ঢাকার কাছে সুন্দর ২০টি রিসোর্ট নিয়ে আপনার ভ্রমণ পরিকল্পনা করতে পারেন। নাগরিক জীবনের একঘেয়েমি আর যান্ত্রিকতা থেকে মুক্তি পেতে মন চায় কিছুটা সময়ের জন্য প্রকৃতির কোলে হারিয়ে যেতে। কিন্তু সময় ও দূরত্বের সীমাবদ্ধতায় সবসময় দূরে কোথাও যাওয়া সম্ভব হয়ে ওঠে না। এমন পরিস্থিতিতে ঢাকার আশেপাশে অবস্থিত রিসোর্টগুলো হতে পারে আপনার জন্য পারফেক্ট সমাধান। পরিবার-পরিজন কিংবা বন্ধুবান্ধব নিয়ে একদিন বা সপ্তাহান্তের ছুটিতে ঘুরে আসতে পারেন এসব মনোরম স্থান থেকে।
এই লেখায় আমরা তুলে ধরছি ঢাকার কাছে অবস্থিত সেরা ২০টি রিসোর্টের বিস্তারিত তথ্য। রিসোর্টগুলো নির্বাচনে বিবেচনা করা হয়েছে ভ্রমণকারীদের রিভিউ, গুগল রেটিং, অবস্থান, খরচ, সুযোগ-সুবিধা এবং নিরাপত্তার বিষয়গুলো। আশাকরি এগুলো আপনার ভ্রমণকে আরও উপভোগ্য করে তুলবে। চলুন শুরু করা যাক…
১. সারাহ রিসোর্ট (Sarah Resort)
রাজধানী ঢাকার কাছে পরিবার-পরিজন কিংবা প্রিয় মানুষের সাথে আনন্দময় সময় কাটাতে সারাহ রিসোর্ট একটি আদর্শ গন্তব্য। গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুর ক্যান্টনমেন্টের পাশে রাজাবাড়ি এলাকায় প্রায় ২০০ বিঘা জমি নিয়ে নির্মিত এই রিসোর্ট বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম বিলাসবহুল ও আধুনিক রিসোর্ট। পশ্চিম পাশে ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান এবং পূর্ব দিকে শীতলক্ষা নদীর মাঝখানে অবস্থিত এই রিসোর্টটি সম্পূর্ণ প্রকৃতিবান্ধব এবং আধুনিক সকল সুযোগ-সুবিধায় সমৃদ্ধ।

নান্দনিক বহুতল আবাসিক ভবন, খোলামেলা প্রাকৃতিক পরিবেশ, বিশাল লেক এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশের জন্য সারাহ রিসোর্ট সবার কাছে জনপ্রিয়। বিশেষ করে শিশুদের প্রতি যত্নবান দৃষ্টিভঙ্গি এবং পরিবার-বান্ধব পরিবেশ এটিকে করেছে অনন্য। রিসোর্টের প্রতিটি কোণে রয়েছে সবুজের সমারোহ, যা দর্শনার্থীদের মন প্রফুল্ল করে তোলে।
আবাসন ব্যবস্থা:
আধুনিক স্থাপত্য শৈলীতে নির্মিত সারাহ রিসোর্টে বিভিন্ন বিভাগ এবং সুবিধা সহ কক্ষ রয়েছে। প্রেসিডেন্সিয়াল ভিলা, প্রিমিয়াম ভিলা, ট্রি হাউস, ওয়াটার ফ্রন্ট ভিলা, হাউস বোট, লেকসাইড ভিলা, সুপিরিয়র কিং ও সুপিরিয়র টুইন সুবিধা সম্পন্ন ওয়াটার লজ এবং রাজা ভিউ টাওয়ার থেকে শুরু করে ডিলাক্স কিং ও ডিলাক্স টুইন সুবিধার মাড হাউজ পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। প্রতিটি কক্ষ অত্যাধুনিক প্রযুক্তি এবং আরামদায়ক ফার্নিচার দিয়ে সজ্জিত।
সুযোগ-সুবিধা:
- ৬টি বাংলো ও ওয়াটার লজ
- রাজা ভিউ টাওয়ার – চারপাশের মনোরম দৃশ্য উপভোগের জন্য
- আধুনিক সুইমিং পুল ও জাকুজি
- ৯ডি মুভি থিয়েটার ও ভিআর গেমস
- সুসজ্জিত মিনি বার ও জিম
- মিনি চিড়িয়াখানা – বাচ্চাদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ
- কায়াকিং, বোট রাইডিং ও সাইকেল রাইডিং
- বিশেষভাবে সাজানো কিডস জোন
- বিভিন্ন ইনডোর ও আউটডোর গেমস
- বিনামূল্যে ব্রেকফাস্ট, এসি রুম, ফ্রি ওয়াইফাই
- ২৪ ঘন্টা চা/কফি সার্ভিস
- লন্ড্রি সুবিধা ও স্যাটেলাইট টিভি
- কনফারেন্স হল ও ব্যাংকুয়েট সুবিধা
- ফানুস ও ঘুড়ি ওড়ানোর সুযোগ
রুম ভাড়া: ৮,৫০০ থেকে ৬৬,০০০ টাকা (১০% সার্ভিস চার্জ ও ১৫% ভ্যাট অতিরিক্ত)
ডে লং প্যাকেজ: জনপ্রতি ৩,০০০-৩,৮০০ টাকা (সকাল ৯টা – সন্ধ্যা ৬টা)। প্যাকেজে অন্তর্ভুক্ত: লাঞ্চ, সুইমিং পুল, জিম, বোটিং ও ফ্রি ওয়াইফাই।
বিশেষত্ব: জন্মদিন, বিবাহবার্ষিকী, পিকনিক এবং যেকোনো ধরনের কর্পোরেট মিটিং-সেমিনার আয়োজনের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে।
যোগাযোগ:
- ঠিকানা: রাজাবাড়ি, রাজেন্দ্রপুর, শ্রীপুর, গাজীপুর
- মোবাইল: 01332556276-81
- ইমেইল: [email protected]
২. ছুটি রিসোর্ট (Chuti Resort)
গাজীপুরের সুকুন্দি গ্রামে ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান সংলগ্ন প্রায় ৫০ বিঘা জমিতে যত্ন সহকারে গড়ে তোলা হয়েছে ছুটি রিসোর্ট। এই রিসোর্টের বিশেষত্ব হলো এর খাঁটি গ্রামীণ আবহ এবং প্রকৃতিঘেঁষা পরিবেশ। শহরের যান্ত্রিক জীবন থেকে সত্যিকারের অবকাশ চাইলে এটি আপনার প্রথম পছন্দ হতে পারে।

রিসোর্টটি এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যেন আপনি গ্রামবাংলার সেই হারিয়ে যাওয়া দিনগুলোর স্বাদ পাবেন। রাতে পাখির কলরব, শিয়ালের হাঁক, বাঁদুড়ের ওড়াউড়ি, জোনাকির আলো আর ঝিঁঝিঁ পোকার গুঞ্জন – সবকিছু মিলিয়ে এক অনন্য অভিজ্ঞতার সৃষ্টি হয় এখানে। সংরক্ষিত বৃক্ষের বনের মাঝে তাঁবু টানানোর সুযোগ এই রিসোর্টের একটি বিশেষ আকর্ষণ।
আবাসন ব্যবস্থা:
ছুটি রিসোর্টে থাকার জন্য রয়েছে ২১টি এসি ও নন-এসি কটেজ, যেগুলো আধুনিক সুবিধা সহ সাজানো। এছাড়া রয়েছে ছনের তৈরি ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ ঘর, যেখানে থেকে আপনি পাবেন গ্রামবাংলার প্রকৃত অনুভূতি।
সুযোগ-সুবিধা:
- ২১টি এসি ও নন-এসি কটেজ
- ছনের তৈরি ঐতিহ্যবাহী ঘর
- নৌ ভ্রমণ ও মাছ ধরার ব্যবস্থা
- বার্ড হাউস – পাখি পর্যবেক্ষণের জন্য
- ভেষজ গার্ডেন – ঔষধি গাছের সংগ্রহশালা
- ফল, সবজি ও ফুলের বিশাল বাগান
- আধুনিক মানের রেস্টুরেন্ট
- দুটি পিকনিক স্পট – বড় দলের জন্য
- গ্রামীণ পিঠাপুলির বিশেষ আয়োজন
- দুটি খেলার মাঠ
- শিশুদের জন্য বিশেষ কিডস জোন
- ব্যাডমিন্টন, ফুটবল ও ক্রিকেট সুবিধা
- কনফারেন্স হল
- মৌসুমি ফল উপহার (অতিথিদের জন্য)
বিশেষ সুবিধা:
সকালের নাস্তায় চালের রুটি, চিতই পিঠা, ডাল ভুনা, সবজি ও মুরগির গোশত পরিবেশন করা হয় – যা গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী খাবারের স্বাদ দেয়। রিসোর্টে আগত অতিথিদের মৌসুমি ফল দিয়ে স্বাগত জানানো হয়।
রুম ভাড়া: ৬,০০০ থেকে ১৭,০০০ টাকা (মৌসুম ও চাহিদা অনুযায়ী)
যোগাযোগ:
- ঠিকানা: শুকুন্দি, আমতলি, জয়দেবপুর, গাজীপুর
- মোবাইল: 01777114488, 01777114499
- ইমেইল: [email protected]
৩. ঢালী’স আম্বার নিবাস রিসোর্ট
ঢাকা থেকে মাত্র ৩০ মিনিটের দূরত্বে মুন্সিগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান উপজেলার বাহেরকচি গ্রামে অবস্থিত ঢালী’স আম্বার নিবাস রিসোর্ট আধুনিকতা এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অনন্য সমন্বয়। প্রায় ১০০ বিঘা জমি নিয়ে গড়ে ওঠা এই রিসোর্ট তার দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা এবং অত্যাধুনিক সুবিধার জন্য বিখ্যাত।

