মালদ্বীপ (Maldives), যাকে সমুদ্রের বুকে এক টুকরো স্বর্গ বলা হয়ে থাকে। মালদ্বীপ হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ায় অবস্থিত ভারত মহাসাগরের একটি দ্বীপ (Island) দেশ। অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি এই দেশ বিশ্বের সবচেয়ে নিচু দেশ হিসেবে স্বীকৃত।
ভ্রমণকারীদের জন্য বিখ্যাত এ দেশের উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে সর্বোচ্চ মাত্র ২.৩ মিটার এবং গড় উচ্চতা মাত্র ১.৫ মিটার। এই দেশে পাবলিক দ্বীপ এবং প্রাইভেট দ্বীপ মিলে ১২০০+ ছোট বড় দ্বীপ রয়েছে! হয়তো এই জন্যই এই দেশের নামের শেষে দ্বীপ লেখাটি যুক্ত রয়েছে।
আপনি যদি সহজে বা শর্ট ট্রিপে বাংলাদেশ থেকে কোন দেশে ভ্রমণ করতে চান তাহলে চলে যেতে পারেন মালদ্বীপে। এছাড়া আপনার হানিমুনের জন্য প্যারিসের পরেই বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর ও রোমান্টিক হানিমুন জায়গা হচ্ছে এই মুহূর্তে মালদ্বীপ।
আরও: কম খরচে এয়ার টিকিট কিভাবে করবেন
| ভ্রমণ স্থান | মালদ্বীপ |
| অবস্থান | দক্ষিণ এশিয়া, এশিয়া |
| রাজধানী | মালে |
| আয়তন | ২৯৮ বর্গ কিলোমিটার (১১৫ বর্গ মাইল) |
| ধর্ম | সুন্নি ইসলাম (সরকারি) |
| ভাষা | ধিবেহী ভাষা বা মালদ্বীপীয় ভাষা |
| মুদ্রা | মালদ্বীপীয় রুফিয়াহ (MVR), মার্কিন ডলার (USD, মালদ্বীপের রিসোর্ট দ্বীপে ব্যবহৃত) |
| সময় অঞ্চল | ইউটিসি+৫ (মালদ্বীপ মান সময়) |
| গাড়ী চালনার দিক | বাম |
| কলিং কোড | +৯৬০ |
| বিমানবন্দর | ভেলানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (MLE) |
| অ্যাটলস | ২৬টি |
| দ্বীপের সংখ্যা | ১২০০+ |
| ঢাকা থেকে দূরত্ব | প্রায় ২,৯৪১ কিলোমিটার |
| ভারত থেকে দূরত্ব | প্রায় ২,০৩০ কিলোমিটার |
| ভ্রমণের উপযুক্ত সময় | গ্রীষ্মকাল (নভেম্বর থেকে এপ্রিল) |
| ড্রোন উড়ানো যাবে | হ্যাঁ |
আপনি বাংলাদেশ থেকে খুব সহজে সরাসরি যেতে পারবেন। কি নেই এই দ্বীপে? চোখ জুড়ানো সাদা-বালির সৈকত, স্বচ্ছ পানি এবং প্রাণবন্ত সামুদ্রিক জীবন, যা বিশ্বব্যাপী ভ্রমণকারীদের জন্য একটি ড্রিম দর্শনীয় স্থান হয়ে উঠেছে।
ভ্রমণের সেরা সময়
গ্রীষ্মকাল (নভেম্বর থেকে এপ্রিল মাস) হচ্ছে মালদ্বীপ ভ্রমণের উপযুক্ত সময়। এই সময়ে মালদ্বীপের আকাশ পরিষ্কার থাকে ও সমুদ্রের পানি অদ্ভুত সুন্দর গাড় নীল রঙ ধারণ করে থাকে। আপনি সহজে চারদিকে ঘুরে বেড়ানো, আইল্যান্ড হোপিং এবং ওয়াটার স্পোর্টসে অংশগ্রহণ করার জন্য শুষ্ক আবহাওয়াই উত্তম সময়।
তাই স্বাভাবিক ভাবেই বলা চলে যে, এসময় পর্যটকদের চাপ একটু বেশি থাকে। আপনি যদি বাজেট ট্যুর কিংবা ভ্রমণ খরচ কমাতে চান তাহলে মার্চ ও এপ্রিল মাসে ভ্রমণে যেতে পারেন। কারন, অফ-সিজন হওয়ায় এই সময় গুলোতে সবকিছুর দাম তুলনামূলক কম পাবেন।
