GoArif
ভ্রমণে নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ১০টি টিপস। দেখুন এখানে
তেতুল গাছ অমঙ্গলের রাত Radio Next ভূতের গল্প - GoArif

তেতুল গাছ অমঙ্গলের রাত Radio Next ভূতের গল্প – কাজী কান্দি

তেতুল গাছ অমঙ্গলের রাত Radio Next 93.2 FM ভূতের গল্প – কাজী কান্দি গ্রাম (Kazi Kandi)। প্রথমেই বলে নেই। যাদের হার্ট দুর্বল তারা এই লেখাটি পড়া থেকে বিরত থাকুন। আর যারা আমার মত ভূতের গল্প শুনে অভ্যস্থ বা শুনতে, পড়তে ভালো লাগে, তারা ভালো করে এক জায়গায় স্থির হয়ে বসে মন দিয়ে লেখাটা পড়ুন। আশাকরি আপনাদের ভালো লাগবে।

ভূতের গল্প শুনতে আমার খুব ভালো লাগে। সেই ছোট বেলা থেকে ই আমি ভূতের গল্প শোনার প্রতি আসক্ত। পাড়ার যত নানা-নানী, দাদা-দাদী ছিলেন, সবার কাছ থেকে ই আমি অনেক ভূতের গল্প শুনেছি। কালো ভূত সাদা ভূত… ইয়া লম্বা লম্বা পা, হাতের নখ, চুল বড়। চোখ আগুণের গোলার মত। দাঁত গুলো কালো। মাংস খেতে খেতে নোংরা করে ফেলেছে। আমি বলি নিয়মিত দাঁত ব্রাশ করেনা মনে হয়!

আমাকে বলে, চুপ কর। পাকা পাকা কথা না বলে পুরটা মন দিয়ে শোন।

তেতুল গাছ - GoArif
তেতুল গাছ

আমার নানা বাড়ী আমাদের একই গ্রামে। গ্রামের মানুষ জন কেনা কাটা করত আমাদের গ্রাম থেকে অনেকটা দূরে নাউরী বাজারে। নাউরী বাজার প্রতিদিন বসত না। সপ্তাহে ২ দিন বিকেল বেলা হাট বসত। তো আমার নানা একদিন নাউরী বাজারে গিয়েছে বিকেল বেলা। প্রয়োজনীয় জিনিস প্রত্র কেনাকাটার পর বাড়ী ফিরছিলেন। যেহেতু গ্রাম থেকে বাজার অনেকটা দূরে তাই নানার বাড়ী ফিরতে ফিরতে রাত হয়ে যাচ্ছিল। বাজার থেকে আমাদের গ্রামে আসার জন্য তেমন কোন রাস্তা ছিল না। গ্রামে ঢুকার সময় বিশাল এক চক পাড়ী দিয়ে আসতে হত। মানুষজন ক্ষেতের ডেঙ্গা (ফসলী জমির আইল) দিয়ে যাতায়াত করত। যথারীতি নানা ও সেই ক্ষেতের ডেঙ্গা দিয়ে আসছিলেন।

আরও পড়ুনঃ আরিফ হোসেন (Arif Hossain) এর বাংলা ব্লগ গো আরিফ ডট কম

চারদিক অন্ধকার। সবে মাত্র পূর্ব আঁকাসে চাঁদ উঁকি দিচ্ছে। অন্ধকারে ভালো করে তাকালে কিছুটা পথ দেখা যায়। নানার সাথে কোন লাইট ছিল না। আমাদের গ্রামে অনেক উচু একটা দেবদারু স্থানীয় ভাষায় দেদারি গাছ ছিল। যেটা অনেক দূর থেকে দেখা যেত। আমাদের গ্রাম এর লোকজন সেটা কে ফলো করেই গ্রামে আসত। ঐসময় ফোন তো দূরের কথা লাইট ই ছিল না সবার কাছে।

