মাধবপুর লেক (Madhabpur Lake), বাংলাদেশের সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নে অবস্থিত। চা বাগানে চাষের ও অন্যান্য বিভিন্ন কারণে ব্যবহারের জন্য প্রচুর পানির প্রয়োজন হয় বলে পাবত্য অঞ্চলের বৃষ্টিবহুল এলাকাগুলোই চা চাষের জন্য সর্ব্বোৎকৃষ্ট।
কিন্তু, এসব অঞ্চলে বৃষ্টির পরিমাণ অধিক হলেও ঢালু ভূমির কারণে পানি অধিক সময় অবস্থান করেনা বিধায় পানির প্রয়োজনে বাগান কর্তৃপক্ষ একাধিক জলাধার তৈরী করেন, যা প্রায় প্রতিটি চা বাগানের ক্ষেত্রেই অতি স্বাভাবিক ব্যাপার এবং স্থানীয় চা শ্রমিকরা এসব হ্রদকে “ডাম্প” বলে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায়, মাধবপুর চা বাগান কর্তৃপক্ষ ১৯৬৫ সালে বাগানের মধ্যস্থিত তিনটি টিলাকে বাঁধ দিয়ে পানি জমিয়ে রেখে গড়ে তোলেন মাধবপুর হ্রদ।
আরও: শ্রীমঙ্গল
| অবস্থান | কমলগঞ্জ উপজেলা, মৌলভীবাজার, সিলেট |
| আয়তন | প্রায় ৫০ একর এবং দৈর্ঘ্যে ৩ কিলোমিটার; প্রস্থ স্থান বিশেষে ৫০ হতে ৩০০ মিটার। |
| সময় | প্রতিদিন সকাল ৯টা হতে সন্ধ্যা ৬টা |
| লেক তৈরি করা হয় | ১৯৬৫ সালে |
কি কি দেখবেন
মাধবপুর লেককে ঘিরে রয়েছে ছোট-বড় পাহাড় ও টিলা আর টিলায় রয়েছে সারি সারি চা বাগান। এটি ন্যাশনাল টি কোম্পানির মালিকানাধীন মাধবপুর চা বাগানের ১১ নম্বর সেকশনে অবস্থিত মাধবপুর লেকের শোভা বাড়ায় সাদা ও নীল পদ্ম ফুল। এখানে শীতকালে অনেক অতিথি পাখি আসে। লেকের চারপাশ ঘিরে অসংখ্য নীল পদ্ম আর বেগুনী শাপলা ফুল। দেখতে অসাধারণ লাগে। এছাড়া আরও রয়েছে গোলপাতা আর শালুকের ঝাড়। টিলার ঝোপঝাড়ে আছে নানা বর্ণের বুনো ফুল, যাদের মধ্যে ভাঁট ফুলই প্রধান। মাধবপুর লেক ঘুরে আপনার হাতে সময় থাকলে চলে যেতে পারেন ৫ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহি হামিদুর রহমানের স্মৃতিসৌধ দেখতে।
কিভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে মাধবপুর লেকের দূরত্ব ১১৬ কিলোমিটার এবং মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত। ঢাকা থেকে শ্রীমঙ্গল হয়ে সিলেটের পথে অনেক পরিবহণ যাতায়াত করে, হানিফ পরিবহন, সোহাগ পরিবহন, টি আর ট্র্যাভেলস, শ্যামলী পরিবহন ইত্যাদি। এসি/নন-এসি এসব বাসের ভাড়া নিতে পারে ৬০০ টাকা থেকে ১২০০ টাকা আর ঢাকা থেকে রেলপথে সিলেট যেতে চাইলে পারাবত এক্সপ্রেস, কালিনী এক্সপ্রেস, জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস কিংবা উপবন এক্সপ্রেস ট্রেনে শ্রীমঙ্গল আসতে পারবেন। আসনভেদে ট্রেনের টিকিটের মূল্য নিতে পারে ৩০০ টাকা থেকে ১১০০ টাকা। এছারা বিমানে যেতে চাইলে ঢাকা থেকে সিলেটে এসে সড়ক পথে শ্রীমঙ্গলে যেতে পারবেন। বিমানের ভাড়া নিতে পারে ৩৫০০ টাকা থেকে ৬০০০ টাকা।
কোথায় খাবেন
মাধবপুর লেকের আশে পাশে খাবারের তেমন কোন ব্যবস্থা নেই তবে, ছোট দোকান আছে সেখানে হালকা খাবার খেতে পারবেন। শ্রীমঙ্গল শহরে নানা ধরণের রেস্তোরা আছে। যেমন, ক্যাফে শ্রীমঙ্গল এন্ড চাইনিজ, মেজবান বাড়ি রেস্টুরেন্ট, কাচ্ছি কিং অনেক জনপ্রিয়। এই রেস্টুরেন্টগুলোতে ভর্তা ভাজিসহ দেশি ও বিদেশী নানা পদের খাবার খেতে পারবেন। এখানে পেট ভরে খেয়ে নিতে পারেন।
কোথায় থাকবেন
একদিনের ভ্রমণের জন্য এইস্থানটি জনপ্রিয় তবে, আপনি থাকতে চাইলে শ্রীমঙ্গলে থাকার জন্য ভাল মানের হোটেল ও রিসোর্টের মধ্যে রয়েছে। যেমন, গ্র্যান্ড সুলতান টি রিসোর্ট এন্ড গলফ (পাঁচ তারকা), রেইন ফরেস্ট রিসোর্ট, টি টাউন রেস্ট হাউজ, টি রিসোর্ট, নিসর্গ ইকো রিসোর্ট, হোটেল প্লাজা ইত্যাদি।
টিপস ও সতর্কতা
- বৃষ্টির সময় গেলে পাহাড়ে উঠা বা নামার সময় সতর্ক থাকবে।
- একা একা গহীনে যাবেন না।
- যেখানে সেখানে ময়লা ফেলবেন না।
- শীতকাল ছাড়া অন্য সময়ে ভ্রমণের ক্ষেত্রে জোঁক ও সাপের থেকে সতর্ক থাকুন।
- কম খরচে ভ্রমণ করতে চাইলে রিজার্ভ গাড়ি না করে শ্রীমঙ্গল-ভানুগাছ রোডের লোকাল সিএনজি অথবা বাস দিয়ে যাতায়াত করতে পারেন।
- ভ্রমণ শেষে আসার সময় চা পাতা কিনে নিয়ে আসতে পারেন।
ফেসবুক: GoArif