এই রিসোর্টের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো দেশের সবচেয়ে বড় সুইমিং পুল, যা পরিবারের সকল সদস্যের জন্য উপভোগ্য। স্থাপত্যশৈলীতে ইউরোপীয় ছোঁয়া এবং বাংলাদেশের ঐতিহ্যের মিশ্রণ রয়েছে এখানে। রিসোর্টের চারপাশে সুবিন্যস্ত বাগান, কৃত্রিম লেক এবং সবুজ ঘাসের মাঠ দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে।
সুযোগ-সুবিধা:
- দেশের বৃহত্তম সুইমিং পুল – শিশু ও বড়দের জন্য পৃথক অংশ
- আধুনিক ও প্রশস্ত কটেজ ও রুম
- বিশাল কনফারেন্স হল – ৫০০ জন পর্যন্ত
- কর্পোরেট ও সামাজিক প্রোগ্রামের সুবিধা
- আন্তর্জাতিক মানের রেস্টুরেন্ট
- বিভিন্ন আউটডোর গেমস
- বিশাল খোলা মাঠ
- বিয়ে ও অন্যান্য অনুষ্ঠানের জন্য বিশেষ ডেকোরেশন সুবিধা
- পর্যাপ্ত পার্কিং স্পেস
- ২৪/৭ নিরাপত্তা ব্যবস্থা
বিশেষত্ব:
ঢালী’স আম্বার নিবাস কর্পোরেট ইভেন্ট, বিয়ের অনুষ্ঠান এবং বড় আকারের পারিবারিক অনুষ্ঠানের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। রিসোর্টের পেশাদার ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট টিম সব ধরনের আয়োজনে সহায়তা করে।
যোগাযোগ:
- ঠিকানা: বাহেরকোচি, ইছাপুরা, সিরাজদিখান, মুন্সীগঞ্জ
- মোবাইল: 01708-590300, 01708-590304
- ইমেইল: [email protected]
৪. রাজেন্দ্র ইকো রিসোর্ট
রাজেন্দ্রপুর ক্যান্টনমেন্ট থেকে মাত্র ৮ কিলোমিটার দূরে ঘন শালবনের ভেতরে প্রায় ৮০ বিঘা জমি নিয়ে যৌথ মালিকানায় গড়ে তোলা হয়েছে রাজেন্দ্র ইকো রিসোর্ট। এই রিসোর্টের বিশেষত্ব হলো এটি সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব এবং প্রকৃতির স্বাভাবিক সৌন্দর্যকে অক্ষুণ্ণ রেখে নির্মিত। বনের মাঝে হারিয়ে যাওয়ার এক অনন্য সুযোগ পাবেন এখানে।

রিসোর্টের প্রধান লক্ষ্য ছিল বনের স্বাভাবিক বৈচিত্র্য বজায় রাখা। তাই এখানে অপরিকল্পিত কোনো নির্মাণ করা হয়নি। বরং পরিকল্পিতভাবে আরো বনায়ন করে রিসোর্টকে আরও সবুজ করে তোলা হয়েছে। ভোরে পাখির ডাক, দিনভর গাছের পাতায় বাতাসের শব্দ আর রাতে ঝিঁঝিঁ পোকার গান – এসব মিলিয়ে এক স্বর্গীয় পরিবেশ সৃষ্টি হয় এখানে।
আবাসন ব্যবস্থা:
রাজেন্দ্র ইকো রিসোর্টে রয়েছে ২৬টি সুপরিকল্পিত কটেজ পার্ক যেগুলো বনের মাঝে এমনভাবে বিন্যস্ত যে প্রতিটি কটেজ থেকে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। এছাড়া রয়েছে কয়েকটি ঐতিহ্যবাহী মাটির ঘর, যেগুলো গ্রামবাংলার স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়।
সুযোগ-সুবিধা:
- ২৬টি কটেজ পার্ক – বনের মাঝে স্থাপিত
- ঐতিহ্যবাহী মাটির ঘর
- লেকে মাছ ধরা ও নৌকা চালানোর সুবিধা
- সাইকেল চালানো – রিসোর্ট ঘুরে দেখার জন্য
- শাক-সবজি ও জৈব ফার্ম – তাজা সবজি সরবরাহ
- আধুনিক সুইমিং পুল
- ম্যাসেজ পার্লার – বিশ্রামের জন্য
- ক্যাফেটেরিয়া – স্ন্যাকস ও পানীয়র জন্য
- ৪ তলা বিশিষ্ট অবজারভেশন টাওয়ার – পাখির চোখে বন দেখার জন্য
- প্রতিটি কটেজে ঝুল বারান্দা
- জৈব খাবারের ব্যবস্থা
- গাইডেড নেচার ওয়াক
বিশেষত্ব:
রিসোর্টের ৪ তলা বিশিষ্ট অবজারভেশন টাওয়ার থেকে পাখির চোখে পুরো বন এবং আশেপাশের দৃশ্য দেখা যায়। সূর্যাস্ত দেখার জন্য এটি একটি আদর্শ স্থান। ঝুল বারান্দায় বসে বনের শান্ত পরিবেশে বই পড়া বা গল্প করার অভিজ্ঞতা অবিস্মরণীয়।
রুম ভাড়া: মৌসুম অনুযায়ী ভিন্ন
যোগাযোগ:
- ঠিকানা: ঢাকা-ময়মনসিংহ হাইওয়ে, মাওনা ভাবানিপুর, গাজীপুর
- মোবাইল: 01713638723
৫. কালব রিসোর্ট এন্ড কনভেনশন হল
ঢাকা বিমানবন্দর থেকে মাত্র ১৬ কিলোমিটার দূরে গাজীপুরের পুবাইলের উলুখলায় অবস্থিত কালব রিসোর্ট এন্ড কনভেনশন হল আধুনিক সুবিধা সম্পন্ন একটি মানসম্পন্ন রিসোর্ট। শহরের যান্ত্রিক জীবন থেকে অবকাশের জন্য এবং বিভিন্ন কর্পোরেট ও সামাজিক অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য এটি একটি আদর্শ স্থান।