নানা অন্ধকারে দূরের সেই আবছা দেখতে পাওয়া দেদারি গাছ কে ফলো করে এগুচ্ছেন। চারদিক নিস্তব্দ। মানুষের কোন  শব্দ নেই। চারপাশে শুধু ধান খেত। তার মাঝখান দিয়ে নানা আস্তে আস্তে হেটে চলছেন। ২ হাতে ২টি বাজারের ব্যাগ। দুটোই মালামালে ঠাসা। নানা হেটে চলছেন। কিছু দূর হাটার পর একটা বাক নিয়ে নানা আবার সোজা হাটতে লাগলেন। মাঝে মাঝে নানার পায়ে ধান গাছের বারি লাগছিল। হঠাৎ হঠাৎ  দুই একটা ব্যাঙ ক্ষেতের ডেঙ্গা থেকে এদিক ওদিক লাফিয়ে সরে যাচ্ছিল।

নানা মোড় নিয়ে এসেছেন ৫ মিনিট এর মত হয়ে গিয়েছে। হঠাৎ নানা খেয়াল করলেন, যে মোড় নিয়ে তিনি ইতিমধ্যে অনেটা সময় পারকরে হেটে চলে আসছেন। সেই মোড়টা তার পিছনেই! তাহলে এতক্ষণ তিনি কোথায় হাটছিলেন। প্রায় ৫ মিনিট হাটার পর এখনো সে একই জায়গায়। নানা নানা একটু ভরকে গেলেন। ব্যাপার টা হচ্ছে কি। নাকি আমার ই ভুল মনে হচ্ছে।

নানা আবার হাটা শুরু করলেন। এবার একটু দ্রুত হাটলেন। ডান পেশের একটা ক্ষেতে লাল টুপি পড়া দাঁড়কাক রয়েছে। সেটা কে ক্রস করে করে নানা হেটে চললেন। আর মনে মনে ভাবলেন, লাল টুপি পড়া দাঁড়কাক তো এর আগে কখনো দেখিনি। যাইহোক নানা হাটতে লাগলেন। আবারো প্রায় ৭ থেকে ৮ মিনিট হাটার পর নানা খেয়াল করলেন তিনি সেই আগের জায়গায় ই রয়েছেন। এবং তার ডানপাশের ক্ষেতে সেই দাঁড়কাক টা দাঁড়িয়ে রয়েছে। তবে এখন দাঁড়কাক টা আগের চেয়ে আরো কাছে চলে আসছে। এখন সেটা কে চাঁদের আলো তে অনেকটা ই পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে। লাল টুপি পড়া। হাত দুটো দু দিকে প্রসারিত। চোখ, নাক, মুখ সবই রয়েছে তার। তবে দেখে মনে হচ্ছে সেটা হাসছে।

এবার নানা একটু ভয় পেয়ে গেলেন। হাটা বন্ধ করে থমকে দাঁড়ালেন। নানা খেয়াল করলেন তিনি অনেকটা হাপিয়ে উঠেছেন।  নিজের শরির টা কে আগের চেয়ে বেশি ভার মনে হচ্ছে। ঘামে সমস্ত সরির ভিজে গেছে। নানা দোয়া দুরুদ পড়তে শুরু করেলেন। বাজারের ব্যাগ দুটোকে আরো শক্ত করে ধরলেন। এবার হাটতে শুরু করবেন তো সামনে খেয়াল করে দেখে তো মুর্চ্ছা যাওয়ার মত অবস্থা। একি সামনে দেখি গ্রামের সেই দেবদারু গছটি কে আর দেখা যাচ্ছে না। এতো ক্ষন সেটিকে দেখা যাচ্ছিল। নানা অনেকটা ভিতসন্তস্ত হয়ে পরলেন। আবার নিজেকে কন্ট্রোল করে দোয়া দুরুদ পড়তে পড়তে ভালো করে চারদিক তাকালেন।

আরও পড়ুনঃ মমো কি? জেনে নিন এর থেকে নিরাপদ থাকার উপায় গুলো

এবার নানা খেয়াল করলেন, তিনি যে ধান ক্ষেত এর মাঝখান দিয়ে হেটে আসছিলেন। এখন  তিনি সেখানে নেই। পাশে বয়ে চলা একটা বিল এর পাশে দাড়িয়ে আছেন। এখন তিনি সেই দেবদারু গাছটিকে ও দেখাতে পাচ্ছেন। তবে সেটা এখন আর তার সামনে নয়, তার হাতের ডান দিকে রয়েছে। শরির টা ও আগের চেয়ে একটু হাল্কা মনে হচ্ছে। নানা ডানে ঘুরলেন। দোয়া দুরুদ পড়তে পড়তে বাড়ির দিকে লক্ষ্য করে হাটতে থাকলেন…

