মেঘলা পর্যটন কেন্দ্র বা মেঘলা পর্যটন কমপ্লেক্স (Meghla Parjatan Complex) বান্দরবান শহরের প্রবেশদ্বার বান্দরবান-কেরানীহাট সড়কের পাশে পার্বত্য জেলা পরিষদ সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত। সবুজ প্রকৃতি, স্বচ্ছ লেকের পানি আর পাহাড়ের চূঁড়ায় ঢেউ খেলানো নয়নাভিরাম দৃশ্য দেখতে চাইলে চলে যেতে পারেন বান্দরবানের মেঘলা পর্যটন কেন্দ্রে!
পর্যটন কেন্দ্রটি বান্দরবান শহর থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত। সবুজ প্রকৃতি, স্বচ্ছ লেকের পানি আর পাহাড়ের চূঁড়ায় ঢেউ খেলানো নয়নাভিরাম দৃশ্য দেখতে চাইলে চলে যেতে পারেন বান্দরবানের মেঘলা পর্যটন কেন্দ্রে!
| ধরন | দর্শনীয় স্থান, পাহাড় |
| অবস্থান | কেরাণীহাট, বান্দরবান, চট্টগ্রাম |
| বান্দরবান শহর থেকে দূরত্ব | প্রায় ৪ কিলোমিটার |
| ঢাকা থেকে দূরত্ব | প্রায় ৩২২ কিলোমিটার |
| ড্রোন উড়ানো যাবে | হ্যাঁ |
| জনপ্রতি প্রবেশ ফি | ২০ টাকা |
| খোলা থাকে | প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত |
| হেল্পলাইন | +88 01810-667160 |
কি কি দেখবেন
মেঘলা মূলত একটি কৃত্রিম লেক। এটির চারপাশ উঁচু নিচু পাহাড় দিয়ে পরিবেষ্টিত রয়েছে। আপনি যে দিকে তাকাবেন সেদিকেই ঘন সবুজ দেখতে পাবেন আর সাথে রয়েছে লেকের স্বচ্ছ পানি।
মেঘলা পর্যটন কেন্দ্রে রয়েছে দুটি ঝুলন্ত ব্রিজ। এছাড়া আপনার ভ্রমণ আনন্দকে আরও বাড়িয়ে তুলতে রয়েছে সাফারি পার্ক, শিশুপার্ক, চিড়িয়াখানা, চা বাগান, ক্যাবল কার, প্যাডেল বোট ও উন্মুক্ত মঞ্চ।
আরও: স্বর্ণ মন্দির
প্রবেশ মূল্য
মেঘলা পর্যটন কমপ্লেক্সে বা পর্যটন কেন্দ্রে প্রবেশ ফি জনপ্রতি মাত্র ২০ টাকা। এছাড়া গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। গাড়ির পার্কিং বাবদ ১৫০ – ২০০ টাকা নিতে পারে।
কিভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে: ঢাকা বা আপনি যে স্থান থেকে মেঘলা ভ্রমণে যেতে চান তার জন্য প্রথমে আপনাকে বান্দরবান (Bandarban) শহরে যেতে হবে। ঢাকা কলাবাগান, সায়েদাবাদ বা ফকিরাপুল থেকে রাত ১০ টা বা ১১:৩০ টার দিকে শ্যামলি, হানিফ, ইউনিক, এস আলম, ডলফিন ইত্যাদি বাসে বান্দরবান যেতে পারেন। ভাড়া নিতে পারে ৫৫০ টাকা (নন এসি) ৯৫০ (এসি) [ভাড়া কম বেশি হতে পারে]।