প্রাকৃতিক পরিবেশে স্থাপিত এই রিসোর্টে বিভিন্ন পাখির কলতান শোনা যায়, যা শহরের কোলাহল থেকে দূরে একটি শান্তিময় পরিবেশ সৃষ্টি করে। রিসোর্টের আশেপাশে সবুজ ঘাস এবং গাছপালায় ভরপুর, যা দর্শনার্থীদের মন প্রশান্ত করে।
সুযোগ-সুবিধা:
- আধুনিক কটেজ ও রুম সুবিধা
- বড় আকারের কনভেনশন হল – বিভিন্ন অনুষ্ঠানের জন্য
- সুইমিং পুল
- প্রশস্ত ডাইনিং হল
- খেলাধুলার সুবিধা
- শিশুদের খেলার ব্যবস্থা
- কনফারেন্স রুম – মিটিং এর জন্য
- পর্যাপ্ত পার্কিং স্পেস
- ২৪ ঘন্টা নিরাপত্তা
বিশেষত্ব:
কালব রিসোর্ট বিশেষভাবে কর্পোরেট ইভেন্ট, প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, সেমিনার এবং বড় আকারের সামাজিক অনুষ্ঠানের জন্য জনপ্রিয়। আধুনিক কনভেনশন হলে অডিও-ভিজ্যুয়াল সুবিধা এবং পেশাদার সেবা পাওয়া যায়।
যোগাযোগ:
- ঠিকানা: উলুখলা (জোড়া পাম্প), কুচিলাবাড়ী, কালীগঞ্জ, গাজীপুর
- মোবাইল: 01714-168050, 01714-168010
- ইমেইল: [email protected]
৬. অ্যারিস্টোক্র্যাট রিসোর্ট
ঢাকা থেকে মাত্র ২৩ কিলোমিটার দূরে পূর্বাচলে অবস্থিত অ্যারিস্টোক্র্যাট রিসোর্ট প্রাকৃতিক পরিবেশে ঘেরা একটি আধুনিক রিসোর্ট। ঢাকার এত কাছে অবস্থিত হওয়ায় এবং অত্যাধুনিক সুবিধার কারণে এটি অল্প সময়ের মধ্যেই দর্শনার্থীদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

রিসোর্টটি এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যে এখানে আধুনিকতার সাথে প্রকৃতির এক অপূর্ব সমন্বয় ঘটেছে। পানির ওপরে নির্মিত ওয়াটার কটেজগুলো এই রিসোর্টের বিশেষ আকর্ষণ। চারপাশে সবুজ গাছপালা এবং শান্ত পরিবেশ দর্শনার্থীদের এক অনন্য অভিজ্ঞতা দেয়।
আবাসন ব্যবস্থা:
রিসোর্টে রয়েছে ২১টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত রুম যেগুলো সব ধরনের আধুনিক সুবিধা সহ সজ্জিত। বিশেষ আকর্ষণ হলো বোট হাউস বা ওয়াটার কটেজ, যেগুলো পানির ওপর নির্মিত এবং সেখান থেকে চারপাশের প্রকৃতি উপভোগ করা যায়।
সুযোগ-সুবিধা:
- ২১টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত রুম – সব ধরনের আধুনিক সুবিধা সহ
- বোট হাউস বা ওয়াটার কটেজ – পানির ওপর নির্মিত
- আধুনিক স্পা সেন্টার – বিশ্রাম ও চিকিৎসার জন্য
- উন্নতমানের ডাইনিং – দেশি-বিদেশি খাবার
- সুইমিং পুল
- কনফারেন্স হল
- প্রাকৃতিক পরিবেশে হাঁটার পথ
- পাখি দেখার সুযোগ
- স্থানীয় সংস্কৃতি উপভোগের ব্যবস্থা
- কর্পোরেট আয়োজনের সুবিধা
- বিয়ে ও জন্মদিনের অনুষ্ঠান
বিশেষত্ব:
অ্যারিস্টোক্র্যাট রিসোর্টের ওয়াটার কটেজগুলো বিশেষভাবে জনপ্রিয়, বিশেষ করে নবদম্পতি এবং প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে। এছাড়া এখানে কর্পোরেট ট্রেনিং, টিম বিল্ডিং এবং বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য বিশেষ প্যাকেজ রয়েছে।
যোগাযোগ:
- ঠিকানা: রাথুরা, পূর্বাচল, কালীগঞ্জ, গাজীপুর
- মোবাইল: 01771-800753, 01771-800851
- ইমেইল: [email protected]
৭. ভাওয়াল রিসোর্ট
গাজীপুর জেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের নলজানি গ্রামে প্রায় ৬৫ একর জমি নিয়ে নির্মিত ভাওয়াল রিসোর্ট ঢাকার কাছাকাছি সবচেয়ে অভিজাত এবং জনপ্রিয় রিসোর্টগুলোর মধ্যে অন্যতম। ঢাকা বিমানবন্দর থেকে মাত্র ৪৫ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত এই রিসোর্টটি ভাওয়ালের রাজ্যের প্যারাডাইস হিসেবে পরিচিত।

সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক পরিবেশ ও সবুজ গাছপালায় ছায়াঘেরা এই রিসোর্টে রয়েছে ৫টি জোন এবং ৬১টি ভিন্ন ভিন্ন ধরনের কটেজ। প্রতিটি কটেজ এমনভাবে ডিজাইন করা যে সেখান থেকে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য পরিপূর্ণভাবে উপভোগ করা যায়। রিসোর্টের প্রতিটি কক্ষের বারান্দা থেকে বাইরের মনোরম দৃশ্য দেখা যায়, যা দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে।
আবাসন ও সুযোগ-সুবিধা:
- ৬১টি ভিন্ন ডিজাইনের কটেজ – ৫টি জোনে বিভক্ত
- পরিবার ও যুগলদের জন্য পৃথক ব্যবস্থা
- প্রতিটি রুমে প্রাইভেট বারান্দা
- আধুনিক সুইমিং পুল
- বিউটি পার্লার ও স্পা সেন্টার
- টেনিস ক্লাব
- বিলিয়ার্ড ক্লাব
- বড়দের জন্য আলাদা সুইমিং পুল
- শিশুদের জন্য বেবিসিটিং সার্ভিস
- আন্তর্জাতিক মানের রেস্টুরেন্ট
- হাই স্পিড ইন্টারনেট
- স্যাটেলাইট টিভি
- কফি মেকিং সুবিধা
- জিম ও ফিটনেস সেন্টার
বিশেষত্ব:
ভাওয়াল রিসোর্ট ফ্যামিলি ও কাপল রিসোর্ট হিসেবে বিশেষভাবে পরিচিত। এখানে পরিবারের সকল সদস্যের জন্য বিনোদন ও আরাম আয়েশের সব ধরনের ব্যবস্থা রয়েছে। বিভিন্ন মৌসুমে এবং বিশেষ দিবসে রিসোর্ট বিশেষ প্যাকেজ এবং ছাড় প্রদান করে।
রুম ভাড়া: ১১,০০০ থেকে ৩০,০০০ টাকা (দিন ও মৌসুম অনুযায়ী কম-বেশি হয়)
যোগাযোগ:
- ঠিকানা: নলজাহিনী, মির্জাপুর, গাজীপুর
- মোবাইল: 09611400700, 01871004007, 01871004015
- ইমেইল: [email protected]
৮. পূর্বাচল নিঝুম পল্লী রিসোর্ট
ঢাকা থেকে মাত্র ২১ কিলোমিটার দূরে রূপগঞ্জের পূর্বাচলে অবস্থিত নিঝুম পল্লী রিসোর্ট একটি পরিবেশবান্ধব আধুনিক রিসোর্ট। ব্যক্তিগত গাড়িতে মাত্র ৩০ মিনিটে পৌঁছানো যায় বলে এটি একদিনের ট্রিপ বা সপ্তাহান্তে ঘুরে আসার জন্য আদর্শ।

