GoArif
ভ্রমণে নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ১০টি টিপস। দেখুন এখানে
দিয়াবাড়ি ভ্রমণ - উত্তরা - GoArif

দিয়াবাড়ি ভ্রমণ – উত্তরা, ঢাকা

দিয়াবাড়ি ভ্রমণ – উত্তরা, ঢাকা গিয়েছিলাম ২০১৬ সালের ১৩ ডিসেম্বর। ভার্সিটির কম্পিউটার ডিপার্টমেন্ট এর বন্ধুরা মিলে উত্তরা দিয়াবাড়ি গিয়ে ছিলাম।

হে ভ্রমণ প্রিয় বন্ধু, কেমন আছেন আপনি? আশাকরি খুবই ভালো আছেন।

আজকে আমি আপনার সাথে আমার দিয়াবাড়ি ভ্রমণ নিয়ে বিস্তারিত বলব। চলুন শুরু করা যাক…।

একনজরে দিয়াবাড়ি উত্তরা

ভ্রমণ স্থানের নামঃদিয়াবাড়ি
অবস্থানঃউত্তরা ১৫ নম্বর সেক্টর – ঢাকা
কাশফুল ফুটার সময়শরৎকাল
পাশের নদীতুরাগ নদীর একটি শাখা
বার্ষিক পরিদর্শক৪৫৫০০০ প্রায়

ভ্রমণের প্রস্তুতিঃ

ভার্সিটির বন্ধুরা অনেকদিক ধরেই প্ল্যান করছিলাম কাছে কোথাও ভ্রমণে যাব। কিন্তু আমাদের প্ল্যান করা হয় ঠিকই, কিন্তু যাওয়া আর হয়ে উঠে না।

আজ যাব তো কাল যাব, এইসব করতে করতে আমাদের প্রায় ১মাস এর মত চলে গেল। একদিন ক্লাস শেষে সবাই বসলাম ট্যুর প্ল্যান করার জন্য।

বসে আলোচনা হল আমারা উত্তরা দিয়াবাড়ি ভ্রমণে যাব। কিন্তু সমস্যা হল, সবাই যেতে পারবে না।

যারা যাবে না, তাদের ভিতরে অনেকে ইতিমধ্যে দিয়াবাড়ি ভ্রমণ করে এসেছে। আবার অনেকের অফিস সমস্যা থেকে শুরু করে নানা সমস্যা।

সবশেষে আমরা ৭ থেকে ১০ জন এর মত হলাম যারা দিয়াবাড়ি যাব।

১২ই ডিসেম্বর সিদ্ধান্ত হল ১৩ই ডিসেম্বর আমরা দিয়াবাড়ি ভ্রমণে যাচ্ছি।

আরও পড়ুনঃ সোনারগাঁও লোকশিল্প জাদুঘর ভ্রমণ

ভ্রমনের দিনঃ

ভার্সিটির ছাত্ররা ভোর রাতে ঘুমিয়ে দুপুরের দিকে ঘুম থেকে উঠে! এটা নাকি একটা আর্ট!!

তো, আর্টের বন্ধুরা ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে বাসা থেকে বের হতে দুপুর গড়িয়ে দিলেন। আমরা মিরপুর থেকে উত্তরা দিয়াবাড়ি যাচ্ছি।

দিয়াবাড়ি ভ্রমণ

আমরা মিরপুর ১১.৫ বা পূরবী সিনেমা হল থেকে দিয়াবাড়ির উদ্দেশ্যে বাসে উঠলাম। বাসে উঠে আমরা সিট পেলাম বাসের একেবারে পিছনের দিকে।

বাসে কিছু বন্ধু গল্প করছিল, কেউ ছবি তুলছিল, কেউবা হেডফোন লাগিয়ে গান শুনছিল। এদিকে বাস জ্যাম ঠেলে এগিয়ে চলছিল দিয়াবাড়ির দিকে।

দিয়াবাড়ি ভ্রমণ - উত্তরা - GoArif

প্রায় ১ঘন্টা পর আমাদের বাস উত্তরার হাউজ বিল্ডিং বাস স্ট্যান্ডে এসে থামল। এখনও আমরা দিয়াবাড়ি এসে পৌছাইনি।

হাউজ বিল্ডিং থেকে দিয়াবাড়ি যাওয়ার জন্য রিক্সা অথবা লেগুনা করে যেতে হয়। আমরা একটা লেগুনা ভাড়া নিলাম।

লেগুনায় উঠে বন্ধু হাসান গান ধরল…। আমরাও ওর সাথে গানে তাল মিলালাম। এর ফাঁকে ফয়সালের মজার মজার গল্প আমাদেরকে হাসিয়ে চলছিল। আর, জাবেদ ওর সাথে নিয়ে আসা ক্যামেরা দিয়ে আমাদের ছবি তুলছিল।