চট্টগ্রাম থেকে: বদ্দারহাট থেকে বান্দারবানের উদ্দেশে পূবালী ও পূর্বানী পরিবহনের বাস যায়। এসব বাসে জনপ্রতি ভাড়া নিতে পারে মাত্র ২২০ টাকা। বাকি অংশ টুকু লোকাল বাসে বা টেক্সি রিজার্ভ অথবা ল্যান্ড ক্রোজার, ল্যান্ড রোভার ও চাঁদের গাড়ি নিয়ে যেতে পারেন। ভাড়া: বদ্দারহাট থেকে বান্দারবান মাত্র ২২০ টাকা। বান্দরবান বাস ষ্টেশন থেকে মেঘলা লোকাল বাস: ১০ থেকে ১২ টাকা, টেক্সি রিজার্ভ: ১০০ থেকে ১২০ টাকা ; ল্যান্ড ক্রোজার, ল্যান্ড রোভার ও চাঁদের গাড়ী ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা। [ভাড়া কম বেশি হতে পারে]।
ট্রেনে: ট্রেনে মেঘলা যেতে চাইলে প্রথমে আপনাকে সোনার বাংলা, সুবর্ণ এক্সপ্রেস, তূর্ণা নিশিতা, মহানগর প্রভাতি কিংবা মহানগর গোধূলি ট্রেনে করে চট্রগ্রাম যেতে হবে। ভাড়া: শ্রেণী ভেদে ট্রেন ভাড়া নিবে ৩৫০ থেকে ১৫০০ টাকা। [ভাড়া কম বেশি হতে পারে]।
বিমানে: আকাশপথ বা বিমানে ভ্রমণে যেতে চাইলে ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, নভো এয়ার, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স, এয়ার অ্যাস্ট্রা ইত্যাদি সরাসরি চট্রগ্রাম ফ্লাইট পরিচালনা করে থাকে। আকাশপথে চট্রগ্রাম এসে সড়কপথে উপরে উল্লেখিত উপায়ে বান্দরবান যেতে পারেন।.
কোথায় থাকবেন
মেঘলা পর্যটন কমপ্লেক্সে রাত্রিযাপনের জন্য জেলা প্রশাসনের রেস্ট হাউজ ভাড়া নিতে পারেন। রেস্ট হাউজে ৪ টি কক্ষ রয়েছে যার প্রতিটির জন্য ভাড়া দিতে হবে ২০০০ টাকা করে। মেঘলা থাকার জন্য হোটেল ভাড়ার একটা ধারণা দেয়া হল: ফোর স্টার মানের সিঙ্গেল রুমের ভাড়া পড়বে ৩০০ টাকা, ডাবল রুম ৬০০ টাকা এবং এসি রুম ১২০০ টাকা। [ভাড়া কম বেশি হতে পারে]
থ্রি স্টারে মানের হোটেলে থাকতে চাইলে নন-এসি ফ্ল্যাট ২৫০০ টাকা এবং এসি ফ্ল্যাট ৩০০০ টাকায় পেতে পারেন। হোটেল প্লাজা বান্দরবানে সিঙ্গেল রুমের ভাড়া ৪০০ টাকা, ডাবল রুম ৮৫০ টাকা ও এসি রুম ১২০০ টাকা হতে পারে। হলিডে ইনে সাধারণ রুম ১০০০ টাকা, নন-এসি ১৩০০ টাকা এবং এসি রুম ১৫০০ টাকা হতে পারে। [ভাড়া কম বেশি হতে পারে]
কোথায় খাবেন
পর্যটন কমপ্লেক্সে পর্যটকদের জন্য মাঝারি মানের অনেক গুলো হোটেল রয়েছে। আপনার বাজেটের উপর নির্ভর করে পছন্দ মত হোটেলে খাবার খেতে পারেন।
আশেপাশের আরও দর্শনীয় স্থান
মেঘলা পর্যটন কেন্দ্রের আশেপাশে বেশ কিছু দর্শনীয় স্থান রয়েছে। সময় পেলে এই স্থান গুলো ঘুরে আসতে ভুলবেন না। আপনার ভ্রমণ হউক নিরাপদ এবং আনন্দময়।
- নীলাচল
- স্বর্ণমন্দির
- নীলগিরি
- চিম্বুক পর্যটন কেন্দ্র
- শৈল প্রপাত
মেঘলা নিয়ে ভ্রমণ জিজ্ঞাসা
মেঘলা পর্যটন কমপ্লেক্স কবে বন্ধ থাকে?
মেঘলা পর্যটন কমপ্লেক্সের সাপ্তাহিক কোন বন্ধ নেই। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খোলা থাকে।
প্রবেশ ফি কত?
মেঘলা জনপ্রতি প্রবেশ ফি ২০ টাকা।
ফেসবুক: GoArif