রিসোর্টটি প্রকৃতি ও আধুনিক সুবিধার এক অপূর্ব সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে। চারপাশে সবুজ পরিবেশ এবং শান্ত পরিবেশ এটিকে পরিবারের সাথে ঘুরে আসার জন্য একটি নিরাপদ ও আরামদায়ক স্থান করে তুলেছে। রিসোর্টের নিজস্ব লেকে নৌকা ভ্রমণ একটি বিশেষ আকর্ষণ।
আবাসন ব্যবস্থা:
রিসোর্টে রয়েছে ৩ ক্যাটাগরির রুম – স্ট্যান্ডার্ড, ডিলাক্স এবং প্রিমিয়াম। প্রতিটি রুম আধুনিক সব সুবিধা সহ সজ্জিত এবং পরিচ্ছন্ন রাখা হয়।
সুযোগ-সুবিধা:
- ৩ ক্যাটাগরির রুম – স্ট্যান্ডার্ড, ডিলাক্স, প্রিমিয়াম
- আধুনিক সুইমিং পুল – শিশু ও বড়দের জন্য
- বিনোদন পার্ক – বিভিন্ন রাইড ও খেলার ব্যবস্থা
- নৌকা ভ্রমণ – নিজস্ব লেকে
- নিজস্ব রেস্টুরেন্ট – দেশি খাবার
- আকর্ষণীয় ডে লং প্যাকেজ
- কনফারেন্স হল
- বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানের আয়োজন
- কর্পোরেট ইভেন্টের সুবিধা
- বিয়ে ও জন্মদিনের আয়োজন
- পর্যাপ্ত পার্কিং
- নিরাপত্তা ব্যবস্থা
ডে লং প্যাকেজ:
এক দিনে ঢাকার কাছে ঘুরে আসতে চাইলে পূর্বাচল নিঝুম পল্লী রিসোর্টের ডে লং প্যাকেজ একটি চমৎকার অপশন। প্যাকেজে থাকে দুপুরের খাবার, সুইমিং পুল, বিনোদন পার্ক এবং অন্যান্য সুবিধা। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পুরো দিন পরিবার নিয়ে আনন্দে কাটাতে পারবেন।
বিশেষত্ব:
রিসোর্টটি তার পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সাশ্রয়ী মূল্যের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। ঢাকার এত কাছে হওয়ায় যেকোনো সময় সহজে ঘুরে আসা যায়।
যোগাযোগ:
- ঠিকানা: ১২৫, পলখান বাজার, রূপগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ
- মোবাইল: 01729231767
- ইমেইল: [email protected]
৯. পদ্মা লাক্সারি রিসোর্ট
ঢাকার নিকটবর্তী মাওয়া ঘাটের কাছে পদ্মা নদীর তীরে অবস্থিত পদ্মা লাক্সারি রিসোর্ট একটি সুন্দর দর্শনীয় স্থান। পদ্মা সেতু নির্মাণের পর এই এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত হয়েছে এবং রিসোর্টটি আরও বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

পদ্মা নদীর বিশালতা এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য এটি একটি আদর্শ স্থান। নদীর পাড়ে বসে সূর্যাস্ত দেখা, নৌকা ভ্রমণ এবং তাজা মাছের খাবার উপভোগ করা – সবকিছু মিলিয়ে এক অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা পাবেন এখানে।
সুযোগ-সুবিধা:
- পদ্মা নদীর তীরে অবস্থান
- আধুনিক কটেজ ও রুম
- নদীর দৃশ্য সহ বারান্দা
- তাজা মাছের খাবার
- নৌকা ভ্রমণ
- রেস্টুরেন্ট – দেশীয় খাবার
- পিকনিক স্পট
- সূর্যাস্ত দেখার আদর্শ স্থান
- পরিবার নিয়ে নিরাপদ পরিবেশ
- ফটোগ্রাফির জন্য চমৎকার লোকেশন
বিশেষত্ব:
পদ্মা লাক্সারি রিসোর্ট বিশেষভাবে পরিচিত তাজা ইলিশ মাছসহ বিভিন্ন নদীর মাছের খাবারের জন্য। পদ্মার পাড়ে বসে খাবার খাওয়ার অভিজ্ঞতা সত্যিই অসাধারণ। পরিবার, বন্ধু বা সহকর্মীদের নিয়ে স্বল্প সময়ের ভ্রমণের জন্য এটি আদর্শ। ঢাকার কাছাকাছি হওয়ায় সহজে পৌঁছানো যায় এবং সবসময়ই পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত থাকে।
যোগাযোগ:
- ঠিকানা: কান্দিপাড়া, মাওয়া, মুন্সিগঞ্জ
- মোবাইল: 01979-538545
১০. নক্ষত্রবাড়ি রিসোর্ট
নাট্য অভিনেতা, পরিচালক ও স্থপতি তৌকির আহমেদ এবং অভিনেত্রী বিপাশা হায়াত গাজীপুর জেলার রাজেন্দ্রপুরে প্রায় ২৫ বিঘা জমিতে এই দৃষ্টিনন্দন রিসোর্ট প্রতিষ্ঠা করেন। নক্ষত্রবাড়ি শুধু একটি রিসোর্ট নয়, এটি একটি শিল্পকর্ম যেখানে স্থাপত্যশিল্প, প্রকৃতি এবং আধুনিক সুবিধার এক অনন্য সমন্বয় ঘটেছে।

রিসোর্টের প্রতিটি কোণে তৌকির আহমেদের শিল্পবোধ ও রুচিশীলতার ছাপ রয়েছে। বাঁশ, কাঠ ও ছনের তৈরি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কটেজগুলো ঐতিহ্য এবং আধুনিকতার এক অপূর্ব নিদর্শন। রিসোর্টের দিঘী, কৃত্রিম ঝর্ণা এবং সুবিন্যস্ত বাগান দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে।
আবাসন ও সুবিধা:
নক্ষত্রবাড়িতে রয়েছে একটি আবাসিক ভবন বা বিল্ডিং কটেজ এবং কাঠ, বাঁশ ও ছনের তৈরী শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ১১টি কটেজ। প্রতিটি কটেজ অনন্যভাবে ডিজাইন করা এবং আরামদায়ক।
সুযোগ-সুবিধা:
- ১১টি অনন্য ডিজাইনের কটেজ – বাঁশ, কাঠ ও ছনের তৈরি
- একটি আবাসিক ভবন
- সুন্দর দিঘী – নৌকা ভ্রমণের জন্য
- কৃত্রিম ঝর্ণা – দৃষ্টিনন্দন
- কনফারেন্স হল – মিটিং ও সেমিনারের জন্য
- আধুনিক সুইমিং পুল
- মাল্টিকুজিন রেস্টুরেন্ট
- শুটিং স্পট – নাটক ও সিনেমার শুটিং হয়
- লাইব্রেরী – বই পড়ার জন্য শান্ত পরিবেশ
- মুভি থিয়েটার
- বাচ্চাদের খেলার বিশেষ জায়গা
- নৌকায় ঘুরে বেড়ানো
- মাছ ধরার ব্যবস্থা
- সুসজ্জিত বাগান
বিশেষত্ব:
নক্ষত্রবাড়ি রিসোর্ট শুধু বিশ্রামের জায়গা নয়, এটি একটি শিল্পকলার স্থান। এখানে বিভিন্ন নাটক ও সিনেমার শুটিং হয়। তৌকির আহমেদের অনেক জনপ্রিয় নাটক এই রিসোর্টে শুটিং হয়েছে। রিসোর্টের প্রতিটি কোণ ফটোগ্রাফির জন্য আদর্শ। অবসর কাটানোর জন্যে সকল ধরণের আনন্দ আয়োজন নিয়েই প্রস্তুত নক্ষত্রবাড়ি রিসোর্ট।
রুম ভাড়া: মৌসুম ও ক্যাটাগরি অনুযায়ী ভিন্ন
যোগাযোগ:
- ঠিকানা: রাজাবাড়ি বাজার, শ্রীপুর, গাজীপুর
- মোবাইল: 01772224281, 01772224282
- ইমেইল: [email protected]
১১. রিভেরি হলিডে রিসোর্ট
গাজীপুরের সালনায় প্রায় ৩ একর জায়গা জুড়ে প্রকৃতি আর আধুনিকতার ছোঁয়ায় নির্মিত রিভেরি হলিডে রিসোর্ট পরিবার ও বন্ধুবান্ধব নিয়ে সময় কাটানোর জন্য একটি চমৎকার স্থান। টেক কাথোরা, মইশানবাড়ি এলাকায় অবস্থিত এই রিসোর্টটি তার সবুজ পরিবেশ এবং পরিচ্ছন্নতার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত।