আমাদের গ্রাম টা অজো পাড়া গায়ে। একসময় গ্রামের চারপাশ জঙ্গলে ভরা ছিল। মানুষ জন বাড়ার সাথে সাথে এক সময় জঙ্গল দুয়ে মুছে সাফ হয়ে গিয়েছে। এখন আর জঙ্গলের অস্থিত খুজে পাওয়া যায় না।

আগে প্রাইয়শই এরকম নানা ধরনের ঘটানা হতো।

আমাদের গামের দক্ষিন দিকে একটি তেঁতুল গাছ আছে। এখনো সেটি আছে। এই তেতুল গাছ কে কেন্দ্র করে কতো যে ঘটনা ঘটেছে তা হিসেব করে বের করা অসম্ভব। অসম্ভব এই কারনে যে, এই গাছ এর জন্মের ইতিহাস কারো জানা নেই। আমি এখন যেমন দেখছি গাছটিকে। আমার বাবা ও ঠিক তার ছোট বেলায় ও এমনি দেখছেন। আমার দাদার বেলা তে ও তাই। কেউ ই জানেন না এটার সঠিক বয়স কতো!

আমার প্রায়ই কৌ্তুহল হত এই গাছটিকে নিয়ে। আমি এই তেতুল গাছটি কে নিয়ে ইতিমধ্যে Radio Next 93.2 FM অমঙ্গলের রাত নামে একটা শো তে বলে এসেছি। অনুষ্ঠান টা প্রায় ৩ ঘন্টার মত হয়েছিল। ৩ ঘন্টা অনুষ্ঠানের প্রায় সময়টা জুরে ই ছিল এই তেতুল গাছ এর কাহিনী। অনুষ্ঠান টি পরিচালনা করেন RJ Nitul ।

Radio Next 93.2 FM অমঙ্গলের রাত এর তেতুল গাছ কে নিয়ে বলা শো টি শুনতে পারেন এখান থেকেঃ

এছাড়াও আমি বেশ কয়েকটি সাইটে ও এই নিয়ে কথা বলেছি, লেখা লেখি করেছি। তার কিছুটা আপনাদের সাথে ও শেয়ার করছি। তবে আমি এই লেখাটা লিখার সময় ভাবছি আমাদের যে YouTube Channel আছে সেখানে কয়েকটি এপিসোড করব ভূতের গল্প নিয়ে। তবে সেগুলো অবশ্যই বাস্তব গল্প হবে। তাই, আপনারা এখনি আমাদের YouTube Channel টি Subscribe করে নিন। আর লেখাটা পড়া শেষে কমেন্ট বক্স এ একটি নাম সাজেস্ট করে যাবেন ভূতের গল্প শো এর।  ধন্যবাদ।

চলুন এবার ভূতের গল্পে ফিরে আসা যাক।

আরও পড়ুনঃ কলম ধরুন, আপনিও লিখতে পারবেন

সকাল বেলা গাছটির পাশ দিয়ে হেটে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ দেখি বিশাল এক মহিলা গাছটির উপর বসে আছে। তার চুল গুলো ছরানো ছিটানো। হাতে পায়ের নখ গুলো ইয়া বড় বড়। চোখ গুলো লাল। চোখ বড় করে কট্মট করে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। আমি ভয়ে দৌড়ে পালিয়ে এসেছি… ভিতসন্তস্ত কান্না জড়িত কন্ঠে কথা গুলো বলছিলেন সাজেদা বিবি। আর তার চারপাশে মানুষের ভির। ইতিমধ্যে তার মাথায় তেল পানি দেয়া হয়েছে। পাশ থেকে একজন হাতপাখা দিয়ে বাতাস করছে। তার কথা শুনে বুজাজাচ্ছে ভয়ের রেশ এখনো কাটেনি নি তার।