আরও: পাসপোর্ট হয়েছে কিনা চেক করবেন যেভাবে
ভ্রমণে যা যা লাগবে
মালদ্বীপ ভ্রমণে প্রথমে যা লাগবে তা হল, আপনার মানসিক আগ্রহ। মন স্থির করে টাইম এবং ভ্রমণের সময়কাল ঠিক করুন। বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য মালদ্বীপে ভিসা অন এরাইভাল (On Arrival Visa)। আপনার বাংলাদেশ থেকে মালদ্বীপ ভ্রমণে জন্য যা যা লাগবে তার একটা লিস্ট দেয়া হল:
- একটি বৈধ পাসপোর্ট (অবশ্যই ৬ মাসের বেশি মেয়াদ থাকতে হবে)
- মালদ্বীপ ভ্রমণের জন্য পর্যাপ্ত আর্থিক সামর্থ্যের প্রমাণ
- যাওয়া এবং আসার বিমান টিকিট
- হোটেল বুকিং কনফার্মেশন (ফেক বুকিং গ্রহনযোগ্য নয়)
- ইমুগা (ট্রাভেলার ডিক্লেয়ারেশন) [ফ্লাইটের ৯৬ ঘণ্টার মধ্যে ফর্ম পূরণ করতে হবে]
- অন এরাইভাল ভিসা (এয়ারপোর্টে ভিসা নিয়ে কোন ঝামেলা বা জটিলতা নেই)
পূর্বেই বলেছি বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য মালদ্বীপে ভিসা অন এরাইভাল। মালদ্বীপ এয়ারপোর্টে যাওয়ার পর আপনার পাসপোর্টে একটা সিল দিয়ে দিবে। ব্যাস, আপনার ভিসার যাক শেষ। বাংলাদেশের হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এয়ারপোর্টে আপনার থেকে শুধুমাত্র যাওয়া এবং আসার বিমান টিকিট চাইবে সাথে পাসপোর্ট, ইমুগা এবং হোটেল বুকিং কনফার্মেশন চাইবে।
মনে রাখবেন, আপনাকে দেয়া অন এরাইভাল ভিসার মেয়াদ ৩০ দিন। চাইলে অতিরিক্ত ফি দিয়ে আরও ৬০ দিন সহ মোট ৯০ দিন মালদ্বীপে থাকতে পারবেন।
পরামর্শ: হোটেল বুকিংয়ের ক্ষেত্রে অনেকে ইন্টারন্যাশনাল কার্ড ব্যাবহার করে ফেক হোটেল বুকিং করে যান। পরে মালদ্বীপ গিয়ে আর সেই হোটেলে না উঠে সস্তা অন্য হোটেলে থাকেন। কারও কারও ক্ষেত্রে এই চালাকি কাজ করলেও অনেকে মালদ্বীপ এয়ারপোর্টে নামার পর কনফার্ম হোটেল বুকিং না থাকায় ইমিগ্রেশন থেকে তাকে ফেরত পাঠাচ্ছে।
তাই ভ্রমণের পূর্বে ফেক হোটেল বুকিং করা থেকে বিরত থাকুন। আপনার ভ্রমণ হউক নিরাপদ এবং আনন্দময়। মালদ্বীপ ভ্রমণের অন এরাইভাল ভিসার কোন ফি নেই! মানে, আপনার থেকে অন এরাইভাল ভিসার জন্য কোন টাকা নিবে না। এটা সম্পূর্ণ ফ্রি।
আরও: ট্যুরিস্ট ভিসা সম্পর্কে অফিসিয়াল তথ্য
ইমুগা (ট্রাভেলার ডিক্লেয়ারেশন)
ভ্রমণের পূর্বে অনলাইন থেকে আপনার ইমুগা (ট্রাভেলার ডিক্লেয়ারেশন) ফর্ম পূরণ করে নিন। কিভাবে আপনি ইমুগা (ট্রাভেলার ডিক্লেয়ারেশন) ফর্ম পূরণ করবেন তা জন্য বিস্তারিত দেখুন: ইমুগা ফর্ম পূরণের গাইডলাইন।
