GoArif
ভ্রমণে নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ১০টি টিপস। দেখুন এখানে
বাংলাদেশ জাদুঘর ভার্চুয়াল করার কাজে অবদান রাখুন – Bangladesh Museum - GoArif

বাংলাদেশ জাদুঘর ভার্চুয়াল করার কাজে অবদান রাখুন

বাংলাদেশ জাদুঘর ভার্চুয়াল করার কাজে অবদান রাখুন (Bangladesh Museum) । প্রথমে একটু শুকরিয়া আদায় করে নেই। আলহামদুলিল্লাহ্‌ আমাদের গো আরিফ (GoArif) ওয়েবসাইট গুগল র‌্যাঙ্কিং এ ১০ এর ১ পেয়েছে। যেখানে গুগল নিজে পেয়েছে ১০ এর ৯! যাইহোক আমাদের কাজ গুলো ভালো করেই এগুচ্ছে।

আমাদের নতুন প্রজেক্টঃ

গত ২৬ জুলাই ২০১৮ তারিখে আমাদের নতুন প্রজেক্ট বাংলাদেশ জাদুঘর (Bangladesh Museum) এর কাজ শুরু হয়েছে। তবে বাংলাদেশ জাদুঘর সম্পূর্ণ অনলাইন ভিত্তিক হচ্ছে।

বিঃদ্রঃ এটা বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর নয় এবং এটা সরকারী কাজ নয়। সম্পূর্ণ বেক্তিগত ভাবে করা হচ্ছে গো আরিফ ফাউন্ডেশন এর মাধ্যমে।

শুরুর পরিকল্পনাঃ

গো আরিফ এর কাজ শুরুর পর থেকে আমরা এক এক করে বেশ কিছু প্রজেক্ট এ কাজ করেছি। যেমনঃ গো আরিফ ব্লগ, গো আরিফ ট্রাভেল, গো আরিফ লাইব্রেরী (কাজ চলছে), গো আরিফ ফাউন্ডেশন। এর আগে আমার আরো কয়েকটি প্রজেক্ট ছিল। সেগুলো হলঃ ছত্রা গবেষণা সংস্থা (Student Research Association -SRA), ইঞ্জিনিয়ারিং ডিসকভারি, বই বিক্রয় ডট কম।

এগুলো সম্পর্কে এর আগে আমি কিছু পোস্ট করেছিলাম। সময় থাকলে দেখে নিতে পারেন।

এবার আসি বাংলাদেশ জাদুঘর এর কথায়। আমি গ্রামের ছেলে। গ্রামে বড় হয়েছি। SSC দেয়া পর্যন্ত গ্রামে ছিলাম। তাই গ্রামের প্রতি বরাবরই আমার টান ছিল, আছে এবং থাকবে ইনশাআল্লাহ্‌।

আমি যখন ছোট ছিলাম (এই তো কিছুদিন আগের কথা) কত রকমের খেলাধুলা করেছি। কত রকম ভাবে মজা করেছি। যারা এই মুহূর্তে আমার এই লেখাটা পড়ছেন আপনি একবার ভেবে দেখুন তো সেই ছোট বেলায় আপনি যে মজা গুলো করেছেন সেগুলো এখন আর কেউ করে কিনা। বা, গ্রামের যে সব লোকসংস্কৃতি, ঐতিহ্য বা খেলাধুলা ছিল সে গুলো কি এখন আর দেখতে পান কিনা।

আমি আমার ছোট বেলায় যা দেখেছি বা পেয়েছি আমার আগের যাদের জন্ম তারা তো আরো আমার থেকে অনেক বেশি লোকসংস্কৃতি পেয়েছেন বা দেখেছেন।  আহা সেই হাডুডু খেলা থেকে শুরু করে কানামাছি, লাটিম, সাতচারা সহ কত রকমের খেলা ছিল তখন। এখন আপনি সেগুলোর একটা ও খুঁজে পাবেন না।

মহিলাদের হস্তশিল্প ছিল দেখার মত। নকশীকাঁথা থেকে শুরু করে আরো কত কি। কতরকমের পিঠা ছিল। যেমনঃ ভাঁপা পিঠা, পাটিসাপটা, চিতই পিঠা আরো কত কি।