সাজেদা বিবি যে গাছটি নিয়ে কথা বলছেন সেটি একটি তেতুল গাছ। তেতুল গাছ নিয়ে সামনে বলব। তবে চলুন এই তেতুল গাছ এর পিছনের ইতিহাস টা জেনে আসি।

তেতুল গাছ এর ইতিহাস জানার জন্য আমি এবং আমার টীম গিয়েছিলাম আমাদের গ্রামের বয়োজ্যেষ্ঠ থেকে শুরু করে এই গাছ কে ঘিরে এর আসে পাশের মানুষ জন এর কাছে। কিন্তু আশ্চর্জের বিষয় এই যে কেউ ই এর সঠিক বয়স বলতে পারে নি। শুরুর ইতিহাস ও বলতে পারে নি। কে লাগিয়েছে এই গাছ টি। নাকি একটি নিজে নিজে ই হয়েছে। কবে হয়েছে। ইত্যাদি ইত্যাদি…

গ্রামের যিনি সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ জোহরালি মিয়াজি ( যিনি কিছুদিন আগে মারা গিয়েছেন) আমরা তারকাছে গিয়েছিলাম। জোহরালি মিয়াজির বয়োস আনুমানিক ১১০ বছর এর মত। এই তেতুল গাছ এর একটা অংশের মালিক ও তিনি। তিনি আমাদের বলেন, তেতুল গাছটি যে খানে রয়েছে সে জায়গাটি তাদের মায়জী বাড়ির। তিনি যখন ছোট ছিলেন তখন ও তিনি গাছ টিকে এই রকম ই দেখেছেন। তখন অবশ্য,বর্ষা হলে এই গাছ এর চারপাশে পানি জমে যেত। গাছ এর চারপাশ ছিল জঙ্গল। গাছ এর নিচেই এইটা উচু জায়গা ছিল। যেখানে মানুষ মারা গেলে কবর দেয়া হত। এখন অবশ্য কবর দেয়ার জায়গাটা বড় হয়েছে। কবরস্থান এর চারপাশ উচু করে পাকা দেয়াল তুলে দেয়া হয়েছে।

জোহরালী মিয়াজি আরো বলেন, ওই সময় ই এই গাছ টাকে কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। কিন্তু কাটতে পারে নি। যাদের কে গাছ কাটতে বলা হয়েছিল, তারা যখন গাছ এ করাত লাগিয়ে কাটা শুরু করেছিল তখন ই তাদের করাত ভেঙ্গে যায়। পরে এদের ভিতর কয়েকজন এর জ্বর চলে আসে। অনেক বড় বড় এবং সাহসী করাতি আনা হয়েছিল গাছটি কাটার জন্য। কিন্তু কেউ পারে নি।

তেতুল গাছ - GoArif
তেতুল গাছ

শেষে ভারত থেকে লোক আনা হয়েছিল গাছটি কাটার জন্য। কিন্তু তারাও ব্যার্থ হয়ে ফিরে যায়।

এই ব্যাপারে গ্রামের কয়েকজন বয়স্ক মহিলা বলেন, তারা আগে পানি আনার জন্য তেতুল গাছ এর পাশেই যে পুকুরটি ছিল সেখানে যেতেন।  তারাও মাঝে মাঝে অদ্ভুত জিনিস দেখতেন। আমরা জানতে চাইলাম সে সব কি ছিল। কিন্তু তিনি আমাদের বলেন নি।

এই ব্যাপারে আমাদের আরেকজন মহিলা বলেন, একদিন তিনি রাত মেয়ের বাড়ীতে গেছেন তো আসতে আসতে রাত হয়ে গিয়েছিল। তো তার মেয়ে তাকে এগিয়ে দিতে এসেছিলেন। সন্ধ্যা রাত। তার বাড়ীতে যেতে হলে একটি মাত্র ই রাস্তা ছিল। আর সেটি গেছে তেতুল গাছ এর পাশ দিয়ে ই। আসতে আসতে যখন তারা তেতুল গাছ এর কাছা কাছি আসলেন। তখন হঠাৎ তিনি দেখলেন তেতুল গাছ এ আলিয়া দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় ভাষায় আগুণের গোলা কে আলিয়া বলা হয়ে থাকে। তো তিনি দেখছে যে, আলিয়া টি তেতুল গাছ এর উপরে ছুটা ছুটি করছে।