মালদ্বীপের স্থানীয় মুদ্রা হল মালদ্বীপীয় রুফিয়াহ Maldivian Rufiyaa (MVR)। এছাড়া বেশিরভাগ পর্যটন কেন্দ্র, রিসোর্ট বা হোটেলে মার্কিন ডলার ব্যবহার করা হয়। আপনার সাথে যদি ইন্টারন্যাশনাল কার্ড থাকে তাহলে আপনি অনায়েশে সব স্থানে পেমেন্ট করতে পারবেন তবে, কেনাকাটার জন্য বা স্থানীয় বাজারে যাওয়ার জন্য সাথে কিছু স্থানীয় মুদ্রা মালদ্বীপীয় রুফিয়াহ নিয়ে যেতে পারেন।
আপনি এয়ারপোর্টে অথবা ঢাকার বিভিন্ন মানি এক্সচেঞ্জ অফিস থেকে টাকা থেকে মালদ্বীপীয় রুফিয়াহ বা ডলার একচেঞ্জ করে নিতে পারে। ১ মালদ্বীপীয় রুফিয়াহ = ৭ টাকা ৫৪ পয়সা (কম-বেশি হতে পারে)।
হোটেল/রিসোর্টে বুকিং
মালদ্বীপ ভ্রমণের পূর্বে হোটেল বুকিং করা বাধ্যতামূলক। মালদ্বীপকে বলা হয়ে থাকে হাজার দ্বীপের দেশ। এখানে পাবলিক দ্বীপ এবং প্রাইভেট দ্বীপ রয়েছে। যেহেতু এটি মুসলিম প্রধান দেশ তাই, পাবলিক দ্বীপ এবং প্রাইভেট দ্বীপের আদালা কিছু নিয়ম রয়েছে।
এখানের পাবলিক দ্বীপগুলোতে ট্যুরিস্টদের পাশাপাশি মালদ্বীপের স্থানীয়রা বসবাস করে থাকেন আর প্রাইভেট দ্বীপগুলোর বিলাসবহুল রিসোর্ট রয়েছে। আর প্রাইভেট দ্বীপগুলোকে ট্যুরিস্টদের টার্গেট করে বানানো হয়েছে।
ভ্রমণে পূর্বে আপনি অনলাইনে বা ওয়েবসাইটে থেকে হোটেল বুকিং দিতে পারবেন। আপনার পছন্দ অনুযায়ী যে কোন হোটেলে থাকতে পারবেন। নিচে ৩ ধাপে কিছু হোটেল এবং রিসোর্টের নাম এবং ওয়েবসাইট ঠিকানা দেয়া হল। ওয়েবসাইটে ঢুকে আপনার পছন্দ অনুযায়ী হোটেল বা রিসোর্ট বুকিং দিতে পারেন। বুকিং এর জন্য আপনার ইন্টারন্যাশনাল কার্ড দিয়ে বুকিং করতে হবে।
মালদ্বীপে প্রায় ১৪০ টা বিভিন্ন ধরণের রিসোর্ট রয়েছে আর হোটেলের সংখ্যা প্রচুর। কয়েক ধরণের রিসোর্ট হল:
- ওয়াটার ভিলা রিসোর্ট
- বীচ ভিলা রিসোর্ট
- ওয়াটার ভিলা উইথ প্রাইভেট পুল রিসোর্ট
হুলহুমালে সেরা হোটেল
বেশিরভাগ পর্যটকই রাজধানী মালে থেকে ৪ থেকে ৫ মিলোমিটার দূরে হুলহুমালে তে থাকতে চান। হুলহুমালের সেরা হোটেলগুলো নিচে দেয়া হল-
- Huvan Beach Hotel at Hulhumale
- Samann Host
- Season Holidays
মাফুশি আইল্যান্ড
আপনার ট্যুর প্ল্যান অনুযায়ী হুলহুমালেতে ১ থেকে ২ রাত থেকে চলে যেতে পারেন মাফুশি আইল্যান্ড। এটি একটি পাবলিক আইল্যান্ড যেখানে ট্যুরিস্টদের জন্য আছে বিকিনি বীচ আর লোকালদের জন্য রয়েছে লোকাল বীচ। জেনে রাখা ভালো যে, এই মাফুশি আইল্যান্ড বাংলাদেশীদের কাছে খুবই জনপ্রিয়।
- Arena Beach Hotel
- Kaani Grand Seaview
- Triton Beach Hotel & Spa
- Maamadi Boutique Hotel
প্রাইভেট দ্বীপ
আপনি চাইলে মালদ্বীপের সবচেয়ে আকর্ষনীয় স্থানের অসংখ্য প্রাইভেট দ্বীপগুলোর মধ্যে একটিতে রাত্রিযাপন করতে পারেন। এই দ্বীপে থাকতে হলে প্রতি রাতে আপনাকে প্রায় ১ লক্ষ টাকা দিতে হবে!