বিয়েতে গীত গাইতে দেখেছেন কখনো? মেহেদীগাছ থেকে মেহেদীপাতা নেয়া, বরের আগমন, কনেকে গোসল করানো, কনে বিদায় দেওয়ার সময় একধরনের গান পরিবেশন করা হয়ে থাকে, যেটাকে গীত বলা হয়। যারা গ্রামে বড় হয়েছেন তারা ইতিমধ্যে কল্পনা করতে পারছেন সেই সময়টা। এগুলো এখন আর নেই বললেই চলে।

বিয়েতে কনেকে পালকি করে নেয়া হতো। সেগুলো অবশ্য আমি দেখিনি, শুনেছি।

আস্তে আস্তে আমাদের থেকে এই বাংলা থেকে আমাদের সব  লোকসংস্কৃতি, ঐতিহ্য গুলো বিদায় নিচ্ছে। সেখানে দখল করে নিচ্ছে আধুনিক সব কিছু।

আরও পড়ুনঃ BoiBikroy.com (বই বিক্রয় ডট কম) নিয়ে কিছু কথা!

কীভাবে শুরু করলামঃ

বাংলাদেশে আমাদের একটি জাতীয় জাদুঘর রয়েছে। যেটি ঢাকার শাহাবাগ এর অবস্থিত। আপনি টিকিট সংগ্রহ করে সেখানে ভিজিট করতে পারবেন। এছাড়া কিছু নিজস্ব বা বেক্তিগত জাদুঘর রয়েছে। যে গুলো বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে রয়েছে।

কিন্তু আমাদের কোন অনলাইন বা, ভার্চুয়াল জাদুঘর নেই। যেটা বিশ্বের অন্যান্য দেশ গুলোতে রয়েছে। উদাহরণ স্বরূপঃ ব্রিটিশ মিউজিয়াম।

গো আরিফ ফাউন্ডেশন থেকে আমরা ইতিমধ্যে শিক্ষা ক্ষেত্রে শিক্ষা উপকরণ বিতরণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা করা শুরু করেছি। নতুন আমাদের একটি পাঠাগার ও হচ্ছে এই ফাউন্ডেশন থেকে।

তো, আমার ফ্রেন্ড মোফাজ্জেল আমাকে গো আরিফ জাদুঘর এর নামে একটা অনলাইন জাদুঘর করার পরামর্শ দিল। আমার যেহেতু এই বিষয় নিয়ে আগে থেকে ই কিছুটা প্ল্যান ছিল। আমি এটা নিয়ে ভাবা শুরু করলাম।

এরপর আমি একটা অনলাইন জাদুঘর এর জন্য ডোমেন খুজতে থাকলাম। যেটা গো আরিফ ফাউন্ডেশন এ চলবে। যা, গো আরিফ জাদুঘর এর অনলাইন ভার্সন হবে।

জাদুঘর এর জন্য ওয়েবসাইট নেয়াঃ

আমি চাচ্ছিলাম ওয়েবসাইট এর নামটা এরকম হবে যাতে সবাই সহজে মনে রাখতে পারে এবং সবার জন্য যাতে সহজ হয়। আমাদের বাংলাদেশের জাতীয় জাদুঘর এর ওয়েবসাইট এর নাম bangladeshmuseum.gov.bd । আর, bangladeshmuseum.org এর ডোমেন টা কেউ একজন কিনে রেনডম রিডাইরেক্ট করে রেখেছে। bangladeshmuseum.com এর ডোমেনটা খোলা ছিল। তাই আমি এই ডোমেন টা কিনে ফেললাম।

২৬ জুলাই ২০১৮ তারিখঃ

২৬ জুলাই ২০১৮ তারিখ প্রথম bangladeshmuseum.com ডোমেন এর সাথে হোস্টিং (“হোস্টিং” না বুজলে গুগল করে দেখে নিতে পারেন) যোগ করে সাইট এর কাজ শুরু করা হয়। তারপর শুরু হয় সাইট ডিজাইন এর কাজ।