আরও পড়ুনঃ চোখের কর্নিয়া দান করুন, অন্যের চোখে নিজে বাঁচুন

এই তেতুল গাছে কিন্তু তেতুল ধরে প্রচুর পরিমানে। খেতে ও বেশ মিষ্টি । তো অনেকেই তেতুল খাওয়ার জন্য এই গাছে উঠত। কিন্তু এতে কারো তেমন কোন সমস্যা হতো না। তেতুল গাছ এর ডাল পালা ভাঙ্গলে ও সমস্যা হত না। যত সমস্যা গাছটি কাটতে গেলেই। তো একবার হল কি, একটা মেয়ে উঠেছে তেতুল গাছ এ তেতুল পারতে। এটা কেউ জানতনা। এদিকে অনেক সময় ধরে তাকে দেখতে না পাওয়ায় বাড়ীর সবাই তাকে খুজা খুজি  শুরু করে। হঠাৎ কেউ একজন তেতুল গাছ এর উপর থেকে জোরে হাসির শব্দ পেল। সবাই গিয়ে দেখলো যে, সেই মেয়েটি ই। কিন্তু সমস্যা হল। সবাই তেতুল পারা শেষে গাছ থেকে নেমে আসে। কিন্তু সে নেমে আসতে চাচ্ছিল না। কেউ তাকে নামতে গেলে তেতুল ছুড়ে মারছিল। মেরে ফেলার ভয় দেখাচ্ছিল।

এরকম করে অনেক্ষন চলার পর সে যখন কিছুতেই নামতে চাচ্ছিল না। আবার এদিকে সন্ধ্যা ও নেমে আসছিল। তাই একজন কে গাছে তুলা হল মাছ ধরার চাই নিয়ে। সে রশি আর চাই নিয়ে যখন উপরে উঠে তাকে ধরে। তখন ই মেয়েটা জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। পরে তাকে মাছের চাই এ বসিয়ে রশি দিয়ে নিচে নামানো হয়।

আমাদের গ্রামের নুরমিয়া ভাই ( আমি নানা বলে ডাকি) খুব সাহসী ছিলেন। রাতবিরাতে পুকুরে মাছ ধরে বেড়ানো টা তার কাছে কোন ব্যাপার ই ছিল না। একদিন হয়েছে কি। তেতুল গাছের পাশে ই একটা বড় দিঘী ছিল। তখন অনেক রাত। তিনি মাছ ধরার জাল দিয়ে দিঘী তে গেলেন মাছ ধরতে। যেই তিনি দিঘীতে জাল ফেললেন। ওমা একি!! জাল দেখি উপরে হাওয়ার উপর আটিয়ে রয়েছে। পানি তে পড়ছে না। তিনি জালটাকে টেনে নিয়ে আসতে চাইলেন। কিন্তু জাল তো আর আসে না। এই ঘটনার পর তিনি ও কিছুটা ভয় পেয়ে গেলেন। জাল ফেলে চলে আসলেন বাসায়। পরে কয়েকজন গিয়ে দেখেন জাল টা পারে গুছিয়ে রেখে দেয়া হয়েছে।

ছাদ্দাম আমার ফ্রেন্ড। ওর বাসা ও তেতুল গাছ এর কাছে ই। একবার ওর দাদী রাতের বেলা রান্না ঘরে পিঠা বানাচ্ছিলেন। তো তিনি পিঠা হয়ে যাওয়ার পর পাতিলে রাখছিলেন। বেশ কয়েকবার পাতিলে পিঠা রাখার পর ওনার সন্দেহ হলো। পাতিলের পিঠা কম মনে হচ্ছিল। এরপর তিনি পিঠা রাখার পর ঢাকনা দিয়ে ঢেকে রাখছিলেন। তার কিছুক্ষন পর পাতিলের দিকে তাকিয়ে দেখেন পাতিলে একটি পিঠাও নেই!