আমরা বেশ মজা করতে করতে দিয়াবাড়ি পৌছালাম।

দিয়াবাড়ি বটতলা ঘাট

আমাদের লেগুনা দিয়াবাড়ি বটতলা ঘাটে এসে থামল। এই প্রথম আমি দিয়াবাড়ি এসেছি। লেগুনা থেকে নেমেই চারপাশে তাকিয়ে আমি মুগ্ধ।

দিয়াবাড়ি ভ্রমণ - উত্তরা - GoArif
বাদিক থেকেঃ আমি, ফয়সাল এবং আবুল হাসান।

খুবই চমৎকার একটি জায়গা। চারপাশ নিরিবিলি। আশেপাশে কয়েকটি ছোট ছোট দোকান রয়েছে। একজন জাল্মুড়ি ওয়ালা জাল্মুড়ি বিক্রয় করছে। তাকে ঘিরে রেখেছে কয়েকজন। মনে হয় তারাও জাল্মুড়ি নিতে এসেছে।

জাল্মুড়ি ওয়ালার ঠিক পাশেই একজন রাইফেল হাতে তার তীক্ষ্ণ দৃষ্টি দিয়ে সামনের দিকে থাকা বেলুন গুলোর দিকে তাক করে রেখেছে।

আমি মন দিয়ে ওইদিকে তাকিয়ে আছি। পারবে তো ছেলেটা, তার টার্গেট করা বেলুনটা ফাটাতে!

হঠাৎ হাসান আমাকে টেনে নিয়ে বলল, ছবি তুলব চল…। আমি হাসান এর দিকে তাকাতেই পিছন দিকে বেলুন ফাটার শব্দ পেলাম।

দিয়াবাড়ি বটতলার নিচে দাড়িয়ে আমরা ছবি তুললাম।

দিয়াবাড়ি ভ্রমণ - উত্তরা - GoArif
হাসান, ফয়সাল এবং আমি।

দিয়ারাড়িতে প্লেনের দেখা

বটতলা দাড়িয়ে আমাদের ছবি তুলা শেষ হয়নি তখনও, দূর থেকে একটি প্লেন চুই করে আমাদের মাথার ওপর দিয়ে চলে গেলো।

এই প্রথম প্লেন এতো নিচ থেকে দেখার অভিজ্ঞতা হল আমার। কিন্তু একি!, আরেকটি প্লেন! এভাবে করে যতক্ষণ আমি দিয়াবাড়ি ছিলাম, অনেক বিমান এর দেখা পেয়েছি।

বিমান এতো নিচ থেকে দেখার ইচ্ছা থাকলে যে কেউ এটার জন্য হলেও দিয়াবাড়ি ভ্রমণে আসতে পারেন।

আরও পড়ুনঃ জাফলং ভ্রমণ, সিলেট

দিয়াবাড়ি পার্ক

এরপর আমরা দিয়াবাড়ি পার্ক -এর দিকে হেটে চললাম। দিয়াবাড়ির ভিতরের রাস্তাগুলো সম্পূর্ণ পিচঢালা। রাস্তার পাশেই কাশবন।

দিয়াবাড়ি ভ্রমণ - উত্তরা - GoArif

কি অপরূপই না দেখতে। পিচঢালা রাস্তা দিয়ে আমরা দিয়াবাড়ি পার্ক এর দিকে হেটে চললাম।

পার্কে রয়েছে নাগর দোলা থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাইড। সেগুলোতে আপনি ইচ্ছা করলেই চড়তে পারবেন। তবে তার জন্য আপনাকে টিকিট নিতে হবে। বিভিন্ন রাইডের ভিন্ন ভিন্ন টিকিট।

দিয়াবাড়ি কাশফুল

দিয়াবাড়িতে ঘুরতে আসার অন্যতম কারন গুলোর মধ্যে দিয়াবাড়ি কাশফুল একটি। এখানে অনেকেই এই কাশফুল দেখতে আসেন।

তবে কাশফুল দেখতে চাইলে আপনাকে শরৎকালে আসতে হবে। কারন, কাশফুল
শরৎকালে ফুটে।

দিয়াবাড়ি ভ্রমণ - উত্তরা - GoArif

শোঁ শোঁ বাতাসে কাশফুল দুলে উঠে। এটাকে অনেকে তার প্রিয়ার চুলের সাথে তুলনা করে থাকে।

যাক আমরা সে কবি মুডে না যাই।

কাশবনে ঘুরতে আসলে ছবি তুলে নি এরকম মানুষের সংখ্যা খুবই কম। পিছনে কাশবন আপনি একটা হাসি হাসি মুড নিয়ে ছবি তুলছেন।

দারুন না ব্যাপারটা? ফেসবুকে ছবি দিলে কয়টা লাইক আসবে ভাবা যায়!