এখানের বাংলো গুলো সরাসরি সমুদ্রের উপরে ধার ঘেষে দাঁড়িয়ে রয়েছে। আপনি সূর্যোদয় বা সূর্যাস্তের অসাধারণ ভিউ পাবেন এখানে। আর সমুদ্রের পানির অপরুপ সৌন্দর্য্য তো রয়েছেই।
- Sun Siyam Olhuveli
- You & Me Maldives
- Reethi Beach Resort
- Kuredu Resort & Spa
- Summer Island Maldives
বি:দ্র: হোটেল বুকিং করার পর বুকিং এর কপি অবশ্যই সাথে রাখবেন। কারন, এয়ারপোর্টে আপনার থেকে এই হোটেল বুকিং কপি চাইলে।
পরামর্শ: রিসোর্ট বুকিং দেয়ার পূর্বে খেয়াল রাখবেন মালে শহর থেকে রিসোর্টের দূরত্ব কত। কারন, আপনি সস্তায় রিসোর্ট পেয়ে বুকিং দিলেন, যা মালে শহর থেকে অনেক দূরে। ফলে হবে কি, রিসোর্টে যেতে আপনাকে সি-প্লেন ব্যাবহার করতে হবে। আর সি-প্লেন দিয়ে রিসোর্টে যাওয়া আসা করে আপনার খরচ কমার চেয়ে কয়েক গুন বেড়ে যেতে পারে!
তাই রিসোর্ট বুকিং করার সময় এই বিষয়টা খেয়াল রাখবেন। চেষ্টা করবেন মালে শহর থেকে কাছাকাছি কোথাও রিসোর্ট নিতে। এতে কম খরচে এবং কম সময়ে স্পিডবোট দিয়ে রিসোর্টে যাতায়েত করতে পারবেন।
আরও: মালদ্বীপের সেরা ১০টি দর্শনীয় স্থান
কি কি দেখবেন
মালদ্বীপে গিয়ে কি কি দেখবেন বা মালদ্বীপে গিয়ে কোথায় কোথায় ঘুরবেন তার একটা লিস্ট দেয়া হল। এছাড়া আপনার ইচ্ছেমত যে কোন স্থানে ঘুরে বেড়াতে পারেন।
- ভ্রমণে আপনি হুলহুমালে সৈকতে বসে সমুদ্রের গাড় নীল রঙের পানি উপভোগ করতে পারেন ও মালে সিটি ঘুরে দেখা এবং শপিং করতে পারেন।
- মাফুশি আইল্যান্ডে বীচ ভিউ রুমে বসে রিল্যাক্স করা, সমুদ্র দেখা ও বীচে বসে চারপাশের পরিবেশ উপভোগ করতে পারেন।
- মাফুশি আইল্যান্ডের প্রধান আকর্ষন হচ্ছে নানারকম ওয়াটার অ্যাক্টিভিটি যার মধ্যে রয়েছে স্নরকেলিং উইথ শার্ক, টার্টেল ও ডলফিন, স্কুবা ডাইভিং এবং প্যারাসেইলিং এর মত দারুণ সব উপভোগ্য এক্টিভিটি। বিশেষভাবে বলা যায় যে, স্নরকেলিং উইথ শার্ক হবে আপনার মালদ্বীপ ট্রিপের সেরা অ্যাডভেঞ্চার।
- আপনি লাক্সারি প্রাইভেট বীচ রিসোর্টে অবশ্যই এক রাত যাপন করার চেষ্টা করবেন। এই দেশের প্রাইভেট বীচগুলোর আবহ ও সার্ভিসের কোন তুলনা হয় না।
- ওভারওয়াটার বাংলো গুলোতে সাধারনত ইন-বিল্ট পুল বা জাকুজ্জি থাকে। তাই ১৪০ ডলার খরচ করে ব্রেকফাস্ট ইন পুল সেবা নিতে পারবেন যাতে থাকবে পুলের ভেতর সকালবেলার সুস্বাদু ব্রেকফাস্ট খাবার।