মহসিন এর সাথে ও ঘটেছে নানা ঘটনা। রাসেল এর বাসা তেতুল গাছ এর সাথে ই। এক রাতে কয়েকজন মিলে আলু দিদ্ধ করছিল খাওয়ার জন্য। মহসিন বলল, আমি প্রস্রাব করতে যাচ্ছি। মহসিন গেল। বাকিরা সবাই রান্না ঘরে বসে আছে। বেশ কিছুক্ষন হয়ে গেলো মহসিন আসছে না। কয়েকজন এর সন্ধেহ হল। রান্না ঘর এর কাছে ই একটা ছোট পুকুর রয়েছে। কয়েকজন মহসিন ডাকল। কোন সাড়া শব্দ নেই। এর পর লাইট নিয়ে যখন কয়েকজন এগিয়ে গিয়ে যা দেখলো। তা সত্যি ভয়ানক। এই শীতের রাতে মহসিন পুকুরে কোমর সমান পানি তে নেমে ডুবাচ্ছে। বেশ কয়েকবার ডাকার পরও ও সাড়া দিচ্ছিল না এবং উপরে ও ওঠে আসছিল না। সবাই ভয় পেয়ে গিয়েছিল। আর এদিক দিয়ে মহসিন একনাগারে ডুব দিয়ে ই যাচ্ছে। তারপর একজন সাহস করে পানিতে নেমে ওকে টেনে তুলে।

আরও পড়ুনঃ BoiBikroy.com (বই বিক্রয় ডট কম) নিয়ে কিছু কথা!

এরকম হাজারো ঘটনা আছে এই তেতুল গাছ কে ঘিরে। আজো কালের সাক্ষী হয়ে ঠায় দাঁড়িয়ে আছে তেতুল গাছটি। তার বয়স একটুও কমেনি। ছোট বেলায় যেমনটি দেখেছিলাম এখনো তেমন টি রয়েছে।

মাঝখানে কিছু সাধুবাবা, ফকির রা এসে এখানে আসোর জমিয়ে ছিল। রাতের বেলা তারা আগর বাতি মোমবাতি জালিয়ে জিকির করত। এখন সেটা নেই।

এখন আর কেউ গাছটিকে কাটার চেষ্টা করে না চিন্তাও করে না। সময় পেলে একবার সামনে থেকে দেখে আসতে ভুলবেন না।

লোকেশনঃ চাঁদপুর → মতলব (উত্তর) → মান্দারতলী → কাজী কান্দি গ্রাম।


আমার ফেসবুকঃ GoArif | আমার টুইটারঃ GoArif

আরিফ হোসেন

আমি একজন ভ্রমণ পীপাষু মানুষ। ভ্রমণ করতে আমার খুবই ভালো লাগে। তাইতো সময় পেলে ভ্রমণে ছুটে যাই। কোন ভ্রমণই আমার শেষ হয়ে শেষ হয় না। বারংবার আমার সেই স্থানে ছুটে যেতে ইচ্ছে করে। কারন, আমি যে প্রকৃতি ভালবাসি।

মন্তব্য

আমাদের মন্তব্য নীতি অনুযায়ী পরিচালনা করা হয় এবং আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। দয়া করে নাম দেয়ার ক্ষেত্রে কীওয়ার্ড ব্যবহার করবেন না। আসুন একটি ব্যক্তিগত এবং অর্থপূর্ণ কথোপকথন হয়ে যাক 😊 ।





মোবাইল ভার্সন দেখুন এখানে

সোশ্যাল মিডিয়ায় আমি!

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমাকে অনুসরণ এবং আমার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। নিচের সোশ্যাল মিডিয়া গুলোতে আমি খুবই এক্টিভ থাকি।

জরিপ চলছে

ভ্রমণে দীর্ঘ যাত্রায় আপনি কোনটিতে বেশী সাচ্ছন্দ বোধ করেন?


রেজাল্ট দেখুন

Loading ... Loading ...

আরিফ হোসেন

আমি একজন ভ্রমণ পীপাষু মানুষ। ভ্রমণ করতে আমার খুবই ভালো লাগে। তাইতো সময় পেলে ভ্রমণে ছুটে যাই। কোন ভ্রমণই আমার শেষ হয়ে শেষ হয় না। বারংবার আমার সেই স্থানে ছুটে যেতে ইচ্ছে করে। কারন, আমি যে প্রকৃতি ভালবাসি।

আর্কাইভ