আরও পড়ুনঃ এন্টারপ্রাইজ চ্যালেঞ্জ অ্যাওয়ার্ড ২০১০ প্রতিযোগিতায় চট্রগ্রাম ভ্রমণ

দিয়াবাড়ি নদী

দিয়াবাড়িতে আপনি তুরাগ নদীর একটি শাখা দেখতে পারবেন। তুরাগ নদীর শাখার সংযোগ স্থলে রয়েছে একটি ব্রিজ। ব্রিজটি খুবই সুন্দর।

দিয়াবাড়ি ভ্রমণ - উত্তরা - GoArif
জাবেদ, হাসান এবং ফয়সাল

নদীর একপাশে বেশকিছু ফুচকা, চটপটির ও অন্যান্য শুকন খাবারের দোকান রয়েছে। নদীর সাথেই বসার মত রয়েছে অনেকগুলো ছোট ছোট টুল। আপনি টুলে বসে দিয়াবাড়ির চমৎকার ভিউ পাবেন। এখান থেকে উঠে আসতে ইচ্ছে করবে না আপনার।

দিয়াবাড়ি ভ্রমণ - উত্তরা - GoArif

দিয়াবাড়িতে নৌক ভ্রমণ

দিয়াবাড়িতে আপনি চাইলে নৌকয় চড়তে পারবেন। তবে নৌক ভাড়াটা আমার কাছে একটু বেশি মনে হয়েছে।

তুরাগ নদীর এই শাখায় আপনি অনেক গুলো ছোট ছোট নৌক দেখতে পাবেন। আপনি নির্দিষ্ট পরিমান টাকা দিয়ে নিদিষ্ট সময়ের জন্য নৌক ভ্রমণ করতে পারবেন।

এক এক নৌকয় ২,৪ জন করে চড়তে পারবেন। আমাদের হাতে সময় কম থাকায় আমরা নৌকতে চড়িনি।

দিয়াবাড়ি উওরা

আমরা অনেক সময় ধরে দিয়াবাড়ি ঘুরে ঘুরে দেখলাম। এইকথা বলতেই হবে একদিনের ভ্রমণের জন্য জায়গাটা খুবই সুন্দর।

দিয়াবাড়ি ভ্রমণ - উত্তরা - GoArif

আপনিও চাইলে চলে আসতে পারেন ভ্রমণের জন্য। এখানে ভ্রমণের জন্য ১দিনই যথেষ্ট।

আরও পড়ুনঃ জাতীয় স্মৃতিসৌধ ভ্রমণ

উপসংহার

সব শেষে আমাদের দিয়াবাড়ি কে বিদায় জানানো পালা। দিয়াবাড়ি ভ্রমণে আমাদের খুবই দারুন একটি অভিজ্ঞতা হয়েছে। সময়টা কেটেছে দারুন। আমি ভুলবনা এই দিয়াবড়িকে।

দিয়াবাড়ি ভ্রমণ - উত্তরা - GoArif
ভ্রমণ শেষে খাওয়া দাওয়া করলাম।

কোন ভ্রমণই আমার শেষ হয়ে শেষ হয় না। বারংবার আমার সেই স্থানে ছুটে যেতে ইচ্ছে করে। কারন, আমি যে প্রকৃতি ভালবাসি। প্রকৃতিও আমায় ভালবাসে।

আজ আপাতত বিদায়…।


দিয়াবাড়ি নিয়ে আরও ছবি দেখুন এখানে

আমার ফেসবুকঃ GoArif | টুইটারঃ GoArif

আরিফ হোসেন

আমি একজন ভ্রমণ পীপাষু মানুষ। ভ্রমণ করতে আমার খুবই ভালো লাগে। তাইতো সময় পেলে ভ্রমণে ছুটে যাই। কোন ভ্রমণই আমার শেষ হয়ে শেষ হয় না। বারংবার আমার সেই স্থানে ছুটে যেতে ইচ্ছে করে। কারন, আমি যে প্রকৃতি ভালবাসি।

২ টি মন্তব্য

আমাদের মন্তব্য নীতি অনুযায়ী পরিচালনা করা হয় এবং আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। দয়া করে নাম দেয়ার ক্ষেত্রে কীওয়ার্ড ব্যবহার করবেন না। আসুন একটি ব্যক্তিগত এবং অর্থপূর্ণ কথোপকথন হয়ে যাক 😊 ।





মোবাইল ভার্সন দেখুন এখানে

সোশ্যাল মিডিয়ায় আমি!

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমাকে অনুসরণ এবং আমার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। নিচের সোশ্যাল মিডিয়া গুলোতে আমি খুবই এক্টিভ থাকি।

জরিপ চলছে

ভ্রমণে দীর্ঘ যাত্রায় আপনি কোনটিতে বেশী সাচ্ছন্দ বোধ করেন?


রেজাল্ট দেখুন

Loading ... Loading ...

আরিফ হোসেন

আমি একজন ভ্রমণ পীপাষু মানুষ। ভ্রমণ করতে আমার খুবই ভালো লাগে। তাইতো সময় পেলে ভ্রমণে ছুটে যাই। কোন ভ্রমণই আমার শেষ হয়ে শেষ হয় না। বারংবার আমার সেই স্থানে ছুটে যেতে ইচ্ছে করে। কারন, আমি যে প্রকৃতি ভালবাসি।

আর্কাইভ