লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান (Lawachara National Park), বাংলাদেশের সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গল উপজেলায় অবস্থিত। শ্রীমঙ্গল শহর এই সংরক্ষিত বনাঞ্চল মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে রয়েছে। এখানের বিখ্যাত হচ্ছে উল্লুক।
বাংলাদেশের যে ৭টি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য ও ১০টি জাতীয় উদ্যান আছে এর মধ্যে লাউয়াছড়া অন্যতম। আয়তের দিক থেকে লাউয়াছড়া উদ্যান ১২৫০ হেক্টর বিশিষ্ট এবং এটিকে প্রাকৃতিক জাদুঘরও বলা হয়ে থাকে। এখানে রয়েছে বিভিন্ন প্রকার গাছগাছালি ও পশুপাখি। তাছারা জীব বৈচিত্রে ভরপুর নান্দনিক সৌন্দর্যের অন্যতম স্থান এই জাতীয় উদ্যানটি দেশে ট্রপিক্যাল রেইন ফরেস্ট হিসেবে খ্যাত। উদ্যানটি মাধবপুর টি স্টেট যাওয়া বা আসার পথেই পরে।
আরও: শ্রীমঙ্গল
| অবস্থান | কমলগঞ্জ উপজেলা, মৌলভীবাজার, সিলেট |
| আয়তন | ১২৫০ হেক্টর |
| উদ্বোধন | ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দ |
| বিখ্যাত | উল্লুক |
| প্রবেশ মূল্য | ৫০ টাকা জনপ্রতি |
সময়সূচী ও টিকিট মূল্য
লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান প্রতিসপ্তাহের রবিবার বন্ধ থাকে এবং সপ্তাহের অন্যান্য দিন সকাল ৯ টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকে। উদ্যানে প্রবেশের জন্য টিকিট মূল্য জনপ্রতি ৫০ টাকা।
কি কি দেখবেন
লাউয়াছড়ায় দেখার জন্য এখানে রয়েছে বৈচিত্রের ভরপুর বানর, বিড়ল পশুপাখি। জাতীয় তথ্যকোষের হিসেব অনুযায়ী এখানে প্রায় ৪৬০ প্রজাতির দুর্লভ উদ্ভিদ ও প্রাণী রয়েছে! তারমধ্যে রয়েছে চাপালিশ, সেগুন, আগর, জারুল, আকাশমনি, লোহাকাঠ, আওয়াল সহ ১৬০ প্রজাতির উদ্ভিদ ও গাছ। এখানে অনেক পুরো গাছ রয়েছে। এছাড়া রয়েছে ২০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী, ২৪০ প্রজাতির পাখি, ৬ প্রজাতির সরীসৃপ। তাছাড়া এখানে দেখা পাবেন হরিণ, লজ্জাবতী বানর, মুখপোড়া হনুমান, বনরুই গন্ধগোকুল সহ, বাগডাশ, বনমোরগ, সজারু, অজগর সাপ, গুইসাপ, হনুমান, শেয়াল, মেছোবাঘ, চিতাবিড়াল, বনবিড়াল, কাঠবিড়ালী, বন্যকুকুর ইত্যাদি। লাউয়াছড়া বিলুপ্ত প্রায় উল্লুকের জন্য বিখ্যাত।
দর্শনার্থীদের বনের সৌন্দর্যকে কাছ থেকে উপভোগ করার জন্য ৩টি ট্রেইল রয়েছে। আধা ঘন্টা, ১ ঘন্টা ও ৩ ঘন্টার ভিন্ন এই ট্রেইল গুলোতে ট্রেকিং করে খুব কাছ থেকে এই বনের রূপ উপভোগ করতে পারবেন। ট্রেকিং এর সহায়তার জন্যে এখানে গাইড রয়েছে। এছাড়া লাউয়াছড়া উদ্যানের ভিতরেই আছে খাসিয়াপুঞ্জি, পানের বরজ, চা বাগান ও ঝিরি।