তথ্য সংগ্রহঃ

একটা অনলাইন বা, ভার্চুয়াল জাদুঘর করা কিন্তু চাট্টি খানি কথা নয়। এটা কোন ব্লগ সাইট নয় যে নিজের ইচ্ছামত যা ইচ্ছা তাই করলাম। অনেক ভেবে চিন্তে এগুতে হচ্ছে আমাদের।

জাদুঘর মানে বিশাল তথ্য ভান্ডার। আর, বাংলাদেশ জাদুঘর এ আমরা বাংলাদেশের লোকসংস্কৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য ইত্যাদি বিষয় গুলো নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। শুধু তথ্য দিলে ই হবে না। সে গুলো সঠিক কিনা সেটা ও কিন্তু দেখতে হবে।

আরও পড়ুনঃ সমুদ্র কিভাবে তৈরি হয়েছিল? জানুন বিস্তারিত

বাংলাদেশ জাদুঘর এর ওয়েবসাইটঃ

বাংলাদেশ জাদুঘর এর ওয়েবসাইট ডিজাইন এমন ভাবে করা হচ্ছে যাতে, যে কেউ খুব সহজে এর তথ্য গুলো খুঁজে পেতে পারে। সে জন্য সাইটে খুব সুন্দর একটা সার্চ সিস্টেম রাখা হয়েছে। আপনি সেখানে খুব সহজেই সার্চ করে তথ্য বের করতে পারবেন। আমাদের টীম আপনি কি সার্চ করছেন সেটা মনিটরিং করে সেটা কে এনালাইসিস করে তথ্য সাজাবে। এবং আপনার তথ্য আরো সহজে পাওয়া নিশ্চিত করবে।

প্রতিটি পাতার নিচে রাখা হয়েছে একটি প্রতিক্রিয়া জানানোর সিস্টেম। যেখানে যে কেউ লেখা সম্পর্কে তার মতামত, তথ্যে ভুল বা, লেখা উন্নতি করার পরামর্শ দিতে পারবেন ( সে জন্য আপনাকে নাম, ই-মেইল দেয়ার প্রয়োজন হবে না)। আমাদের টীম আপনার দেয়া তথ্য বা মতামত বিশ্লেষণ করে সেটা সাইটের উন্নতির কাজে লাগাবে।

বাংলাদেশ জাদুঘর এর উদ্দেশ্যঃ

বাংলাদেশ জাদুঘর এর উদ্দেশ্য অনেক। তার ভিতরে প্রধান কয়েকটি হলঃ বাংলাদেশের ঐতিহ্য বা, লোকসংস্কৃতি বিশ্বের কাছে তুলে ধরা। যাতে বিশ্ববাসী অনুধাবন করতে পারে যে, জাতি হিসেবে আমরা আসলে কত সংস্কৃতিপনা এবং আমরা কতটা চমৎকার।

আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম কে বাংলাদেশের লোকসংস্কৃতি সম্পর্কে ধারনা দেয়া। এই ভুলতে বসা লোকসংস্কৃতি গুলো কে যাতে তারা কিছু হলেও মনে রাখে সে ব্যবস্থা করা।

যেহেতু বর্তমান যুগ হচ্ছে ডিজিটাল যুগ। তাই, বিশ্বের যে প্রান্তেই আমরা থাকি না কেনো অন্তত পক্ষে একটা ডিজিটাল এই মাধ্যমটাকে ব্যাবহার করে অনলাইনের মাধ্যমে আমরা আমাদের পুরনো লোকসংস্কৃতি কে নিজের মনে নাড়া দিতে পারি।

বাংলাদেশ জাদুঘর এ আপনি কীভাবে অবদান রাখবেনঃ

আপনি চাইলে ই বাংলাদেশ জাদুঘরে অবদান রাখতে পারেন। প্রথমে আমি বলব আপনি একবার বাংলাদেশ জাদুঘর এর ওয়েবসাইটে ভিজিট করে আসুন। ওয়েবসাইট ঠিকানাঃ bangladeshmuseum.com (সাইট এর কাজ চলছে)