- মালদ্বীপ পৃথিবীর অন্যতম সুন্দর একটি স্থান। তাই যত ইচ্ছা ছবি তুলুন আর ভরিয়ে ফেলুন আপনার ইন্সটাগ্রাম! তবে খেয়াল রাখবেন, বেশি ছবি তোলা বা ভিডিও করতে গিয়ে ভ্রমণের আসল সৌন্দর্য্য দেখতে ভুলবেন না।
৫ দিন ৪ রাতের ট্রিপ প্ল্যান
চলুন আমরা ৫ দিন ৪ রাত মালদ্বীপ ভ্রমণ প্ল্যান তৈরি করার চেষ্টা করি। এটা একটা ধারণা মাত্র। আপনি আপনার মত করে সুন্দর একটা ভ্রমণ প্ল্যান তৈরি করে নিবেন।
১ম দিন ভ্রমণ প্ল্যান
১ম দিন কি কি ভ্রমণ প্ল্যান করবেন তার একটা লিস্ট দেয়া হল। এছাড়া আপনি চাইলে আপনার মত করে ভ্রমণ প্ল্যান করে নিতে আপ্রেন।
২য় দিন ভ্রমণ প্ল্যান
আপনার ভ্রমণের ২য় দিনে উপভোগ করুন মালদ্বীপের আসল সৌন্দর্য। দ্বিতীয় দিনে সকালের নাস্তা শেষে বেরিয়ে পরুন। কি কি স্থান ঘুরে দেখতে পারেন তা নিচে দেয়া হল:
৩য় দিন ভ্রমণ প্ল্যান
মালদ্বীপ ভ্রমণের ৩য় দিন আপনি সকালে উঠে সকালের নাস্তা করে রিসোর্ট ছাড়িয়ে স্থানীয় দ্বীপগুলোতে ঘুরে আসতে পারেন। এই দেশের সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যের কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টা করুন।
৪র্থ দিন ভ্রমণ প্ল্যান
৪র্থ দিন ভ্রমণ প্ল্যানে রিল্যাক্সেশন এবং স্পার জন্য সময় রাখুন। মালদ্বীপে রয়েছে বিশ্বমানের স্পা সুবিধা। তাই ভ্রমণে আপনি স্পা নিতে পারেন।
৫ম দিন ভ্রমণ প্ল্যান
৫ দিনের এই ট্যুর প্লানের শেষ দিন অর্থাৎ ৫ম দিনে আপনার ভ্রমণ প্ল্যান করুন। আপনার ভ্রমণের সমাপ্তি যেন সুন্দর এবং আনন্দময় হয় তার দিকে খেয়াল রাখুন।
ট্রিপের আনুমানিক খরচ
বলা যায় যে মালদ্বীপ ভ্রমণ বেশ ব্যয়বহুল। তবে আপনি যদি বাজেট ট্যুর করতে চান তাহলে আপনার খুব গুছানো এবং বাজেট ফ্রেন্ডলি একটা ট্যুর প্ল্যান করতে হবে। নিচে ২ জনের মালদ্বীপ ভ্রমণ খরচ কত হতে পারে তার একটা ধারণা দেয়া হলঃ
আরও: মালদ্বীপ যেতে কত টাকা লাগে
ভ্রমণে টিপস ও সতর্কতা
- হুলহুলে আইল্যান্ডের ভেলানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চেক আউটের সময় আপনার সব তথ্য যাচাই করে অন এরাইভাল ভিসার ফর্ম দিবে। ভিসা ফর্ম পূরণ করে নির্দিষ্ট ফি দিয়ে আপনার অন এরাইভাল ভিসার কাজ সম্পূর্ণ করুন ও ইমিগ্রেশন এবং কাস্টমসের সকল কাজ শেষে এয়ারপোর্ট থেকে বের হয়ে আসুন।