লাউয়াছড়ার বনের মাঝখান দিয়ে চলে গেছে ঢাকা-সিলেট রেললাইন। রেললাইনের দুইপাশে রয়েছে প্রচুর গাছগাছালি। এই জায়গাটিও দর্শনার্থীদের কাছে খুব প্রিয়। রেললাইনের পাশ দিয়ে কিছুক্ষণ হেঁটে বেড়াতে পারেন। আপনি জানেন কি? লাউয়াছড়া উদ্যানে ১৯৫০ সালে অস্কার বিজয়ী হলিউডের ব্লকবাস্টার সিনেমা “Around the World in 80 Days” (1956) চিত্রায়িত করা হয়েছিল।
আরও: মাধবপুর লেক
কিভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে লাউয়াছড়া উদ্যানে যেতে ট্রেন হচ্ছে সবচেয়ে ভাল মাধ্যম। ঢাকা থেকে ট্রেনে করে শ্রীমঙ্গল যেতে কমলাপুর কিংবা বিমান বন্দর রেলওয়ে স্টেশান হতে উপবন, জয়ন্তিকা, পারাবত অথবা কালনী এক্সপ্রেস ট্রেনকে করে যেতে পারেন। ভাড়া নিতে পারে ২৫০ থেকে ১০০০ টাকা। ট্রেনে যেতে সময় লাগে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা।
এছাড়া বাসে করে ঢাকা থেকে শ্রীমঙ্গল যেতে ফকিরাপুল অথবা সায়দাবাদ থেকে ৬০০ থেকে ১০০০ টাকা ভাড়ায় হানিফ এন্টারপ্রাইজ, শ্যামলী পরিবহন, সিলেট এক্সপ্রেস, এনা ইত্যাদি এসি/নন এসি বাস পাওয়া যায়। বাসে যেতে সময় লাগে ৪ ঘন্টার মত। চট্টগ্রাম থেকেও যেতে পারেন, চট্টগ্রাম থেকে ট্রেনে শ্রীমঙ্গল যেতে, পাহাড়িকা এবং উদয়ন এক্সপ্রেস নামের দুটি ট্রেন সপ্তাহে ৬ দিন চলাচল করে। ট্রেন ভাড়া ক্লাস অনুযায়ী ৩০০ থেকে ৮০০ টাকা। শ্রীমঙ্গল পৌঁছে সেখান থেকে গাড়ি অথবা CNG নিয়ে যেতে পারবেন লাউয়াছড়া উদ্যানে। রিজার্ভ নিলে ভাড়া নিতে পারে সিএনজি ৪০০-৭০০ টাকা।
কোথায় খাবেন
খাবারের জন্য উদ্যানের ভিতরে কিংবা আশে পাশে তেমন কোন দোকান বা রেস্টুরেন্ট নেই। তবে, শুকনো খাবারের ছোট ছোট দোকান রয়েছে। সবচেয়ে ভালো হচ্ছে শ্রীমঙ্গল শহরে গিয়ে খেতে পারেন। সেখানে নানা ধরণের রেস্তোরা ও রেস্টুরেন্ট রয়েছে। আছে সবার প্রিয় জনপ্রিয় পানশী রেস্টুরেন্ট।
কোথায় থাকবে
শ্রীমঙ্গলে থাকার জন্যে বেশ কিছু সুন্দর মনোরম রিসোর্ট রয়েছে। আপনার চাহিদা মত যে কোন জায়গায় থাকতে পারবেন। লাউয়াছড়ার খুব কাছে গ্রান্ড সুলতান গলফ রিসোর্ট নামে পাঁচ তারকা মানের রিসোর্ট রয়েছে। জনপ্রিয় আরও কিছু রিসোর্ট ও হোটেল হচ্ছে, টি রিসোর্ট ও মিউজিয়াম, নভেম ইকো রিসোর্ট, নিসর্গ ইকো কটেজ, নিসর্গ লিচিবাড়ি কটেজ, লেমন গার্ডেন রিসোর্ট, বালিশিরা রিসোর্ট, টিলাগাঁও ইকো ভিলেজ ইত্যাদি। এছাড়া আরও কম খরচে শ্রীমঙ্গল থাকতে চাইলে শহরে নানা মানের হোটেল রয়েছে।
আরও: টাঙ্গুয়ার হাওর
টিপস ও সতর্কতা
- বনের ভিতরে প্রচুর বানর রয়েছে। তাই বানর থেকে সাবধান।
- খুব বেশি হৈ চৈ করবেন না এতে বন্য প্রানীদের স্বাভাবিক চলাফেরা ব্যহত হয়।
- শীতকাল ছাড়া অন্য সময়ে ভ্রমণের ক্ষেত্রে জোঁক ও সাপের থেকে সতর্ক থাকুন।
- অপরিচিত কারো সাথে একা একা বনের গভীরে যাবেন না এতে আপনি ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারেন।
- বনের গহীনে একা একা যাবে না।
- গাইডের নির্দেশনা মেনে চলুন।
- রেললাইন ধরে হাটার সময় ট্রেনের ব্যাপারে সতর্ক থাকুন।
ফেসবুক: GoArif