রিসোর্টের চারপাশে ছোট ছোট পুকুর, সবুজ ঘাস এবং বিভিন্ন ফুলের গাছ রয়েছে যা পরিবেশকে আরও মনোরম করে তুলেছে। শান্ত ও নিরিবিলি পরিবেশে পরিবার নিয়ে কোয়ালিটি টাইম কাটানোর জন্য এটি একটি আদর্শ জায়গা।
সুযোগ-সুবিধা:
- আধুনিক কটেজ ও রুম
- সুইমিং পুল – পরিবারের সকলের জন্য
- শিশুদের খেলার বিশেষ এলাকা
- বিশাল লন – খেলাধুলার জন্য
- রেস্টুরেন্ট – দেশীয় খাবার
- পিকনিক স্পট
- ডে আউট প্যাকেজ
- হানিমুন প্যাকেজ
- কর্পোরেট ইভেন্ট আয়োজন
- পারিবারিক অনুষ্ঠানের সুবিধা
- পর্যাপ্ত পার্কিং
- ২৪ ঘন্টা নিরাপত্তা
বিশেষত্ব:
রিভেরি হলিডে রিসোর্ট বিশেষভাবে জনপ্রিয় তার সাশ্রয়ী মূল্য এবং ভালো সেবার জন্য। ডে আউট, হানিমুন, পিকনিক এবং যেকোন কর্পোরেট বা পারিবারিক অনুষ্ঠান আয়োজনের সকল সুবিধা রয়েছে। রিসোর্টের স্টাফরা অত্যন্ত বিনয়ী এবং সাহায্যকারী।
যোগাযোগ:
- ঠিকানা: টেক কাথোরা, মইশানবাড়ি, সালনা, গাজীপুর
- মোবাইল: 01705-566335, 01705-566336
১২. মাওয়া রিসোর্ট
রাজধানী ঢাকা থেকে মাত্র ৩৮ কিলোমিটার দূরে মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলার কান্দিপাড়া গ্রামে পদ্মার পাড়ে নির্মিত মাওয়া রিসোর্ট একটি আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র। মাওয়া ১নং ফেরিঘাট থেকে মাত্র ৫০০ গজ দূরে মাওয়া-ভাগ্যকূল রাস্তার পাশে অবস্থিত এই রিসোর্ট প্রতিনিয়ত দেশি-বিদেশি পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।

সবুজে মোড়া মাওয়া রিসোর্টের প্রধান ফটক দিয়ে প্রবেশ করলেই চারদিকে সারি সারি নারিকেল ও সুপারি গাছে ঘেরা একটি সুন্দর দীঘি চোখে পড়বে। দীঘিতে রয়েছে আধুনিক বোটে দীঘির শান্ত জলে ঘুরে বেড়ানোর আয়োজন। পুরো পরিবেশটি এতটাই মনোরম যে একবার এলে বারবার আসতে ইচ্ছে করবে।
আবাসন ব্যবস্থা:
দীঘির পূর্ব পাড়ে রয়েছে ১৮টি সারিবদ্ধ কটেজ যেগুলো পানির খুব কাছে নির্মিত। কটেজে যাওয়া-আসার জন্য রয়েছে রঙিন ও দৃষ্টিনন্দন কাঠের সেতু যা কটেজগুলোকে করেছে আরো আকর্ষণীয়। প্রতিটি কটেজ থেকে দীঘি এবং সবুজ পরিবেশ উপভোগ করা যায়।
সুযোগ-সুবিধা:
- ১৮টি সারিবদ্ধ কটেজ – দীঘির পাড়ে
- সুন্দর দীঘি – বোটিং সুবিধা সহ
- ক্যাফেটেরিয়া – স্ন্যাকস ও পানীয়
- রঙিন কাঠের সেতু – ফটোগ্রাফির জন্য আদর্শ
- নারিকেল ও সুপারি বাগান
- সবুজ লন
- পিকনিক স্পট
- নিরাপদ পরিবেশ
- পর্যাপ্ত পার্কিং
- পদ্মা নদীর কাছাকাছি
বিশেষত্ব:
মাওয়া রিসোর্ট বিশেষভাবে পরিচিত তার সুন্দর দীঘি এবং কাঠের সেতুর জন্য। সেতুর ওপর দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে দীঘি এবং চারপাশের প্রকৃতি উপভোগ করার অভিজ্ঞতা অসাধারণ। বোটিংয়ের সময় দীঘির শান্ত পানিতে আকাশের প্রতিবিম্ব দেখা যায় যা মনকে প্রশান্তি দেয়।
রুম ভাড়া: মৌসুম অনুযায়ী ভিন্ন
যোগাযোগ:
- ঠিকানা: কান্দিপাড়া রোড, মাওয়া, ঢাকা
- মোবাইল: 01711057947, 01755592585, 01755592584
- ইমেইল: [email protected]
১৩. জলেশ্বরী রিসোর্ট
গাজীপুর জেলার রাজেন্দ্রপুর উপজেলার ফাউগানে প্রায় ১০০ বিঘা জমি নিয়ে নির্মিত জলেশ্বরী রিসোর্ট পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব কিংবা অফিস কলিগদের নিয়ে সবুজের মাঝে নিরিবিলি পরিবেশে সময় কাটানোর জন্য একটি আদর্শ স্থান। রিসোর্টটি সম্পূর্ণরূপে সবুজ গাছ-গাছালি দ্বারা বেষ্টিত যা সহজেই ভ্রমণ পিপাসুদের মন জয় করে নেয়।

ঢাকা থেকে খুব কাছে হওয়ায় এবং শান্ত পরিবেশের জন্য এই রিসোর্টটি বিশেষভাবে জনপ্রিয়। রিসোর্টের বিশাল খোলা মাঠ, বড় পুকুর এবং সুবিন্যস্ত বাগান একে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
আবাসন ও সুযোগ-সুবিধা:
জলেশ্বরী রিসোর্টে অতিথিদের জন্য রয়েছে তিনটি সুসজ্জিত আবাসিক ভবন যেখানে বিভিন্ন ধরনের রুম রয়েছে। প্রতিটি রুম পরিচ্ছন্ন এবং আরামদায়ক।
সুযোগ-সুবিধা:
- তিনটি সুসজ্জিত আবাসিক ভবন
- আধুনিক সুইমিং পুল
- মাল্টিকুজিন রেস্টুরেন্ট
- বিশাল খেলার মাঠ – ফুটবল, ক্রিকেট
- বিশাল আকারের পুকুর – মাছ ধরা ও বোটিং
- বাচ্চাদের খেলার বিশেষ স্থান
- বিভিন্ন ইনডোর গেমস – ক্যারম, লুডু, দাবা
- আউটডোর গেমস – ব্যাডমিন্টন, ভলিবল
- কনফারেন্স হল
- পিকনিক স্পট
- সবুজ বাগান
- পর্যাপ্ত পার্কিং সুবিধা
বিশেষত্ব:
জলেশ্বরী রিসোর্ট পরিবার নিয়ে পিকনিক বা ডে আউটের জন্য বিশেষভাবে উপযুক্ত। রিসোর্টের বিশাল মাঠে শিশুরা নিরাপদে খেলাধুলা করতে পারে। পুকুরে মাছ ধরার ব্যবস্থা আছে যা বাচ্চাদের কাছে বিশেষ আকর্ষণীয়।
রুম ভাড়া: ৫,০০০ থেকে ৬,০০০ টাকা
যোগাযোগ:
- ঠিকানা: ফাউগান, রাজেন্দ্রপুর, গাজীপুর
- মোবাইল: 01684788937, 01973087071
- ইমেইল: [email protected]
১৪. যমুনা রিসোর্ট
বঙ্গবন্ধু বহুমুখী সেতুর কাছে যমুনা নদীর পূর্ব পাশে থ্রি স্টার মানের যমুনা রিসোর্ট টাংগাইল ও সিরাজগঞ্জ জেলার মাঝামাঝি অবস্থিত। এটি শুধু একটি রিসোর্ট নয়, বরং পর্যটকদের জন্য একটি সম্পূর্ণ বিনোদন ও বিশ্রামের গন্তব্য। যমুনা নদীর পাশে অবস্থিত হওয়ায় এখানে নদীর বিশালতা এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার সুযোগ পাবেন।