- বিমানের টিকিট কাটা, হোটেল বুকিং এবং লাগেজ ঘুছিয়ে নির্দিষ্ট দিনে ফ্লাইট টাইমের ৩ ঘন্টা পূর্বে এয়ারপোর্টে চলে আসুন। বাসা থেকে বের হওয়ার পূর্বে সাথে পাসপোর্ট, বিমানের টিকেট কপি, NID কপি, হোটেল বুকিং কপি, লাগেজ ইত্যাদি সব কিছু নেয়া হয়েছে কিনা যাচাই করে নিন।
- মালদ্বীপে মোট ২৬টি অ্যাটলস (Atolls) রয়েছে। অ্যাটলস আবার কি জিনিস! অ্যাটলস এর বাংলা হচ্ছে, প্রবালপ্রাচীর। ছোট বড় অনেক গুলো দ্বীপ মিলে একটা প্রবালপ্রাচীর তৈরি হয়। আর এই এক এক টা প্রবালপ্রাচীর কে অ্যাটল বলা হয়ে থাকে। আর ২৬টি প্রবালপ্রাচীর বা অ্যাটলস নিয়ে মালদ্বীপ গঠিত হয়েছে।
- আপনি যদি বাজের ট্যুর করতে চান তাহলে মালদ্বীপে সবচেয়ে সাশ্রয়ী যাতায়াত মাধ্যম হচ্ছে ফেরী। তাই এয়ারপোর্ট-হুলহুমালে-এয়ারপোর্ট রুটে ফেরীতে যাতায়াত করে টাকা বাঁচাতে পারেন। তবে আমরা এটা সুপারিশ (Recommend) করি না।
- মাফুশি আইল্যান্ডে বাঙালি খাবার খেলে খাবারের খাতে অনেক টাকা বাঁচাতে পারেন।
- টাকা বাচানোর আরেকটি উপায় হচ্ছে অফ সিজনে ভ্রমণে যাওয়া। এসময় সব কিছুর দাম তুলনা মূলক কম থাকে।
- আপনি যদি প্রাইভেট রিসোর্টে ওয়াটার অ্যাক্টিভিটিজ ট্রাই না করেন বরং সব ওয়াটার অ্যাক্টিভিটিজ মাফুশি থেকে করে আসেন তাহলেও টাকা বাঁচাতে পারেন।
- আরেকটি উপায় হলো, মালদ্বীপ এয়ারপোর্ট বা লোকাল মানি এক্সচেঞ্জার থেকে মুদ্রা বিনময় না করে ঢাকা থেকে মানি এক্সচেঞ্জ করে নিয়ে গেলে আপনার টাকা বাঁচাতে পারেন। এর কারন হল, লোকাল অথবা মালদ্বীপ এয়ারপোর্টে আপনার টাকার বিপরীতে ডলার অথবা মালদ্বীপীয় রুফিয়াহর মূল্য কম পাবেন।
মালদ্বীপ নিয়ে ভ্রমণ জিজ্ঞাসা
মালদ্বীপের এক টাকায় বাংলাদেশের কত?
১ মালদ্বীপীয় রুফিয়াহ = ৭ টাকা ৫৪ পয়সা (কম-বেশি হতে পারে)।
মালদ্বীপ এর ভাষার নাম কি?
ধিবেহী ভাষা বা মালদ্বীপীয় ভাষা। এছাড়া সিংহলি ভাষা, আরবি ভাষা এবং বিভিন্ন ভারতীয় ভাষার প্রচলন আছে। তবে বাণিজ্য ও পর্যটন শিল্পে ইংরেজি ভাষা ব্যবহার করা হয়।
মালদ্বীপ কি মুসলিম দেশ?
হ্যাঁ। সুন্নি ইসলাম মালদ্বীপের রাষ্ট্রীয় ধর্ম।
মালদ্বীপ এর রাজধানীর নাম কি?
মালদ্বীপের নামকরণ করা হয়েছে প্রধান দ্বীপ এবং রাজধানী মালে।
মালদ্বীপ যেতে কত বছর বয়স লাগে?
মালদ্বীপে যাওয়ার জন্য বয়সসীমা নেই তবে, আপনি যদি কাজের জন্য মালদ্বীপ যেতে চান তাহলে আপনার বয়স সর্বনিম্ন ২০ বছর হতে হবে।
মালদ্বীপে কয়টি দ্বীপ আছে?
মালদ্বীপে পাবলিক দ্বীপ এবং প্রাইভেট দ্বীপ মিলে ১২০০ বেশি ছোট ছোট দ্বীপ রয়েছে!
ফেসবুক: GoArif