সাইট ভিজিট করে এসেছেন? চলুন এবার বাকি কথা বলি। বাংলাদেশ জাদুঘর এ আমরা প্রথমে আমাদের বাংলাদেশের লোকসংস্কৃতি, ঐতিহ্য, হস্তশিল্প, প্রবাদ-প্রবচন ইত্যাদি সংগ্রহের কাজ করছি। আপনি কাজ করতে আগ্রহি হলে আমাদের ইমেইল ঠিকানা (infogoarif[at]gmail.com) অথবা ফেসবুক পেইজে যোগাযোগ করতে পারেন। বাংলাদেশ জাদুঘরে তথ্য সংগ্রহের জন্য আমাদের একটি সবুজ টীম কাজ করছে। সবুজ টীম এ বাংলাদেশের নানা অঞ্চল থেকে অনেকেই কাজ করছে। আপনি সেখানে জয়েন করলে কীভাবে আপনি কাজ করবেন তারা আপনাকে সে বিষয়ে গাইড করবে।

আরও পড়ুনঃ আয়মান সাদিক, প্রীত রেজা ভাই এর সাথে চমৎকার একটি দিন কাটালাম

চলুন শুরু করিঃ

চলুন শুরু করি আমাদের নতুন এক চ্যালেঞ্জ এর কাজ। আমাদের ভালো লাগা, ভালো বাসার কাজ। চলুন কিছুটা হলেও ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করি আমাদের সেই দারুণ চমৎকার লোকসংস্কৃতি গুলো কে। চলুন অনলাইন এর মাধ্যমে কিছুটা হলেও আমাদের পরবর্তী জেনারেশন এর জন্য আমাদের লোকসংস্কৃতি সেই ঐতিহ্য কে জানান দেই।

আমি আশাবাদী মানুষ। আমি বিশ্বাস করি আপনারা আমরা সবাই মিলে যদি একটু করে সময় দেই তাহলে এই কাজটি হতে বেশি সময় লাগবে না।

তাহলে হোক নতুন এক সূচনা এই আমাদের বাংলাদেশে। হোক নতুন এক ভার্চুয়াল জগতের সৃষ্টি। সবার প্রতি শুভকামনা।


আমার ফেসবুকঃ GoArif | আমার টুইটারঃ GoArif

আরিফ হোসেন

আমি একজন ভ্রমণ পীপাষু মানুষ। ভ্রমণ করতে আমার খুবই ভালো লাগে। তাইতো সময় পেলে ভ্রমণে ছুটে যাই। কোন ভ্রমণই আমার শেষ হয়ে শেষ হয় না। বারংবার আমার সেই স্থানে ছুটে যেতে ইচ্ছে করে। কারন, আমি যে প্রকৃতি ভালবাসি।

মন্তব্য

আমাদের মন্তব্য নীতি অনুযায়ী পরিচালনা করা হয় এবং আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। দয়া করে নাম দেয়ার ক্ষেত্রে কীওয়ার্ড ব্যবহার করবেন না। আসুন একটি ব্যক্তিগত এবং অর্থপূর্ণ কথোপকথন হয়ে যাক 😊 ।





মোবাইল ভার্সন দেখুন এখানে

সোশ্যাল মিডিয়ায় আমি!

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমাকে অনুসরণ এবং আমার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। নিচের সোশ্যাল মিডিয়া গুলোতে আমি খুবই এক্টিভ থাকি।

জরিপ চলছে

ভ্রমণে দীর্ঘ যাত্রায় আপনি কোনটিতে বেশী সাচ্ছন্দ বোধ করেন?


রেজাল্ট দেখুন

Loading ... Loading ...

আরিফ হোসেন

আমি একজন ভ্রমণ পীপাষু মানুষ। ভ্রমণ করতে আমার খুবই ভালো লাগে। তাইতো সময় পেলে ভ্রমণে ছুটে যাই। কোন ভ্রমণই আমার শেষ হয়ে শেষ হয় না। বারংবার আমার সেই স্থানে ছুটে যেতে ইচ্ছে করে। কারন, আমি যে প্রকৃতি ভালবাসি।

আর্কাইভ