রিসোর্টটি আন্তর্জাতিক মানের সুবিধা সহ নির্মিত এবং দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। বিশেষ করে যারা ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গ বা অন্য কোথাও যাচ্ছেন, তাদের জন্য এটি একটি আদর্শ বিশ্রামস্থল।
আবাসন ব্যবস্থা:
যমুনা রিসোর্টে বিভিন্ন ক্যাটাগরির আবাসন ব্যবস্থা রয়েছে – রয়েল সুইট, ডিলাক্স এক্সিকিউটিভ সুইট, ২ ও ৩ বেডরুমের কটেজ এবং ডরমিটরি। এছাড়া প্রয়োজনে এক্সট্রা বেড এর সুবিধাও রয়েছে।
সুযোগ-সুবিধা:
- রয়েল সুইট ও ডিলাক্স এক্সিকিউটিভ সুইট
- ২ ও ৩ বেডরুমের কটেজ
- ডরমিটরি সুবিধা
- জিম ও হেলথ ক্লাব
- আধুনিক সুইমিং পুল
- বেকারি – তাজা বেকারি আইটেম
- ফরেন মানি এক্সচেঞ্জ – বিদেশি মুদ্রা
- স্যুভেনির শপ – স্মারক কেনার জন্য
- ১৫০ জনের রেস্টুরেন্ট – দেশি-বিদেশি খাবার
- যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র হলরুম – ২০০ জন ধারণক্ষমতা
- ফুটবল, হকি, ক্রিকেট মাঠ
- ব্যাডমিন্টন ও দাবা
- নৌভ্রমণ – যমুনা নদীতে
- রিসোর্ট সাইট ভ্রমণ
বিশেষত্ব:
যমুনা রিসোর্ট বিশেষভাবে পরিচিত তার আন্তর্জাতিক মানের সেবা এবং বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলার সুবিধার জন্য। নদীতে নৌভ্রমণ এবং রিসোর্টের বিশাল মাঠে খেলাধুলার সুযোগ এটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। দুটি বড় হলরুম থাকায় এখানে বড় আকারের অনুষ্ঠান, সেমিনার বা কর্পোরেট ইভেন্ট আয়োজন করা যায়।
যোগাযোগ:
- কর্পোরেট অফিস: প্রগতি ইন্স্যুরেন্স ভবন (৭ম তলা) ২০-২১, কাওরান বাজার, ঢাকা ১২১৫
- মোবাইল: 01715-852997, 01975-852997
১৫. নামীর গ্রীন রিসোর্ট (স্প্রিং ভ্যালি)
নগর জীবনের ব্যস্ততা ও অবসাদ থেকে মুক্তি পেতে গাজীপুরের সালনায় গড়ে ওঠা নামীর গ্রীন রিসোর্ট একটি আদর্শ স্থান। ১২ বিঘা জমিতে গ্রামীণ আবহে নির্মিত এই রিসোর্টটি ট্রিপসিলো নামক একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছে। পরিবার, প্রিয়জন কিংবা বন্ধুবান্ধব নিয়ে পিকনিক অথবা হ্যাংআউটের উদ্দেশ্যে যেকোনো দিন এখানে চলে আসতে পারেন।

রিসোর্টটি বিশেষভাবে পরিচিত তার বিশাল সুইমিং পুল এবং কম খরচে উন্নত সেবার জন্য। গ্রামীণ পরিবেশে দেশীয় রান্নার স্বাদ আপনাকে নিয়ে যাবে শহুরে যান্ত্রিক জীবন থেকে চিরচেনা অনুভূতির জীবনে।
সুযোগ-সুবিধা:
- বিশাল সুইমিং পুল – শিশু ও বড়দের জন্য পৃথক অংশ
- শিশুদের খেলার বিশেষ ব্যবস্থা – স্লাইড, সুইং
- বিশাল খোলা মাঠ – খেলাধুলার জন্য
- বড় পুকুর – নৌকা ভ্রমণ ও মাছ ধরা
- দেশীয় খাবারের বিশেষ আয়োজন
- পিকনিক স্পট
- কনফারেন্স রুম
- বিয়ের অনুষ্ঠান আয়োজনের সুবিধা
- জন্মদিনের পার্টি
- গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান
- কর্পোরেট পিকনিক
- পর্যাপ্ত পার্কিং
- নিরাপত্তা ব্যবস্থা
বিশেষত্ব:
নামীর গ্রীন রিসোর্ট বিশেষভাবে জনপ্রিয় তার সাশ্রয়ী মূল্য এবং পারিবারিক পরিবেশের জন্য। ঢাকার বেশ কাছাকাছি দূরত্বে কম খরচে চিত্তবিনোদনের জন্য এই রিসোর্ট দ্রুত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। তবে ছুটির দিনে ভিড় বেশি থাকে, তাই আগে থেকে বুকিং দিয়ে রাখাই ভালো।
রুম ভাড়া: সাশ্রয়ী মূল্যে
যোগাযোগ:
- ঠিকানা: মৈশান বাড়ি, টেক কাথোরা, সালনা বাজার, গাজীপুর
- মোবাইল: 01955124132, 01955124133
- ইমেইল: [email protected]
১৬. সোহাগ পল্লী
১১ একর সবুজে ঘেরা জমিতে নির্মিত সোহাগ পল্লী একটি স্বপ্নের মতো রিসোর্ট। রিসোর্টের অপরূপ সৌন্দর্যমণ্ডিত ঝুলন্ত সাঁকো এবং বেলকনিতে খোঁদাই করা বিভিন্ন কারুকাজ দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে। রিসোর্টের কটেজগুলো এমনভাবে নির্মাণ করা হয়েছে যেন মনে হয় এটি ইতালির কোনো সাজানো গ্রামের প্রতিচ্ছবি।

কটেজগুলোর ঠিক সামনে দিয়ে বয়ে গেছে একটি কৃত্রিম লেক যেখানে সারাবছর পানি থাকে। লেকের পানিতে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের বিচরণ দেখা যায়। পুরো পরিবেশটি এতটাই মনোমুগ্ধকর যে একবার গেলে বারবার যেতে ইচ্ছা করবে।
আবাসন ও সুযোগ-সুবিধা:
সোহাগ পল্লীতে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের সুসজ্জিত কটেজ যেগুলো ইউরোপীয় স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত। প্রতিটি কটেজ থেকে লেক ও চারপাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়।
সুযোগ-সুবিধা:
- ইউরোপীয় স্টাইলের কটেজ
- কৃত্রিম লেক – মাছের বিচরণ সহ
- ঝুলন্ত সাঁকো – ফটোগ্রাফির জন্য আদর্শ
- খোঁদাই করা কারুকাজ সহ বেলকনি
- আধুনিক সুইমিং পুল
- কনফারেন্স হলরুম
- ৪০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী – সার্বক্ষণিক সেবার জন্য
- বিভিন্ন প্রাণীর প্রতিকৃতি – বাচ্চাদের জন্য
- শিশুদের বিনোদনের বিশেষ ব্যবস্থা
- রেস্টুরেন্ট
- বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজনের সুবিধা
বিশেষত্ব:
সোহাগ পল্লী তার অনন্য স্থাপত্যশৈলী এবং ইউরোপীয় ছোঁয়ার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। রিসোর্টের ঝুলন্ত সাঁকো দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে লেকের সৌন্দর্য উপভোগ করার অভিজ্ঞতা অসাধারণ। বিয়ে, জন্মদিন এবং অন্যান্য পারিবারিক অনুষ্ঠানের জন্য এখানে সব রকম ব্যবস্থা রয়েছে। ৪০ জন পেশাদার কর্মচারী সার্বক্ষণিক সেবা দিতে প্রস্তুত থাকেন।
রুম ভাড়া: মৌসুম অনুযায়ী ভিন্ন
যোগাযোগ:
- ঠিকানা: কালামপুর রোড, চন্দ্রা
- মোবাইল: 01321213232, 01321156888
- ইমেইল: [email protected]
১৭. আনন্দ রিসোর্ট
গাজীপুরের কালিয়াকৈরের সিনাবহের তালতলি এলাকায় ৪২ বিঘা জায়গায় বিনোদনের বিভিন্ন আয়োজন নিয়ে গড়ে উঠেছে আনন্দ পার্ক রিসোর্ট বা আনন্দ রিসোর্ট। রিসোর্টের নাম শুনলেই বোঝা যায় এটি আনন্দ উপভোগের জন্য বিশেষভাবে ডিজাইন করা। প্রকৃতপক্ষেই এখানে সকল বয়সের মানুষের জন্য আনন্দের নানা উপকরণ রয়েছে।

