২ সালে গ্লাইডার বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে যুক্ত হয়।
- এয়ার টুওরার: এয়ার টুওরার বিমানটি বাংলাদেশ বিমান বাহিনিতে ট্রেনিংয়ের জন্য ব্যবহার করা হতো। নিউজিল্যান্ডের তৈরি বিমানটিকে ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশে আনা হয়।
- ফুগাসি এম-১৭০: ১৯৬০ সালে ফ্রান্সের তৈরি বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর এই বাহনটি ১৯৯৭ সালে এটি বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে স্থান পায়।
- এয়ারটেক কানাডিয়ান ডিএইচ ৩/১০০০: কানাডার তৈরি এয়ারটেক কানাডিয়ান ডিএইচ ৩/১০০০ বোমারু বিমানটি ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে চট্টগ্রাম সুমদ্র বন্দর এলাকায় সফলভাবে অভিযানে অংশগ্রহণ করে।
- হান্টার বিমান: ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে ভারত বাংলাদেশের ভূমিকে শত্রু মুক্ত রাখতে এই বিমানটি ব্যবহার করে।
এছাড়াও বিমান জাদুঘরে স্থান পেয়েছে এফটি-৫, মিগ-২১, জি নাট, এফ৬ এবং এ৫-১১১।

আরও: নভোথিয়েটার
সময়সূচী ও টিকিট মূল্য
বিমান বাহিনী জাদুঘরের সাপ্তাহিক বন্ধ থাকে প্রতি রবিবার। সপ্তাহের সোম থেকে বৃহস্পতিবার জাদুঘর দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকে। আর শুক্র এবং শনিবার ও জাতীয় ছুটির দিনে সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকে।
জাদুঘরে সাধারণ দর্শনার্থীদের টিকেটের মূল্য ৫০ টাকা, আর বিদেশী দর্শনার্থীদের জন্য ১০০ টাকা এবং সামরিক বাহিনীর সদস্যদের জন্য প্রবেশ মূল্য ২৫ টাকা। এছাড়াও ৩০ টাকা দিয়ে টিকেট কেটে জাদুঘরের বিমান কিংবা হেলিকাপ্টারে উঠার সুযোগ রয়েছে।
কিভাবে যাবেন
বাংলাদেশের যে কোন স্থান থেকে এখানে ভ্রমণের জন্য প্রথমে আপনাকে রাজধানী ঢাকায় আসতে হবে। এরপর ঢাকা যেকোন জায়গা থেকে আগারগাঁও চলে আসুন। রাজধানীর গুলিস্থান থেকে বিহঙ্গ, শিকড়, শিখর, হিমাচল, স্বাধীন এবং আরও অনেক বাসে আগারগাঁও যেতে পারবেন। বিমানবাহিনী যাদুঘর বললেই নামিয়ে দিবে। এছাড়া রামপুরা থেকে হিমাচল, আলিফ পরিবহনেও যেতে পারবেন। কিংবা নিজস্ব পরিবহন বা CNG বা উবার নিয়ে ঢাকার যে কোন জায়গা থেকে সহজে যেতে পারবেন। চাইলে আরও সহজে মেট্রোরেলে করে চলে আসতে পারেন। মতিঝিল কিংবা উত্তরা উত্তর থেকে আগারগাঁও মেট্রো স্টেশন এসে নামলেই জাদুঘরের মেইন গেইট পেয়ে যাবেন।.
আরও: টাকা জাদুঘর
ফেসবুক: GoArif