রিসোর্টের বিশাল এলাকা জুড়ে রয়েছে বিভিন্ন রকমের খেলার আয়োজন, বাগান এবং পুকুর। কালিয়াকৈরের শান্ত পরিবেশে অবস্থিত হওয়ায় এখানে প্রকৃতির সৌন্দর্য পরিপূর্ণভাবে উপভোগ করা যায়।
আবাসন ব্যবস্থা:
আনন্দ রিসোর্টে থাকার জন্য রয়েছে ৬টি কটেজ যার মধ্যে এসি এবং নন-এসি উভয় ধরনের কটেজ রয়েছে। প্রতিটি কটেজ পরিচ্ছন্ন এবং আরামদায়ক।
সুযোগ-সুবিধা:
- ৬টি এসি ও নন-এসি কটেজ
- কার পার্কিং সুবিধা
- ২৪ ঘন্টা রুম সার্ভিস
- আধুনিক সুইমিং পুল
- বিভিন্ন রকমের রাইড – ছোট-বড় সবার জন্য
- সরাসরি বিল থেকে মাছ শিকার
- ছোট বাচ্চাদের খেলার বিভিন্ন উপকরণ
- আকর্ষণীয় রাইড
- বিশাল ফলজ বাগান – বিভিন্ন প্রজাতির ফলের গাছ
- ফুলের বাগান – রঙিন ফুলে সাজানো
- খেলার মাঠ
- পিকনিক স্পট
- রেস্টুরেন্ট
বিশেষত্ব:
আনন্দ রিসোর্টের বিশেষ আকর্ষণ হলো বিভিন্ন রকমের রাইড এবং বিল থেকে সরাসরি মাছ শিকার করার সুযোগ। বাচ্চারা এখানে বিভিন্ন রাইডে চড়ে এবং খেলার সরঞ্জাম নিয়ে খেলতে পারে। বড়দের জন্য রয়েছে মাছ ধরার আয়োজন এবং বাগানে হাঁটার সুযোগ। পুরো পরিবার নিয়ে একদিন কাটানোর জন্য এটি একটি আদর্শ স্থান।
রুম ভাড়া: সাশ্রয়ী মূল্যে
যোগাযোগ:
- ঠিকানা: সিনাবহের তালতলি, কালিয়াকৈর, গাজীপুর
- মোবাইল: 01717401919
- ইমেইল: [email protected]
১৮. নুহাশপল্লী
জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদের স্বপ্নের বাগানবাড়ি এবং শুটিং স্পট নুহাশপল্লী। প্রায় ৯০ বিঘা জায়গা নিয়ে এই নন্দন কানন গাজীপুরের পিরুজালীতে অবস্থিত। এটি শুধু একটি রিসোর্ট নয়, বরং হুমায়ূন আহমেদের সৃজনশীলতা এবং রুচিশীলতার এক জীবন্ত নিদর্শন।

হুমায়ূন আহমেদ তাঁর অনেক জনপ্রিয় নাটক এখানে শুটিং করেছেন। পুরো এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে আছে বিভিন্ন ভাস্কর্য, শিল্পকর্ম এবং অনন্য স্থাপনা যা হুমায়ূন আহমেদের শিল্পবোধের পরিচয় দেয়। প্রতিটি কোণে রয়েছে তাঁর সৃজনশীলতার ছোঁয়া।
দর্শনীয় স্থান ও সুবিধা:
- ছোট চিড়িয়াখানা – বিভিন্ন প্রজাতির পাখি ও প্রাণী
- শান বাঁধানো ঘাটসহ বিশাল পুকুর – নৌকা ভ্রমণের জন্য
- দৃষ্টিনন্দন কটেজ – হুমায়ূন আহমেদের ডিজাইন করা
- ট্রি হাউস – গাছের উপরে নির্মিত ঘর
- বিভিন্ন ভাস্কর্য – হুমায়ূন আহমেদের তৈরি
- সুন্দর বাগান – বিভিন্ন ফুল ও গাছের সমাহার
- লাইব্রেরি – হুমায়ূন আহমেদের বইয়ের সংগ্রহ
- শুটিং স্পট – বিখ্যাত নাটকের শুটিং হয়েছে
- পিকনিক স্পট
- হাঁটার পথ
বিশেষ তথ্য:
নুহাশপল্লীতে সাধারণত ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত (শীতকালে) বনভোজনের অনুমতি পাওয়া যায়। এই সময়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে এখানে দিনভর কাটানো যায়। তবে আগে থেকে অনুমতি নিতে হয়। হুমায়ূন আহমেদের ভক্তদের জন্য এটি একটি তীর্থস্থানের মতো।
বিশেষত্ব:
নুহাশপল্লী শুধু একটি রিসোর্ট নয়, এটি হুমায়ূন আহমেদের স্মৃতিবিজড়িত একটি স্থান। তাঁর রুচিশীলতার পরিচয় পাবেন প্রতিটি ভাস্কর্য, কটেজ এবং সাজসজ্জায়। যারা হুমায়ূন আহমেদের সাহিত্য ও নাটক পছন্দ করেন, তাদের জন্য এটি একটি অবশ্যদর্শনীয় স্থান।
যোগাযোগ:
- ঠিকানা: নুহাশ পল্লী রোড, পিরুজালী, গাজীপুর
- মোবাইল: 01911-920666
দ্রষ্টব্য: যাওয়ার আগে ফোন করে নিশ্চিত হয়ে নিন যে সেদিন দর্শনার্থীদের জন্য খোলা আছে কিনা।
১৯. জিওন রিসোর্ট
ঢাকা থেকে খুব কাছে, আমিনবাজার এলাকায় অবস্থিত জিওন রিসোর্ট পরিবার নিয়ে একদিন কাটানো বা রাতে থাকার জন্য একটি চমৎকার স্থান। ঢাকা শহরের একেবারে পাশে হওয়ায় যেকোনো সময় সহজে ঘুরে আসা যায়। রিসোর্টটি তার পরিচ্ছন্নতা এবং নিরাপদ পরিবেশের জন্য পরিবারের কাছে বিশেষভাবে জনপ্রিয়।

আমিনবাজারের শান্ত পরিবেশে অবস্থিত এই রিসোর্টে রয়েছে সব ধরনের আধুনিক সুবিধা। বিশেষ করে শিশুদের জন্য রয়েছে বিশেষ আয়োজন যা পরিবার নিয়ে আসা অভিভাবকদের জন্য স্বস্তিদায়ক।
সুযোগ-সুবিধা:
- আধুনিক কটেজ ও রুম
- সুইমিং পুল – শিশু ও বড়দের জন্য
- শিশুদের খেলার জায়গা – বিভিন্ন খেলার সরঞ্জাম সহ
- মিনি চিড়িয়াখানা – বিভিন্ন পাখি ও প্রাণী
- রেস্টুরেন্ট – পরিবার-বান্ধব
- বাগান – হাঁটার জন্য
- ডে ট্রিপ সুবিধা
- রাতে অবস্থানের ব্যবস্থা
- পার্কিং সুবিধা
- নিরাপত্তা ব্যবস্থা
বিশেষত্ব:
জিওন রিসোর্ট বিশেষভাবে পরিচিত তার শিশু-বান্ধব পরিবেশের জন্য। মিনি চিড়িয়াখানায় বিভিন্ন পাখি এবং ছোট প্রাণী দেখার সুযোগ শিশুদের কাছে বিশেষ আকর্ষণীয়। ঢাকার একেবারে পাশে হওয়ায় যারা দূরে যেতে চান না কিন্তু একটু প্রকৃতির কাছে সময় কাটাতে চান, তাদের জন্য এটি আদর্শ।
রুম ভাড়া: সাশ্রয়ী মূল্যে
যোগাযোগ:
- ঠিকানা: আমিনবাজার, ঢাকা
২০. সাহেব বাড়ি রিসোর্ট
গাজীপুর জেলার রাজেন্দ্রপুরে প্রায় ১৫ বিঘা জায়গায় অবস্থিত সাহেব বাড়ি রিসোর্ট একটি সাজানো-গুছানো ছিমছাম রিসোর্ট যা প্রথম দর্শনেই মন জয় করে নেয়। অল্প সময়ের অবসরে ঢাকার কাছে ঘুরতে যাওয়ার জন্য এটি একটি অনন্য স্থান। রিসোর্টের পরিচ্ছন্নতা এবং সুবিন্যস্ত পরিবেশ দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে।

প্রধান গেইট দিয়ে প্রবেশ করতেই ৫ তলা বিশিষ্ট মূল রিসোর্ট ভবন, সুইমিং পুল, রেস্টুরেন্ট, অডিটরিয়াম, সবুজ ঘাসের মাঠ এবং শান বাঁধানো ঘাটের পুকুর চোখে পড়ে। পুরো রিসোর্ট এত সুন্দরভাবে সাজানো যে মনে হয় কোনো চিত্রকর্মের মধ্যে এসে পড়েছেন।
আবাসন ব্যবস্থা:
সাহেব বাড়ি রিসোর্টে রয়েছে একটি ৫ তলা বিশিষ্ট মূল ভবন যেখানে বিভিন্ন ক্যাটাগরির রুম রয়েছে। প্রতিটি রুম আধুনিক সুবিধা সহ সুসজ্জিত এবং পরিচ্ছন্ন।
সুযোগ-সুবিধা:
- ৫ তলা বিশিষ্ট মূল রিসোর্ট ভবন
- বিভিন্ন ক্যাটাগরির রুম
- আধুনিক সুইমিং পুল
- মাল্টিকুজিন রেস্টুরেন্ট
- বড় অডিটরিয়াম – অনুষ্ঠানের জন্য
- সবুজ ঘাসের বিশাল মাঠ
- শান বাঁধানো ঘাটের পুকুর – নৌকা ভ্রমণ
- একান্তে বসার জায়গা – কাঠের বেঞ্চ
- বিভিন্ন ইনডোর গেমস – ক্যারম, দাবা, লুডু
- আউটডোর গেমস – ব্যাডমিন্টন, ক্রিকেট
- কনফারেন্স হল
- পর্যাপ্ত পার্কিং
- নিরাপত্তা ব্যবস্থা
বিশেষত্ব:
সাহেব বাড়ি রিসোর্ট তার পরিচ্ছন্নতা এবং সুব্যবস্থাপনার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। রিসোর্ট জুড়ে গাছের নিচে কাঠের তৈরী বেঞ্চের ব্যবস্থা রয়েছে যেখানে একান্তে বসে গল্প করা বা বই পড়া যায়। পুকুরের পাড়ে শান বাঁধানো ঘাট এবং নৌকা ভ্রমণের সুবিধা রিসোর্টকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। পরিবার নিয়ে নিরাপদ এবং শান্ত পরিবেশে সময় কাটানোর জন্য এটি একটি আদর্শ স্থান।
রুম ভাড়া: ২,৫০০ থেকে ১২,০০০ টাকা (রুমের ক্যাটাগরি অনুযায়ী)
যোগাযোগ:
- ঠিকানা: রাজেন্দ্রপুর, গাজীপুর
- মোবাইল: 01898829009, 01886800086, 01886800087
রিসোর্ট নির্বাচনে কিছু টিপস
১. আগাম বুকিং: ছুটির দিনগুলোতে রিসোর্টে ভিড় বেশি থাকে। তাই আগে থেকেই বুকিং নিশ্চিত করুন।
২. বাজেট নির্ধারণ: বিভিন্ন রিসোর্টের খরচ ভিন্ন। আগে থেকে বাজেট ঠিক করে নিন এবং সেই অনুযায়ী রিসোর্ট বেছে নিন।
৩. সুযোগ-সুবিধা যাচাই: কোন রিসোর্টে কী কী সুবিধা আছে তা আগে থেকে জেনে নিন। বিশেষ করে শিশুদের খেলার ব্যবস্থা, সুইমিং পুল, খাবারের মান ইত্যাদি।
৪. রিভিউ পড়ুন: গুগল ও ফেসবুকে অন্যদের রিভিউ পড়ে নিলে রিসোর্ট সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাবেন।
৫. যাতায়াত ব্যবস্থা: ঢাকা থেকে দূরত্ব ও যাতায়াত সুবিধা বিবেচনা করুন।
৬. প্যাকেজ অপশন: অনেক রিসোর্টে ডে লং, নাইট স্টে বিভিন্ন প্যাকেজ আছে। আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী প্যাকেজ বেছে নিন।
আরও: ভ্রমণে সঠিক হোটেল নির্বাচনের উপায়
ভ্রমণের সেরা সময়
শীতকাল (নভেম্বর-ফেব্রুয়ারি): রিসোর্ট ভ্রমণের সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। আবহাওয়া মনোরম থাকে এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য আদর্শ।
বর্ষাকাল (জুন-অক্টোবর): সবুজের সমারোহ দেখতে চাইলে এই সময় যেতে পারেন। তবে বৃষ্টির কারণে কিছু কিছু কার্যক্রম বন্ধ থাকতে পারে।
গ্রীষ্মকাল (মার্চ-মে): গরম থাকলেও সুইমিং পুল আছে এমন রিসোর্টে এই সময় ভালো লাগবে।
খরচের ধারণা
রিসোর্টভেদে খরচ ভিন্ন হয়:
- বাজেট রিসোর্ট: ১,৫০০ – ৩,০০০ টাকা (রুম প্রতি)
- মিড-রেঞ্জ রিসোর্ট: ৩,০০০ – ৮,০০০ টাকা (রুম প্রতি)
- প্রিমিয়াম রিসোর্ট: ৮,০০০ – ১৫,০০০ টাকা (রুম প্রতি)
ডে লং প্যাকেজ সাধারণত ৫০০ থেকে ২,০০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে (জনপ্রতি)।
ঢাকা থেকে যাতায়াত
গাজীপুরের রিসোর্টগুলোতে:
- ব্যক্তিগত গাড়ি/মাইক্রোবাস
- মহাখালী/আবদুল্লাহপুর থেকে বাস (ভাড়া ৫০-১০০ টাকা)
- সিএনজি অটোরিকশা
মুন্সিগঞ্জের রিসোর্টগুলোতে:
- গুলিস্তান থেকে মাওয়া-মুন্সিগঞ্জ বাস (ভাড়া ৮০-১২০ টাকা)
- ব্যক্তিগত গাড়ি
টাঙ্গাইলের যমুনা রিসোর্টে:
- কল্যাণপুর/মহাখালী থেকে টাঙ্গাইল বাস (ভাড়া ১৫০-২৫০ টাকা)
রিসোর্টে কী কী নিয়ে যাবেন
- প্রয়োজনীয় কাপড়চোপড় (হালকা ও আরামদায়ক)
- সুইমিং পুলের জন্য সাঁতারের পোশাক
- সানস্ক্রিন ও মশার ঔষধ
- ব্যক্তিগত ওষুধপত্র
- ক্যামেরা (স্মৃতি ধরে রাখতে)
- খেলাধুলার সরঞ্জাম (যদি থাকে)
- হালকা স্ন্যাকস ও পানির বোতল
কর্পোরেট ও গ্রুপ প্যাকেজ
অনেক রিসোর্ট অফিস পিকনিক, টিম বিল্ডিং, কর্পোরেট ইভেন্ট ও বড় গ্রুপের জন্য বিশেষ প্যাকেজ দিয়ে থাকে। এসব প্যাকেজে সাধারণত অন্তর্ভুক্ত থাকে:
- থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা
- কনফারেন্স হল
- অডিও-ভিজ্যুয়াল সুবিধা
- টিম বিল্ডিং অ্যাক্টিভিটিজ
- বিনোদন কার্যক্রম
বড় গ্রুপ হলে আগে থেকে যোগাযোগ করে বিশেষ ছাড় নেওয়ার সুযোগ থাকে।
বিশেষ অনুষ্ঠান আয়োজন
রিসোর্টগুলো বিভিন্ন বিশেষ অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য উপযুক্ত:
- বিয়ের অনুষ্ঠান (হলুদ, বিয়ে, রিসেপশন)
- জন্মদিনের পার্টি
- বার্ষিকী উদযাপন
- পারিবারিক পুনর্মিলনী
- অফিস পিকনিক
পরিবেশবান্ধব রিসোর্ট বেছে নিন
ভ্রমণের সময় পরিবেশবান্ধব রিসোর্ট বেছে নিলে প্রকৃতি রক্ষায় অবদান রাখা যায়। এমন রিসোর্ট খুঁজুন যেখানে:
- প্লাস্টিক ব্যবহার কম
- সৌর শক্তি ব্যবহার করা হয়
- বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি আছে
- বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সঠিক
- স্থানীয় জনগণকে কর্মসংস্থান দেওয়া হয়
ঢাকার কাছে সুন্দর ২০টি রিসোর্টগুলো শহরের ব্যস্ততা থেকে স্বল্প সময়ের জন্য অবকাশ নেওয়ার জন্য আদর্শ। প্রতিটি রিসোর্টেরই নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ও আকর্ষণ রয়েছে। আপনার পছন্দ, বাজেট ও প্রয়োজন অনুযায়ী যেকোনো একটি বেছে নিয়ে পরিবার-পরিজন বা বন্ধুবান্ধব নিয়ে কাটিয়ে আসতে পারেন মধুর কিছু সময়।
মনে রাখবেন, ভ্রমণের মূল উদ্দেশ্য হলো মন প্রফুল্ল করা, নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন এবং প্রিয়জনদের সাথে মানসম্পন্ন সময় কাটানো। তাই যেকোনো রিসোর্ট বেছে নেওয়ার আগে ভালোভাবে তথ্য যাচাই করুন এবং নিরাপদ ও আনন্দময় ভ্রমণ করুন।
ফেসবুক: GoArif
